আমন ধানের বীজতলার বড় ক্ষতি
হাতিয়ায় বন্যার পানি সরে যাওয়ার জন্য একটি সড়ক কেটে দিচ্ছেন স্থানীয়রা সমকাল
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। ২৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, টানা বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও তিন নম্বর সতর্ক সংকেতের কারণে হাতিয়ার সঙ্গে সারাদেশের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে হাজারো যাত্রী বিভিন্ন ঘাটে আটকা পড়েন।
হাতিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক মো. বাবলুর রহমান জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
নলচিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বাবলু বলেন, ‘বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে গোটা ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।’ বুড়িরচর ইউনিয়নের কালিরচর গ্রামের বাসিন্দা নিজাম চৌধুরী (৬৫) বলেন, ‘১৯৭০ সালের পর এত পানি আর দেখিনি। ডিসি রোড ছাড়া ইউনিয়নের প্রায় সব সড়ক তিন থেকে চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। লক্ষাধিক মানুষ খাদ্যসংকট ও অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন কাটালেও অনেকে ত্রাণ পাননি।’
চর ঈশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন আজাদ বলেন, ‘অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাবাজার এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের আফাজিয়া বাজারসংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পাশাপাশি আমনের বীজতলা তলিয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের নামারবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ দিনের প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে বাঁধবিহীন নিঝুম দ্বীপের অধিকাংশ সড়ক তলিয়ে যায়। জাতীয় উদ্যানের অনেক হরিণও পানিতে ভেসে গেছে।’
বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা মো. মিলন পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা আজমির উদ্দিন বলেন, ‘৮১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নিঝুম দ্বীপে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। পুরো দ্বীপই পানিতে তলিয়ে গেছে। দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল বাছেত বলেন, ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে আগাম শাকসবজি ও রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা ডুবে যাওয়ায় বড় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী জামিল আহমেদ পাটোয়ারী জানান, হাতিয়ায় মোট ১০৯ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ২৪ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৩ কিলোমিটার বাঁধ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।
ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, নিঝুম দ্বীপ, নলচিরা, তমরদ্দি ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দল ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে।
- বিষয় :
- বন্যা