৫ জানুয়ারি কালো পতাকা ও কালো ব্যাজ ধারণ
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির ২ দিনের কর্মসূচি
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২১ | ০৭:৪৭
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটিকে 'কলঙ্কিত অধ্যায়' আখ্যা দিয়ে আগামী ৫ জানুয়ারি সারাদেশে বিএনপি কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারনের কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং পৌর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারায় কমিশনের পদত্যাগ দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। এর মধ্যে আগামী ৭ জানুয়ারি সারাদেশে থানা পর্যায়ে মানববন্ধন এবং আগামী ১০ জানুয়ারি সারাদেশে পৌরসভা এবং মহানগরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী কমিটির এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে দলের মহাসচিব ছাড়াও অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থায়ী কমিটির সভায় বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের পরেও জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করে ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কলংকিত অধ্যায়কে ঘৃণার সঙ্গে স্মরণ করার জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি সারাদেশে বিএনপি কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারনের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির নীতিনির্ধারণী এই ফোরাম। স্থায়ী কমিটি মনে করে, 'দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক মূল্য। চালের দাম বেড়েছে, ডালের দাম বেড়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, শাক-সবজির দাম বেড়েছে। এটা এখন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার যখন ২০০৮ সালে নির্বাচন করে তখন জনগনের কাছে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলে। তারা বলেছিলো ১০ টাকা কেজি চাল দেবে, বিনা পয়সায় সার দেবে এবং ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। এখন ১০ টাকা কেজি চালের ৭ লাখ কার্ড ভুয়া। এটা সরকারের খাদ্য অধিদপ্তর বলছে। ১০ টাকা কেজি চাল কিনে তা ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে বাজারে। সেটা সরকারি দলের মদদপুষ্ট লোকরা করছেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন ভাতা ও বিভিন্ন খাদ্য সাহায্য ওএমএস, কাবিখা, টিআর এর দুর্নীতি চরমভাবে চলছে। এখানে পুরোটাই দলীয়করণ করা হয়েছে।'
পৌরসভা নির্বাচনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে সভায় বলা হয়েছে, 'পৌর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের যে ব্যর্থতা, তাদের যে উদাসীনতা, তাদের যে দুর্নীতি এবং পুরোপুরিভাবে বলা যেতে পারে একটা পক্ষপাতিত্ব নির্বাচন করার যে উদ্দেশ্য সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা বার বার বক্তব্য রেখে আসছি। এই নির্বাচন কমিশন তারা ব্যালট বলুন আর ইভিএম বলুন কোনোটাতেই সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করার যোগ্য নয়। আমরা মনে করি, এই কমিশন একেবারেই সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করতে পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হয়েছে। অবিলম্বে কাল বিলম্ব না করে প্রধান নির্বাচনসহ সকল কমিশনারের পদত্যাগ করা উচিত একটা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যে।'
