প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা করুণা নয়, অধিকার চায়
--
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২০ | ১২:০০
রাষ্ট্র এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে ধারণা ও পলিসিগত পরিবর্তন এসেছে। এখন প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে এর সঠিক প্রয়োগ। প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার ক্ষমতায় থাকলেও তাদের নানারকম প্রতিবন্ধকতা এখনও বিদ্যমান। মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় করুণা নয়, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। 'প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন : মাঠপর্যায়ে কর্মঅভিজ্ঞতা ও শিখন' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। গত ২৩ ডিসেম্বর দৈনিক সমকাল কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সমকাল ও অ্যাকশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এডিডি) ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে এর আয়োজন করে।
মুস্তাফিজ শফি
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে সরকারের নানা উদ্যোগ রয়েছে। সরকারের প্রতিবন্ধীবান্ধব নীতির কারণে ধারণাগত পরিবর্তনও এসেছে।
এখন প্রয়োজন এটিকে মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানো। জরিপ বলছে, দেশে এক কোটি ৩০ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় এসেছে মাত্র ১৭ লাখ। আমাদেরকে সবার আগে তাদেরকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আসলে করুণা নয়, অধিকার চায়। তাদের মুখ থেকেই তাদের কথা শুনতে হবে। তাদের চাওয়ার আলোকেই তাদেরকে জাতীয় কর্মযজ্ঞে যুক্ত করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, আমরা তাদের ভাষাটা বুঝতে পারছি না। এটা আমাদেরই অক্ষমতা। সমতার সঙ্গে ন্যায্যতাও নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যোগ্যতা নিয়ে এলে সমকালও তাদের স্বাগত জানাবে। সরকার, উন্নয়ন সংস্থা বা মিডিয়া এ ক্ষেত্রে আলাদা কিছু নয়। আমরা সবাই মিলে কাজ করেই একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ এ দেশে গড়ে তুলব। সবাই বিষয়টি হৃদয় থেকে অনুধাবন করলে অবশ্যই সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমরা বিশ্বাস করি, একদিন সেটা হবেই।
শফিকুল ইসলাম
এখানে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন, এটাই হলো বড় প্রাপ্তি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নানা জায়গায় প্রবেশগম্যতা প্রশস্ত করার বিষয়টি মুখ্য করে দেখতে হবে।
সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে দেশের গবেষণা সংস্থা- সবারই দায়িত্ব রয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কাজ করার। সরকার জাতীয় কর্মপরিকল্পনা করেছে। আমাদের দায়িত্ব এটি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া। কর্মপরিকল্পনাভিত্তিক ছোট ছোট আলোচনা সভা করে সংশ্নিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ ধরনের সভা সেমিনারে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা জাতীয় পর্যায়ে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। অনেকে আইনের রেফারেন্স দিয়ে কথা বলেন। বিষয়গুলো আমাদের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের মানসিকতা যেন সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত সনদ, জাতীয় আইন এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা- এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা হয়েছে, কিন্তু সেটি সর্ব স্তরে পৌঁছায়নি। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কীভাবে সুযোগ কাজে লাগানো যায়, সেটি নিয়ে ভাবতে হবে।
মোহাম্মদ ইসমাইল
প্রতিটি সমস্যার সমাধান কিন্তু সরকারকেই করতে হবে। অন্য কোনো উপায় নেই। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তার সবকিছুতেই একমত প্রকাশ করছি।
মাঠপর্যায়ে এখনও অনেক বাধার মুখোমুখি হন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। এ জন্য প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা। ইউনিয়ন ও জেলা পর্যায়ে এখনও দিবসভিত্তিক প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয় না। অথচ এসব প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা যায়। এ ছাড়াও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা প্রদানে যে উন্নয়ন কমিটি রয়েছে, ওই কমিটিগুলো সক্রিয় নয়। তারা নিয়মিত মিটিং করতে পারে না। এ জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় এজেন্ডাভিত্তিক মিটিং করতে হবে। সংখ্যা যাই হোক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করে তাদের উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করছে এবং তা বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন জরুরি। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে এডিডি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়নমূলক সংস্থাও। সম্মিলিতভাবে এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, 'সুবর্ণ নাগরিক' কার্ড কারা পাননি বা কারা ভাতা পাচ্ছেন না। এসব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শেখ হামিম হাসান
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাস্তব পরিস্থিতি আমাদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে তোলে। আমরা যখন তাদের নিয়ে ভালো কিছু করার চিন্তা করি, তখন বাজেটে সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে চলে আসে।
