ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শয্যার তিন গুণ রোগী

শয্যার তিন গুণ রোগী
×

শয্যা সংকটের কারণে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে সমকাল

 আনোয়ারুল হায়দার, নোয়াখালী

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৭:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তিনগুণের বেশি হামের রোগী ভর্তি রয়েছে। অস্থায়ী  হাম ওয়ার্ডে ৩৪টি শয্যা থাকলেও  গত শনিবার রোগী ভর্তি ছিল ১১১ জন।  রোগীদের বেশির ভাগের বয়স ৫ মাস থেকে ৫ বছর। অতিরিক্ত রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা। প্রয়োজনীয় পেডিয়াট্রিক ভেনটিলেটর, আইসিইউ এবং জরুরি ওষুধের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা, যা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে বলে সংশ্লিষ্টদের মত। 

শনিবার দুপুরে কথা হয় সদর উপজেলার ভাটিরটেক গ্রামের বিবি সাহারা খাতুনের সঙ্গে। তিনি জানান, তার দুই নাতনি ফারিয়া (৭) ও মারিয়াম (সাড়ে ৩ বছর) ঠান্ডা জ্বর, কাশি ও হাম নিয়ে গত ৩ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শয্যা খালি না থাকায় মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাচ্চাদের কোনো উন্নতি নেই। চিকিৎসকরা মারিয়ামকে আইসিইউতে ভর্তি করতে বলেছেন। তবে নোয়াখালীর কোনো হাসপাতালে  পিআইসিইউ (পেডিয়েট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) নেই। হাম ওয়ার্ডের ইনচার্জ (সিনিয়র স্টাফ নার্স) কিশোর বড়ুয়া বলেন, হাসপাতালে হাম রোগীর চিকিৎসা অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন সেফট্রি এক্সন সরবরাহ রয়েছে। মেরোফেনাম ইনজেকশন, যার প্রতিটির মূল্য ৬৫০ টাকা ও কেসিন ইনজেকশন সরবরাহ নেই।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাজিব আহাম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান জনবল ও সরঞ্জাম দিয়ে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি, কিন্তু পিআইসিইউ, শয্যা ও ওষুধের ঘাটতি সমস্যা প্রকট করে তুলেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পিআইসিইউ বরাদ্ধ দেওয়ার জন্য চিঠি লেখা হয়েছে।’ শনিবার দুপুরে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। একজনকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যু নেই।’
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘হাসপাতালের ধারণক্ষমতার ৩-৪ গুণ রোগী ভর্তি থাকছে। এতে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে কিছু ওষুধ পেয়ে থাকি। সেসবে সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।’
সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় মোট ৬৭৭ জন হাম রোগী চিকিৎসা পেয়েছে। এর মধ্যে ৫১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। প্রায় ৫ লাখ শিশুকে হাম-রোবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।’
গত শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, শয্যা সংকটে অধিকাংশ শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এক বিছানায় একাধিক শিশুকে রাখা হয়েছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা  বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদ থেকে আসা শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেশি। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালে জায়গা না থাকায় তারা হামের জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অনেক শিশুর জন্য জরুরি আইসিইউ বা পেডিয়াট্রিক ভেনটিলেটর প্রয়োজন হয়। কিন্তু নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক ভেনটিলেটর ও আইসিইউ সুবিধা না থাকায় সংকটাপন্ন শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা চট্টগ্রামে স্থানান্তর করতে হচ্ছে। দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক শিশুর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে বলে অভিভাবকরা জানান।

আরও পড়ুন

×