আজ কাউন্সিল
সম্ভাবনা বেশি কাদেরের
শাহেদ চৌধুরী
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৩১ | আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০০:৪৮
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে ইচ্ছুক নেতাদের কয়েকজন গত বৃহস্পতিবার
গণভবনে গেলেও গতকাল শুক্রবার কেউই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি
বাসভবনে যাননি। তবে জাতীয় সম্মেলন চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সড়ক পরিবহন
ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কথা হয়েছে। ওই সময়ে তাকে বেশ ফুরফুরে
মেজাজে দেখা গেছে।
এ নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি
গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় সমকালকে বলেছেন, বড় ধরনের বর্ণাঢ্য আয়োজনে সুসজ্জিত
বিশাল প্যান্ডেলে জাতীয় সম্মেলন হচ্ছে। কোথাও কোনো হট্টগোল হয়নি। সাধারণ
সম্পাদক পদে আবারও আসার সম্ভাবনার কথা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এ
বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। তবে তার ঘনিষ্ঠজনরা নিশ্চিত করেছেন,
ওবায়দুল কাদেরকে 'ইয়েস' বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, ওবায়দুল কাদের
বৃহস্পতিবার রাতে দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেছেন।
গতকাল
সকালেও কয়েকজন দলীয় নেতার সঙ্গে তার টেলিফোনে কথা হয়েছে। জাতীয় সম্মেলনের
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও তাকে নির্ভার ও ইতিবাচক মনে হয়েছে। তবে সাধারণ সম্পাদক
পদে আসতে আগ্রহীদের কয়েকজন ভিন্নমত জানিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এখনও
কাউকে সবুজ সংকেত দেননি।
এই অবস্থায় গতকালও নেতাকর্মীদের মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের সম্ভাবনা নিয়েই বেশি
আলোচনা হয়েছে। তারা এ নিয়ে নানামুখী হিসাব-নিকাশ, বিচার-বিশ্নেষণ করছেন।
এই আলোচনায় ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নেতার নামও এসেছে। তাদের
মধ্যে রয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ
মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং
কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান।
এদিকে মন্ত্রিসভার মতো আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটিতেও বড় ধরনের
পরিবর্তন আসার কথা শোনা যাচ্ছে। পরিবর্তনের হাওয়ায় বেশ কয়েকজন তারকা নেতা
বাদও পড়তে পারেন। পদোন্নতি পেতে পারেন কয়েকজন। একঝাঁক তরুণও আসবেন দলের
সাংগঠনিক কাঠামোতে।
আজ শনিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মাঠে আওয়ামী লীগের
কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন নেতাদের নাম ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে। ৮১ সদস্যের
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সবার নাম ঘোষণা করা না হলেও সাধারণ
সম্পাদকসহ বেশিরভাগ পদের নতুন নেতার নাম ঘোষণা করার সম্ভাবনা আছে।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, বড় ধরনের চমক
আসছে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত
মন্ত্রিসভার মাত্র আট সদস্যকে বর্তমান ৪৭ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায়
রেখেছেন। আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও এমন ধরনের পরিবর্তন আসার
সম্ভাবনা রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন
চলাকালে কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতাকে এমন আলোচনা করতে দেখা গেছে। তাদের মতে,
১৯ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর অনেকেই নতুন কমিটিতে থাকবেন না। এই সংখ্যা ১০
জনের মতো হতে পারে। বাদপড়া এই নেতাদের অনেকে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য হবেন।
অর্থাৎ তাদের পদাবনতি হবে। তাদের মধ্যে কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীও থাকবেন।
সেই ক্ষেত্রে চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দু'জনকে পদোন্নতি দিয়ে
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য দু'জনের কমিটি থেকে বাদ
পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে তারকা নেতা হিসেবে
পরিচিত। আর আট সাংগঠনিক সম্পাদকের কয়েকজন পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম-সাধারণ
সম্পাদক হতে পারেন। বাদ পড়তে পারেন কয়েকজন সাংগঠনিক সম্পাদক। তারা
মন্ত্রিসভার সদস্য। কয়েকজন স্বপদে বহাল থাকবেন।
সম্পাদকমণ্ডলীর অন্য ২৭ পদেও ব্যাপক রদবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বেশিরভাগ
ক্ষেত্রেই পুরোনোদের বাদ দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে ২৮ সদস্যের
কার্যনির্বাহী সংসদের কেউ কেউ পদোন্নতি পেতে পারেন। আবার কার্যনির্বাহী
সংসদের অনেকেই বাদ পড়তে পারেন। এবার একজন সাংবাদিককে দলের কার্যনির্বাহী
সংসদে রাখার গুঞ্জন রয়েছে। বিভিন্ন পেশায় কর্মরত কয়েকজন কার্যনির্বাহী
সংসদে থাকতে পারেন।
গত নভেম্বর মাসজুড়ে ধারাবাহিক সম্মেলনে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয়
শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসা নেতাদের মধ্যে
হাতেগোনা দু'জন সম্পর্কে নেতিবাচক আলোচনা থাকলেও সিংহভাগই দুর্নীতিমুক্ত
এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই নেতাদের সহযোগী ও
ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর প্রধান পদে এনে নতুন করে স্বচ্ছ রাজনৈতিক ধারা
প্রতিষ্ঠার আভাস দিয়েছেন। দুর্নীতি এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের আওয়ামী
লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ পূর্ণতা পাবে বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ নতুন করে ঢেলে সাজানোর
উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ কারণে কার্যনির্বাহী সংসদের প্রশ্নবিদ্ধ
নেতারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা পদ হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন। এই সংখ্যা
৩০-এর মতো হবে বলে অনেকের ধারণা। অবশ্য স্বচ্ছ ভাবমূর্তির একঝাঁক তরুণ নতুন
কার্যনির্বাহী সংসদে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা কয়েক দিন ধরে
নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর
কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে
নানাভাবে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছেন।
কয়েকজন শীর্ষ নেতার অভিমত, সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা
শেখ রেহানাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের
কাঠামোতে প্রত্যাশা করছেন। তারা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কেও দলের
কার্যনির্বাহী সংসদের কাঠামোতে দেখার প্রত্যাশায় রয়েছেন। ইতোমধ্যেই তাকে
দলের কাউন্সিলর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর দুই দৌহিত্র সায়মা হোসেন পুতুল এবং
রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও আজমিনা সিদ্দিক রুপন্তী আওয়ামী লীগের
কার্যনির্বাহী সংসদে নতুন প্রজম্মের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে নেতাকর্মীদের
আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু নেতাকর্মীদের এই প্রত্যাশা পূরণ নাও হতে পারে।