সারাদেশ থেকে হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। ফলে দেশব্যাপী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সব সংগঠনকে বরাদ্দের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। তাই যোগ্যতার ভিত্তিতে যাচাই করা হয়। তবে যারা সত্যিকার অর্থে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারের কথা বলে, বিভিন্ন সংগঠনকে নেতৃত্ব দেয়, তাদের অগ্রাধিকার দিতে হয়। যাদেরকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, কেন বাদ দেওয়া হয়েছে সেই ব্যাখ্যা উল্লেখ করা থাকে। এখানে আসলে নিজের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন নেই। সবই সংগঠনগুলোর যোগ্যতার ভিত্তিতে নিরূপণ হয়। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে তাদের নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের নানা পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইনের পর বিধিমালা প্রণীত হয়েছে। এরপর অ্যাকশন প্ল্যান প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুমোদন হয়েছে। অনেককে ঋণ দিয়ে ফেরত পাওয়া যায়নি। তবু সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে আন্তরিক।
নুসরাত আইরীন
২০১১ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত জরিপ অনুসারে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ। যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ দশমিক ০৭ ভাগ।
অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ দশমিক ৯৪ ভাগ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। সর্বশেষ সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ১৭ লাখ ৯ হাজার ৫৮০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে এবং এটি চলমান প্রক্রিয়া বলে জানা গেছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্ব-সহায়ক দল (সেলফ-হেল্প গ্রুপ) ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন (ডিপিও) গঠনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কাজ করে চলেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় 'প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধিকরণ' শীর্ষক ৩ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প ২০১৮ সাল থেকে বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ ও জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থা সহায়তা করছে। রংপুর, বগুড়া ও পটুয়াখালী জেলায় ১২টি উপজেলার মোট ২৩টি ইউনিয়ন ও ৭টি পৌরসভায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পে মোট ৪৬৭০ জন (১৯৯১ জন নারী, ২৬৭৯ জন পুরুষ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ২৫০টি সেলফ-হেল্প গ্রুপ ও ৩১টি ডিপিওর মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতকরণে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণে এডিডির মূল চালিকাশক্তি ডিপিও। স্ব-সহায়ক দল ও ডিপিও উভয় পর্যায়ে সংগঠন পরিচালনা ও নেতৃত্ব, সংগঠনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও আইন, এসডিজি, স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সম্পদের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।
সজীব আহমেদ
ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় সরকার যখন বাজেটের প্রস্তুতি নেয়, তার আগেই সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করি।
ডিপিওদের আয়োজনে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে র্যালি, আলোচনা সভার মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের কাছে দাবি সংবলিত বা পরামর্শ জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করি। এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর আওতায় প্রদত্ত বিভিন্ন সেবা ও সহায়তায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের উন্নয়নমূলক বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ এবং উন্নয়মূলক খাত হিসেবে আলাদা বরাদ্দ নিশ্চিত করা। প্রতিটি ইউনিয়নে ৪৭টি খাতে বাজেট বরাদ্দ হয়। আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে নির্দিষ্ট করে অন্তত ১ থেকে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দের আহ্বান জানাই।
সোহেল রানা
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় আমরা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কাজ করি। প্রতি মাসে গ্রুপ মিটিং, উঠান বৈঠক ও সভা-সেমিনার করে থাকি।
এ ছাড়াও হাটবাজারে-দোকানপাটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ে আলোচনা করি, যেন সবাই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাওয়া-পাওয়া, অধিকারের কথা জানেন। মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সুযোগ পেলে ভালো থাকতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে যে সুরক্ষা কমিটি আছে, ওই কমিটির সদস্যদের বলি। তবে এই কমিটিতে দু-একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রাখা উচিত। যারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরতে পারবে। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বাজেট বরাদ্দ হলেও তা ঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না। অনেক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিই হুইল চেয়ার পান না। প্রকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাই ভাতা পায় না। এসব বিষয়ে সরকারকে সচেতন হতে হবে।
শিল্পী বিশ্বাস
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় তাদের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে স্থানীয় সরকার।
স্থানীয় সরকারের ১৩টি স্থায়ী কমিটিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ক ১৪ নম্বর স্থায়ী কমিটি গঠন প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি স্থানীয় সরকারের ৭টি দায়িত্ব ও কর্তব্য চিহ্নিত করে প্রদান করা হয়েছে একটি নির্দেশনা, যা সম্পর্কে এখনও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে রয়েছে সচেতনতার অভাব। তাই এই বিষয়টিতে সরকারের পক্ষ হতে প্রয়োজন আরও বেশি প্রচারণা ও মনিটরিং। এ ছাড়াও স্থায়ী কমিটিগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের রাখা হয় না। কিন্তু তাদের অধিকার সুরক্ষায় আমরা চেষ্টা করি ওই কমিটিতে থাকার। তাই স্থানীয় সরকারের উচিত, একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কমিটিগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য অন্তত দু'জনকে যুক্ত করার। আমিও প্রতিবন্ধী। তবে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে একটি সংস্থার নেতৃত্ব দিচ্ছি। ইউপি সদস্য হিসেবেও আছি। কলাপাড়া ইউনিয়নকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করে গড়ে তুলতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সালমা খাতুন
