সারাদেশে শুক্রবার বিক্ষোভের ডাক ইনকিলাব মঞ্চের
ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট প্রত্যাখ্যান
মধুর ক্যান্টিনে ইনকিলাব মঞ্চের সংবাদ সম্মেলন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:৪৭
শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। বাদ জুমা সারা দেশের জেলা, উপজেলা, বিভাগীয় শহর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করবে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের ফাতিমা তাসনীম জুমা উপস্থিত ছিলেন।
মামলায় পুলিশের দাখিল করা চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, ‘তদন্তে মূল পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করা হয়েছে। রাষ্ট্র ও পুলিশ প্রশাসন এ হত্যাকাণ্ডের বিচারে চরম অসহযোগিতা করছে।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাগর-রুনির মামলার মতো এই মামলাকে বছরের পর বছর ঝুলে থাকতে দেওয়া হবে না। যদি দ্রুত সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা না হয়, তবে পরবর্তীতে সড়ক অবরোধ, মন্ত্রণালয় ঘেরাও এমনকি সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।” তিনি দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণকে এই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে রাজপথে নামার আহ্বান জানান।
আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে ‘নারাজি’ আবেদন দাখিল করা হয়েছিল, যা আদালত মঞ্জুর করেছেন এবং মামলাটি পুনঃতদন্তের আদেশ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ডিবির পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল যে, ওসমান হাদিকে হত্যার জন্য ২১ জনের ৫টি টিম মাঠে ছিল। কিন্তু চার্জশিটে সেই ২১ জন বা ৫টি টিমের কোনো উল্লেখ নেই। মূল পরিকল্পনাকারীদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কয়েকজন শ্যুটারকে আসামি করা হয়েছে, যা হাস্যকর।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চার্জশিটে বলা হয়েছে ওসমান হাদি আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা চার্জশিটে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যদি রাষ্ট্রের কোনো বড় কর্মকর্তা, এমনকি সরকারের উপদেষ্টারাও জড়িত থাকেন, তবে তাদেরও বিচার হতে হবে।’
তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি মনে করে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সম্ভব নয়, তবে এফবিআই বা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা নেওয়া হোক। কিন্তু বিচার নিয়ে কোনো টালবাহানা সহ্য করা হবে না।
