ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিএনপির এমপিরা ধরা খেয়েছেন: গয়েশ্বর

বিএনপির এমপিরা ধরা খেয়েছেন: গয়েশ্বর
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০১৯ | ০৬:৩১ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০১৯ | ০৬:৩৬

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার 'আপসহীন নেত্রী'র উপাধি খারিজ করতে গিয়ে দলের সংসদ সদস্যরা ধরা খেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া শিশু কিশোর মেলার উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকারের সঙ্গে খালেদা জিয়া কোনো আপস বা কোনো সমঝোতা করবেন না, প্যারোলে মুক্তি নেবেন না, কারো অনুকম্পা নেবেন না। খালেদা জিয়াকে অনুকম্পা করার যোগ্যতা কারো নেই।

তিনি বলেন, যারা বিরোধী দলে কষ্টে আছি তারা আলোর সন্ধান খুঁজছি। হয়তো বা কিছু একটা হবে। এটা করতে গিয়ে, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যে কিছু দায়িত্ববোধ আছে- সেই দায়িত্ববোধ ভুলে গেছি। আবার অতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিছু কিছু নেতা নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এটা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। তারা (বিএনপির এমপিরা) যে নেত্রীর মুক্তির জন্য খুব বেশি আন্তরিক, সেটা জনগণকে আশ্বস্ত করতে গিয়ে খালেদা জিয়ার আপসহীন উপাধি খারিজ করতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যেই প্রমাণ হয়েছে- আদালত কতটুকু নিয়ন্ত্রিত। প্রতিদিন কত মামলার রায় হয়, খালেদা জিয়ার মামলার রায় হয় না, বিব্রত বোধ করেন। এরপরও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ-দায়িত্ববোধ থেকে গণতন্ত্রের নেত্রীর মুক্তি আন্দোলন করব। যতটুকুই করছি আরো যতটুকু যৌক্তিক করা দরকার সেটা করব। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া মুক্তি লাভ করবেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা যে অবস্থানে আছেন তারা যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। যখন দেশে সুশাসন আসবে, আইনের শাসন আসবে তখন তারাও বিচারের মুখোমুখি হবেন। একটা সময় তাদেরকেও এই পরিণতি ভোগ করার জন্য প্রস্তত থাকতে হবে।

শুদ্ধি অভিযানের নামে সরকারের 'বানর নাঁচানো'র খেলা খেলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ কাজের মাধ্যমে তারা মানুষকে আকৃষ্ট করে তাদের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ছোট-খাটো দুই-একটা টোকাই- গল্প-ইতিহাস-নাটকের মতো সৃষ্টি করে কিছু সময়ের জন্য চমক সৃষ্টি করা যায় কিন্তু প্রকৃত অর্থে দুর্নীতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা যায় না, মুক্ত করা যায় না।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, জনসমর্থনহীন সরকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে, ব্যাকিংখাতগুলোকে নিঃস্ব করে একটা দেউলিয়া দেশে পরিণত করছে। এই দেউলিয়াত্বের দৃষ্টি ভঙ্গিটাকে অন্যত্র সরানোর জন্য ছোট-খাটোর খুচরা নাটক হচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে দেখা যাবে কিছু না।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশে ৫ বছর আগে ১৯ হাজার কোটিপতি ছিলো। এখন ৭৬ হাজার কোটিপতি হয়েছে। সেটা শুধুমাত্র ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার হিসাব অনুযায়ী হয়েছে। আর কত কোটি টাকা যে বিদেশে গেছে তার যদি হিসাব হয় তাহলে কোটিপতির সংখ্যা কত? এই কোটিপতিদের যদি তালিকা প্রকাশ করার হয় তাহলে দেখা যাবে; আওয়ামী লীগ করে না এমন কোনো কোটিপতি হয় নাই। সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে।

সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদারের সভাপতিত্বে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ছড়াকার আবু সালেহ প্রমুখ সভায় বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন

×