বিদ্রোহীরা দলে ফিরলে ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব: অভিষেক
ছবি: সমকাল/শুভজিৎ পুততুণ্ড
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৪:২৭ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৪:৫৮
নির্বাচনে বড়সড় পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে আপাতত চার টুকরো হয়ে গিয়েছে। দলের এই চরম সংকটকালীন মুহূর্তে দলত্যাগী শীর্ষ নেতা, সাংসদ ও বিধায়কদের উদ্দেশ্যে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল শনিবার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, দলত্যাগীরা যদি কালীঘাট শিবিরে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস) ফিরে আসেন, তবে এক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি নিজের সব পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।
পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা কার্যত চার ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে—লোকসভার একটি বড় অংশ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছে, রাজ্য পরিষদীয় দল নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করছে, অবশিষ্টাংশ মমতার সঙ্গে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ হিসেবে রয়েছে এবং বাকিরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। দলত্যাগীদের মধ্যে রয়েছেন ২০ জন লোকসভা সাংসদ, ৪ জন রাজ্যসভা সাংসদ এবং ৭০ জন বিধায়ক।
বিদ্রোহীরা দলত্যাগের পেছনে বারবার অভিষেকের নেতৃত্বকে প্রশ্ন করেছেন। তাঁদের অভিযোগ—অভিষেকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, বিলাসবহুল জীবনযাপন, সিন্ডিকেট-তোলাবাজিতে সরাসরি জড়ানো এবং কর্পোরেট কোম্পানির স্টাইলে দল পরিচালনার কারণেই তাঁরা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
দলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে অভিষেক বলেন, যদি অভিষেকই সকলের মূল টার্গেট হয়, তবে আপনারা দলে ফিরে আসুন। আমি মমতা ব্যানার্জীর সামনে দাঁড়িয়ে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, আপনারা তিনটার সময় আসুন, আমি চারটার সময় পদ ছেড়ে দিচ্ছি। ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফাপত্র দিয়ে দেব।
দলত্যাগীদের ‘ভীতু’ আখ্যা দিয়ে অভিষেক দাবি করেন, ইডি-সিবিআইয়ের সমন ও দুর্নীতির তদন্ত থেকে বাঁচতেই তাঁরা মাথা নত করেছেন। তাঁকে গালিগালাজ করাটা দলত্যাগীদের পিঠ বাঁচানোর পূর্বপরিকল্পিত ‘স্ক্রিপ্ট’ বা ডিল। নিজের বিরুদ্ধে ২০-৩০টি এফআইআর থাকলেও তিনি যে পালিয়ে যাননি, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।
তিনি বলেন, যদি আপনি অভিষেক ব্যানার্জীকে চারটে গালি না দেন, তবে তো ইডি-সিবিআই বা ওদিকের পুলিশ আপনাকে ছাড়বে না! ওটা বললেই ওদিক থেকে বেঁচে থাকা যাবে, এটাই মূলত ওনাদের ডিল। যাদের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ, তারা এখন ওদিকে বাঁচার জন্য ছটফট করছে।
- বিষয় :
- অভিষেক
- তৃণমূল কংগ্রেস
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়