ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাবি শিক্ষকদের চিন্তা-চেতনায় ভারতীয় প্রভাব রয়েছে:  ব্যারিস্টার ফুয়াদ

ঢাবি শিক্ষকদের চিন্তা-চেতনায় ভারতীয় প্রভাব রয়েছে:  ব্যারিস্টার ফুয়াদ
×
×

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষককে ‘আপাদমস্তক হিন্দুত্ববাদী’ বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, শিক্ষকদের চিন্তা-চেতনায় ভারতীয় প্রভাব রয়েছে এবং তাঁরা এ দেশের মাটি ও মানুষকে ধারণ করতে পারেন না। 

আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বুলিং বনাম একাডেমিক স্বাধীনতা: আরোপ ও অপরায়ণের রাজনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ।

ফুয়াদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক মুসলমান নামধারী আপাদমস্তক হিন্দুত্ববাদী বিজেপি টাইপের লোক। তাদের চিন্তা চেতনায় আভাস হলো তারা দিল্লিতে, কলকাতায় থাকে। তারা এই মাটিকে এই মানুষকে ধারণ করতে পারে না। এজন্য তারা যখন একটা মেয়ের শরীরে বোরকা দেখে, দাড়ি দেখে, জুব্বা দেখে ওইটাকে সে মেনে নিতে পারে না যেভাবে বিজেপি মেনে নিতে পারে না। এরা নামে মুসলমান, এরা নামাজ পড়ে, এরা হজ করে কিন্তু চিন্তার ফ্রেমে তারা হিন্দুত্ববাদী। 

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোতে গরুর গোশত বিক্রি হয় না। এটা কাঠামোগতভাবে হিন্দুত্ববাদী। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী গরুর গোশত খায় সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে গরুর গোশত বিক্রি হয় না। 

ফুয়াদ আরও বলেন, ‘ব্রিটিশরা যখন আন্দোলনের মুখে বাধ্য হলো বঙ্গভঙ্গ রদ করতে তখন মুসলমানদের সঙ্গে মধ্যস্থতা হয় যে, আমরা বঙ্গভঙ্গ বাতিল করে দিচ্ছি, এইটার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ঢাকাতে একটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে দেব। এই বিশ্ববিদ্যালয় মূলত বাংলা ও আসামের গরীব প্রজা মুসলমান ও নমশূদ্রদের জন্য। সেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায়ও বিরোধিতা করেছেন আমাদের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টাইপের যত লোক আছে সকল ঠাকুরীয় মহাশয়। বিশ্ববিদ্যালয়টা যেই লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি করা হয়েছিল সেটা আজকে ব্রাহ্মণীয় হিন্দুত্ববাদী কাঠামোতে চলে গেছে।’

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিসরে ক্ষমতার অসমতা, শিক্ষকদের ক্ষমতার অপব্যবহার, এলিটিজম, ইসলামবিদ্বেষ, শ্রেণিগত ও বর্ণবাদী বৈষম্য এবং শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনায় লেখক ও গবেষক ডা. ফাহমিদ উর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিসরে ক্ষমতার অসমতা ও এলিটিজমের চর্চার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মানবিক মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমানাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রও। ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা বলার পাশাপাশি যারা শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা ও অধিকার খর্ব করেন, তাঁদের এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।

সেমিনার-পরবর্তী কার্যক্রমে উম্মে ছালমার পক্ষ থেকে ডা. ফাহমিদ উর রহমান রচিত ‘ফ্রানজ ফানোঁ, হিজাব ও ঔপনিবেশিকতা’ বইয়ের ১০০টি কপি বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুন

×