চট্টগ্রামের পর্যটন নিয়ে উদ্ভাবনী ভাবনা
দৃষ্টি বিজনেস আইডিয়া কনটেস্টের গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের সদস্যরা সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৭:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘মেইক লোকাল, বিজনেস গ্লোবাল’– এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পর্যটন খাতকে বিশ্বমানের গন্তব্যে রূপান্তরের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে আমা কফি-দৃষ্টি বিজনেস আইডিয়া কনটেস্টের ১৪তম গ্র্যান্ড ফিনালে। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এবং রানার্সআপ হয়েছে চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ)।
দৃষ্টি চট্টগ্রামের উদ্যোগে প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল– চট্টগ্রামের পর্যটন খাতের উন্নয়নে উদ্ভাবনী ও বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন। গত ৩ জুলাই শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রামের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি দল অংশ নেয়। বাছাইপর্ব শেষে চারটি দল গ্র্যান্ড ফিনালে জায়গা করে নেয়। এর মধ্যে ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দল, চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির একটি দল এবং সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের একটি দল।
ফাইনালে প্রতিযোগীরা পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রচারণা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চট্টগ্রামকে আকর্ষণীয় পর্যটন ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। বিচারকরা পরিকল্পনার বাস্তবায়নযোগ্যতা, আর্থিক সম্ভাবনা, উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে দলগুলোর মূল্যায়ন করেন।
গ্র্যান্ড ফিনালের বিচারক ছিলেন করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও গীতিকার আসিফ ইকবাল, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন, দৈনিক আগামীর সময়ের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল বাহার, নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি আশিক ইমরান, নারী উদ্যোক্তা শারমীন হোসেন এবং ব্যাংক এশিয়া পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়েস চৌধুরী।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘দৃষ্টি চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতাকে বিষয় হিসেবে নেওয়া হলে তরুণদের নতুন চিন্তা ও সম্ভাব্য সমাধান উঠে আসত। তাঁর মতে, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা দীর্ঘমেয়াদি নগর সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’
মেয়র আরও বলেন, ‘শুধু চোখে দেখা নয়, দূরদর্শিতার সঙ্গে চারপাশকে মূল্যায়ন করতে হবে। দৃষ্টি চট্টগ্রাম সেই দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে কাজ করছে।’ জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ না হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শহর পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কলিম সরওয়ার। বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আদনান মানান, দৃষ্টি চট্টগ্রামের সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম ও সাবের শাহ, নির্বাহী কমিটির সদস্যসচিব মুজিবুর রহমান, প্রধান সমন্বয়কারী মুন্না মজুমদার, প্রতিযোগিতার সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন মুন্না এবং যুগ্ম সমন্বয়কারী মুজিবুল হক।
২০১০ সালে দৃষ্টি চট্টগ্রামের উদ্যোগে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের উদ্যোক্তা-মনোভাব, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রেখে আসছে। এবারের আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর ছিল আবুল খায়ের গ্রুপের ব্র্যান্ড ‘আমা অথেনটিক ব্রাজিলিয়ান কফি’। ভেন্যু পার্টনার ছিল চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং অ্যাসোসিয়েট পার্টনার ছিল জি আর মেটাল।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের সৃজনশীল ধারণাকে বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় রূপ দিতে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- বিষয় :
- পর্যটন