বিলাইছড়ি
ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই ১৭ গ্রামের মানুষের
ছবি: সমকাল
সত্রং চাকমা, রাঙামাটি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২২ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যার পানি নেমেছে। বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, লন্ডভন্ড বাজার, ভাঙা সড়ক আর ভাঙনের মুখে পড়া কৃষিজমি নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার লড়াইয়ে নেমেছেন দুর্গত মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত ত্রাণ হিসেবে মিলেছে কেবল ১০ কেজি করে চাল। ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজন আরও কার্যকর সহায়তা ও পুনর্বাসন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৭ ও ১১ জুলাই টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফারুয়া ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামের এক হাজার ৪৮৬টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিয়নের একমাত্র ফারুয়া বাজারের ১৪৪টি দোকানও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও প্রায় ২০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, পানি নেমে গেলেও ফারুয়া বাজারজুড়ে হাঁটুসমান কাদামাটি। অনেক দোকানির মালামাল পানিতে ভেসে গেছে। ভাঙাচোরা দোকান পরিষ্কার করে আবার ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছেন তারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু বাজারেই প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি রাইখ্যং নদীর দুই তীর ভাঙতে থাকায় নতুন করে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় রয়েছে অনেক পরিবার।
উত্তর তক্তানালা গ্রামের বাসিন্দা ফোখপুরী তংচংগ্যা বলেন, ‘বন্যায় আমার একমাত্র আয়ের উৎস ছোট চায়ের দোকানটি ধ্বংস হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কৃষিজমিও। এখন সংসার কীভাবে চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’ একই এলাকার যতিন তংচংগ্যা, রকেটমালা তংচংগ্যা ও বুদ্ধিমালা তংচংগ্যা জানান, তাদের ঘরবাড়ি, দোকান ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজার ডুবে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় পণ্যও আনা যাচ্ছে না। ত্রাণ হিসেবে শুধু ১০ কেজি চাল পেয়েছেন, অন্য কোনো সহায়তা এখনও মেলেনি।
তক্তানালা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যতন তংচংগ্যা জানান, পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ কাদায় ভরে থাকায় এখনও পাঠদান শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফারুয়া বাজার পরিচালনা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কিনারাম তংচংগ্যা বলেন, ‘দুই দফা বন্যায় বাজারের ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়াতে বাজারটি সীমান্ত সড়ক এলাকায় স্থানান্তর করা দরকার।’
বাজার সমিতির সভাপতি মো. হারুন বলেন, ‘২০২৩ সালের পর এবারও বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এবার এক ব্যবসায়ী পানিতে ভেসে মারা গেছেন।’
ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তংচংগ্যা বলেন, ‘এবারের বন্যায় ইউনিয়নের ১৭টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হাজার পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। রাইখ্যং নদী খনন করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।’
- বিষয় :
- বন্যার পানি