ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জামায়াতের নারীকর্মীদের ওপর ভোটের প্রচারে হামলার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে

প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি নারী সমাবেশ

জামায়াতের নারীকর্মীদের ওপর ভোটের প্রচারে হামলার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে
×

ছবি : সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০০:১৭

ভোটের প্রচারে নারী নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি হামলা করছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। প্রতিবাদে দলটি আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, সব জায়গায় হামলার ধরণ একইরকম। এতে মনে হচ্ছে, একটি দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় হামলা হচ্ছে। এভাবে চললে, নারী প্রগতি থমকে যাবে, নারীরা রাজনীতিতে আসবেন না।

কারা হামলা করছে–প্রশ্নে আবদুল্লাহ তাহের বলেছেন, ‘অবশ্যই বিএনপি। মাঠে তো আর কেউ নেই।’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. তাহের বলেছেন, কিছু নেতা ও নেত্রী প্রকাশ্যে নারীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ ঘৃণামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। ‘অমুক সংগঠনের মেয়েরা বাসায় গেলে ধরিয়ে দিন’–এ জাতীয় বক্তব্য দিয়ে সহিংসতা উস্কে দিচ্ছেন। নারীর প্রতি সহিংসতা দলীয় ইস্যু নয়; বরং মানবাধিকার সংকট, সংবিধানের লঙ্ঘন এবং নারী উন্নয়ন নীতির সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতকতা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে নারীর ওপর হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দায়ীদের গ্রেপ্তার, ভোটের প্রচারে নারীদের বিশেষ নিরাপত্তা, ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, নারীর পক্ষে দাঁড়ানোসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াত। 

ভিডিও চিত্রে দেখানোর পর ডা. তাহের সংবাদমাধ্যমের খবরে আসা হামলার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২৫ জানুয়ারি যশোর-২ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রচারে নারীকর্মীদের ওপর উপজেলা যুবদলের সভাপতি আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে হামলায় মারধর করে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। লালমনিরহাটে নারীকর্মীদের হিজাব খুলে নেয় বিএনপির কর্মীরা। ঘটনার ভিডিও ধারণ করলে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। প্রশাসনের সামনে এ ঘটনা ঘটলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল।

জামায়াতের নায়েবে আমির অভিযোগ করেন, ভোলার চরফ্যাসনে হাজেরা বেগম নামে এক নারীকে মারধর করেন স্থানীয় যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন। তাঁকে রক্ষায় এগিয়ে এলে হাজেরা বেগমের ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকেও মারধর করে কান থেকে স্বর্ণালংকার কান ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। 

এছাড়াও ভোলার লালমোহন, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইলের গোপালপুরেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে আবদুল্লাহ তাহের বলেছেন, বিএনপি নেতা সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া ছাত্রীসংস্থার কেউ ভোট চাইতে বাড়িতে এলে ৯৯৯-এ কল দিয়ে ধরিয়ে দিতে বলেছেন। এই ঘৃণাসূচক বক্তব্য নারীর ওপর সহিংসতা সৃষ্টি করছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে নারীকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচনী প্রচারপত্র বিলির সময় তাদের ওড়না টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়। 

বিএনপির অভিযোগ, জামায়াতের নারীরা ভোটের প্রচারে ধর্মের ব্যবহার করছেন। ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নম্বর নিচ্ছেন। এ অভিযোগ নাকচ করে আবদুল্লাহ তাহের বলেছেন, জামায়াত ধর্মের কথা বলে, ধর্ম ব্যবহার করে না। যারা জাতীয়তাবাদী তারা জাতীয়তাবাদের কথা বলবে। দেখা যাচ্ছে, তারাই এখন ধর্মের ব্যবহার করছে। নিজেদের আল্লাহ রাসূলের দল বলে দাবি করছে।

নির্বাচন কমিশনকে বিস্তারিত জানানো হলেও, ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অভিযোগ করে ডা. তাহের বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী কমিশনের কাছে নিরপেক্ষতার আশা ছিল। 

নারীর ওপর কী কারণে হামলা হচ্ছে বলে মনে করেন–প্রশ্নে আবদুল্লাহ তাহের বলেছেন, জামায়াতের নেতৃত্বের ৪৩ শতাংশ মহিলা। তারা এবারের নির্বাচনে খুবই সক্রিয়। জামায়াতের মূল্যায়ন, নারী ভোটারদের বেশিসংখ্যক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন। কারণ তারা শান্তিপ্রিয়, বিশৃঙ্খলা, উগ্রতাকে পছন্দ করেন না। প্রতিপক্ষ তা বুঝে নারীদের আক্রমণ করছে। 

ডা. তাহের বলেন, যারা নারীর অধিকার ও স্বাধীনতার বেশি কথা বলেন, তারা জামায়াতের নারীদের ওপর হামলা নিয়ে কথা বলছে না। সরকারও চুপ। অথচ তাদের প্রধান প্রতিশ্রুতি নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। 

রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে জামায়াত নায়েবে আমির বলেছেন, সুষ্ঠু না হলে দেশে এবং বিদেশে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। তাহলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কেউ যদি মনে করে, জোর করে ক্ষমতায় যাবে, তাহলে ভয়াবহ ভুল চিন্তা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

আরও পড়ুন

×