ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বিয়ে গোপন করায় গাজী নজরুলকে বহিষ্কার: জামায়াতে ইসলামী

বিয়ে গোপন করায় গাজী নজরুলকে বহিষ্কার: জামায়াতে ইসলামী
×

গাজী মো. নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ২২:০৩ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ | ২২:০৭

দ্বিতীয় বিয়ে গোপন করায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী মো. নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তার ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে আসার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নেতাদের নিয়ে গঠিত দলীয় তদন্ত কমিটি কথা বলে গাজী নজরুলের সঙ্গে। বিয়ের তথ্য গোপনের যে ব্যাখ্যা তিনি দেন, তা জামায়াতের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ার কারণেই নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয় তাকে।

কমিটি সূত্র এবং জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইসলাম ধর্মে গোপনে বিয়ে করা সমর্থনযোগ্য নয়। বিয়ে করে তা প্রকাশ করে ঘোষণা দেওয়া সুন্নত।

গত সোমবার রাতে গাজী নজরুলের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে থাকা ১৮ বছরের তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন গাজী নজরুল। ওই তরুণী জানান, ১৭ জুন গাজী নজরুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। তরুণীর বাবা এবং গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী একই কথা জানান।

যদিও বিয়ের কাজী বদরুল আলম মো. বাকী বিল্লাহ জানিয়েছেন, ১৭ জুন নয় বিয়ের নিবন্ধন হয়েছে ১৯ জুলাই। এতে বিতর্ক সমালোচনা আরও বাড়ে। যদিও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ে আগে করে, পরবর্তীতে তা নিবন্ধনে বাধা নেই। তবে ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন না করলে দুই বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ভিডিও প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার পর জামায়াত তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি গাজী নজরুলের কাছে জানতে চায়, তিনি আদৌ বিয়ে করেন কিনা। বিয়ে করলে গোপন রেখেছিলেন কেন। বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া বাসায় বা নিজ বাসভবনে না গিয়ে গ্রহণযোগ্য নয়, এমন জায়গায় কেন গিয়েছিলেন।

কমিটিকে গাজী নজরুল তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা এবং সাক্ষীর মাধ্যমে বিয়ে হওয়ার প্রমাণ দেন। কেন ১৭ জুন বিয়ে করে এক মাসের বেশি সময় পর নিবন্ধন করেছেন এই ব্যাখ্যাও দেন। কিন্তু কী কারণে দ্বিতীয় বিয়ে গোপন রেখেছিলেন এর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানিয়েছে জামায়াত।

জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ৬২(২খ) ধারা অনুযায়ী, দলের কোনো রুকনের (সদস্য) কোনো কাজে জামায়াতের নৈতিক প্রভাব ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হলে তাকে বহিষ্কার করা যাবে। ৬৩(৩) ধারা অনুযায়ী, জেলা বা মহানগর আমির সংশ্লিষ্ট শাখার মজলিসে শুরার সিদ্ধান্তসহ তা জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমিরকে জানাবেন। কেন্দ্রীয় আমির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের পরামর্শে ওই সদস্যকে বহিষ্কার করতে পারবেন।

সাতক্ষীরা থেকে বহিষ্কারের মতামত আসার পর বুধবার জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে তা কার্যকরা করা হয়।

আরও পড়ুন

×