ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রামগতির এক গ্রামে ২৫ ইটভাটা

রামগতির এক গ্রামে ২৫ ইটভাটা
×

রামগতির চর আফজল গ্রামে ধানী জমি ও লোকালয়ের মাঝখানে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা সমকাল

 মিসু সাহা নিক্কন, রামগতি (লক্ষ্মীপুর)

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ০৬:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

রামগতি উপজেলার ৫৩টি ইটভাটার মধ্যে অনুমোদন রয়েছে মাত্র দুটির। বাকি ৫১ ইটভাটা চলছে অনুমোদন ছাড়াই। এসব ভাটার বেশির ভাগই গড়ে উঠেছে কৃষিজমিতে। শুধু চর আফজল গ্রামেই রয়েছে ২৫টি ইটভাটা। ইট তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কৃষিজমির মাটি। উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় জমি হারাচ্ছে উৎপাদনক্ষমতা। পাশাপাশি ভাটার নির্গত কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
অবৈধ ইটভাটার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষাবাদ, রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর, বিষিয়ে উঠছে পরিবেশ। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে আশপাশের জনজীবনও। ভাটামালিকদের বিরুদ্ধে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের নীতিমালা না মানার অভিযোগ রয়েছে। 
উপজেলার চর আলগী, চর পোড়াগাছা ও চর গাজী ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে একাধিক ইটভাটা। প্রতিটি ভাটা  গড়ে ৬-৮ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে। ৫১টি ইটভাটার জন্য নষ্ট হয়েছে ৪০০ একর ফসলি জমি। পাশাপাশি ইট প্রস্তুতের জন্য মাটি সংগ্রহ করতে গিয়ে আরও কয়েকশ একর জমির টপসয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে।
অনেক মালিকের অভিযোগ, তাদের জমির ওপর দিয়ে ইটভাটার মাটিবাহী ট্রাক্টর-ট্রলি চলাচল করে। এতে কয়েকশ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২৪ সালে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের দাবিতে উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করা হলে আদালত উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। পরিবেশ অধিদপ্তর রামগতিতে ২০২৫ মৌসুমের শুরুতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ভাটা বন্ধ রাখতে মাইকিং করে। উপজেলা পরিষদের হলরুমে ভাটামালিকদের ডেকে আদালতের নির্দেশনা জানানো হলেও তা উপেক্ষিত হয়।
ইটভাটা মালিক ও ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমার প্রায় ১৬ একর জমির ওপর পাশাপাশি দুটি ইটভাটা রয়েছে। জমি কিনে ভাটা পরিচালনা করছি। তবে অনেক মালিক নিজস্ব জমির বাইরে বার্ষিক হারে নগদ টাকায় অন্যের জমি থেকে মাটি নিয়ে ভাটা পরিচালনা করেন। একটি ভাটা চালু করতে ৬-৮ একর জমি লাগে। আমরা একেকটি ভাটায় কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। অধিকাংশের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে বিনিয়োগ করতে হয়েছে। সরকার যখন ভাটা বন্ধ রাখতে বলেছে, তার আগেই শ্রমিক সংগ্রহ ও মাটি কেনায় লাখ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ইটভাটা চালাব কিনা, তা ভেবে দেখব।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘কৃষি অফিসের অনুমতি ছাড়া অধিকাংশ ভাটা গড়ে উঠেছে। তিন ফসলি জমির টপসয়েল ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কৃষির জন্য ভয়াবহ হুমকি।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান বলেন, ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৫টি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া কয়েকটি ভাটা পুনরায় চালু করার খবর পেয়েছি। সেসব ভাটায় আবারও অভিযান চালানো হবে।’
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নীপা বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা মেনেই অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান চলছে। উচ্ছেদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ ইটভাটাগুলোতে কিছুদিনের মধ্যেই আবার অভিযান চালানো হবে।’
 

আরও পড়ুন

×