ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবল

তারকাদের চোখে স্বপ্নের লড়াই

তারকাদের চোখে স্বপ্নের লড়াই
×

কোলাজ- সমকাল

আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৪:২১ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৪:২৬

চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে এসেছে সেই মহাক্ষণ। আজ নির্ধারিত হবে বিশ্ব ফুটবলের নতুন রাজা। একদিকে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। নব্বই মিনিট, কিংবা তারও বেশি সময়ের লড়াই শেষে এক দলের জার্সিতে যুক্ত হবে আরেকটি সোনালি তারকা, আর অন্য দলের স্বপ্ন থেমে যাবে শেষ বাঁশির সঙ্গে।

বিশ্বকাপ কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়; এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব। যেখানে ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা ভৌগোলিক দূরত্ব ভুলে মানুষ এক হয়ে যায় একটি বলের পেছনে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। 

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই অনেক তারকা ছিলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক, কেউ ছিলেন ব্রাজিল, জার্মানি, পর্তুগাল, ফ্রান্সের সমর্থক আবার কেউ ছিলেন স্পেনের নান্দনিক ফুটবলের ভক্ত। এবারের বিশ্বকাপ ছিল বিস্ময়, আবেগ, নাটকীয়তা আর প্রত্যাবর্তনের গল্পে ভরা। গ্রুপ পর্বের অঘটন, নকআউটের উত্তেজনা, টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ। 
সবকিছু পেরিয়ে এখন গল্পের শেষ অধ্যায়। কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মতো দেশের বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও আজ টিভির পর্দায় চোখ রাখবেন। কারও কাছে এটি আবেগের, কারও কাছে উৎসবের, আবার কারও কাছে শৈশবের ভালোবাসার পুনর্মিলন। তাইতো এখন আর কোনো হিসাব-নিকাশ নেই, একটাই চাওয়া। প্রিয় দল যেন শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মাঠ ছাড়ে। অনেক তারকাই জানিয়েছেন, আজকের দিনের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করেছেন তারা। বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেলা দেখার প্রস্তুতিও নিয়েছেন অনেকে। 
কারণ বিশ্বকাপের ফাইনাল এমন একটি উপলক্ষ, যা চার বছর পর একবার আসে। সেই মুহূর্ত মিস করতে চান না কেউই। অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর ভাষায়, ফুটবল এমন একটি খেলা যা পৃথিবীর কোটি মানুষকে একই অনুভূতিতে যুক্ত করে। বিশ্বকাপের সময় পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। তাঁর প্রত্যাশা, ফাইনাল হবে আক্রমণাত্মক, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং শেষ বাঁশি পর্যন্ত রোমাঞ্চে ভরা। প্রিয় দল জিতুক। সেটি যেমন চান, তেমনি ভালো ফুটবলেরও প্রত্যাশা করেন তিনি। 

চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদের মতে, বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই ইতিহাসের জন্ম। একটি গোল, একটি সেভ কিংবা একটি সিদ্ধান্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের ভাগ্য। তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত মনোযোগ দিয়ে দেখার পরিকল্পনা তাঁর।

চিত্রনায়িকা পরীমণি বলেন, বিশ্বকাপের সময় তাঁর ঘরে যেন উৎসবের আবহ তৈরি হয়। প্রিয় দলের ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। ফাইনালের দিন তাই অন্য সব কাজের চেয়ে খেলা দেখাকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, ফুটবলের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই ভালো লাগে।

অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের মতে, ফাইনাল ম্যাচে ভুল করার সুযোগ খুবই কম। একটি ছোট ভুল কিংবা একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই তিনি মনে করেন, দর্শকরা এবারও একটি টানটান উত্তেজনার লড়াই দেখতে পাবেন। প্রিয় দল জিতুক। এই প্রত্যাশার পাশাপাশি সুন্দর ফুটবলই তাঁর সবচেয়ে বড় চাওয়া।

অভিনেত্রী সাফা কবিরের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি একটি উৎসব। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সঙ্গে বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার অভ্যাস রয়েছে। সেই ঐতিহ্য এখনও ধরে রেখেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, মাঠে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দেবে এবং বিশ্বকাপের সমাপ্তি হবে একটি স্মরণীয় লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে।

তবে শুধু এই কয়েকজন নন, দেশের আরও অনেক তারকাশিল্পী আজকের ম্যাচ ঘিরে দারুণ উত্তেজনায় আছেন। 
ফুটবল এমন এক খেলা, যেখানে একটি বলের পেছনে ছুটে বেড়ানো ২২ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আবেগে জড়িয়ে থাকে কোটি কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন।

আজও তার ব্যতিক্রম হবে না। আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন। কোন দলের জার্সিতে যুক্ত হবে নতুন একটি তারকা, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যার উত্তর মিলবে মাঠেই। তবে ফল যাই হোক, আজকের রাতটি বিশ্বফুটবলের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে সাধারণ দর্শকের মতো দেশের তারকারাও প্রস্তুত।

আরও পড়ুন

×