'প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধিকরণ' বিষয়ক প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সাল থেকে কাজ করছি।
দুই বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বেইজলাইন সার্ভে করেছি। গ্রামপর্যায়ে ছোট ছোট সংগঠনের মাধ্যমে সভা সেমিনার ও প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। এখানে ৮০টি সংগঠন রয়েছে। আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন ১৬৭৯ জন। আমরা নিয়মিত সভার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা আইন সম্পর্কে জানাই। তাদের সমস্যা শুনি। সমাধানের পথ খুঁজি। এমনকি কীভাবে সবার সঙ্গে কথা বলতে হবে, সংগঠনের আর্থিক হিসাব কীভাবে নিতে হবে বা করতে হবে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে কীভাবে বক্তব্য দিতে হবে- এসব বিষয় ওই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিখি। এসব সভায় ইউনিয়ন পরিষদ, সমাজসেবা অফিসের সদস্যরাও থাকেন। তারপরও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ন্যাশনাল আইডি কার্ডের মতোই 'সুবর্ণ নাগরিক' কার্ড সংগ্রহ করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ দুর্ভোগ নিরসনে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে ব্যবস্থা রাখা জরুরি। যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যানবাহনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ ভাগ আসন রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করতে হবে। চাকরি ক্ষেত্রেও প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে যোগ্যতা অনুযায়ী অন্তত একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চাকরি দিতে হবে।
মামুন খান
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ে উপজেলা পরিষদে যে কমিটিগুলো রয়েছে, তারা প্রতি দুই মাস পরপর মিটিং করে।
এডিডি থাকাতে আমরা নিজেদের অধিকারের কথা বলতে পারছি। তবে বারবার বলা সত্ত্বেও ২০১৮ সালের শেষের দিকে কমিটি করেছে। দু'জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সেখানে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এডিডি না থাকলে আমরা কথা বলার সুযোগ পাব কি-না জানি না। কিংবা আমাদের কথাগুলো এভাবে কেউ উপস্থাপন করবে কি-না তারও নিশ্চয়তা নেই।
ইয়াসমিন খাতুন
'সুবর্ণ নাগরিক' কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা আটটি গ্রুপ হয়ে বদরগঞ্জে কাজ করি। মাসে দু'বার মিটিং করি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খোঁজ নেই।
যারা এখনও সদস্য হননি, তাদের খুঁজে বের করি। বদরগঞ্জে ১৩৮ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে শুধু ৩৮ জন কার্ড পাননি, তবে প্রক্রিয়াধীন। সমাজসেবা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মৃদু, মাঝারি ও তীব্র তিন ক্যাটাগরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এ কার্ড প্রদান করা হয়। তবে এখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা পান মাত্র ৬২ জন। অর্ধেকের বেশিই এখন ভাতা পান না। তাদের বিষয়গুলো যেন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।
এএইচএম নোমান খান
আইন এবং নীতিমালার কাঠামো দেখলে বোঝা যায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলেও ইতিবাচক মানসিকতা রয়েছে। দুর্বল আইনকে সবল করা হয়েছে।
বিধিমালা এবং কর্মপরিকল্পনাও গৃহীত হয়েছে। তবু কেন এত হতাশার কথা আসছে? দুর্বলতাটা আসলে কোথায়? বিষয়গুলো আমাদের ভাবতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা উচিত সব মন্ত্রণালয়ের, যেখানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় শুধু সমন্বয় করবে। দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাহলে তারা কোনো না কোনোভাবে সামগ্রিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। তারা প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করতে পারবেন। কিন্তু তেমনটি হতে দেখা যায় না। আমাদের দেশে আইন আছে, কিন্তু এর সত্যিকারের প্রয়োগ নেই। ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পদে পদে বঞ্চনা আর হয়রানির শিকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে কাজ করতে চাইলে প্রকল্পভিত্তিক উন্নয়ন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্র এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, ফাউন্ডেশন সৃষ্টি হয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার জন্য। অথচ এখন সেটি চলে গেছে অন্য ভূমিকায়।
ফারজানা নাজনীন তুলতুল
আমাদের আইনি কাঠামো, জাতিসংঘ সনদ- সবই আছে। শুধু প্রয়োগ নেই। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিভিন্ন খাতে সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
তাদের প্রবেশগম্যতার জায়গাটি আরও বড় করতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যতই সেবাধর্মী উদ্যোগ নেওয়া হোক, সেগুলো তাদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে না, যতক্ষণ না সবখানে তাদের প্রবেশগম্যতা সুগম হচ্ছে। এখন দেখা যাচ্ছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভালো সুযোগ না পাওয়ার কারণে মাঝপথে কিংবা শুরুর পরই ঝরে পড়ছে। শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের যুগোপযোগী পরিবর্তন ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। সেবা বা করুণা নয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে আরও আন্তরিক হতে হবে। মিডিয়াকেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে থাকতে হবে। নইলে কাজগুলো আদায় করা যাবে না।
আশরাফুন্নাহার মিষ্টি
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনেক বিষয়ে ভাবতে হয়। অনেক সত্য-বাস্তবতা আলোচনায় আসছে না। এখন অনেক কিছুই আড়াল হয়ে যায়।
ভাতা নিতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়। সুষম নাগরিক সেবা ভোগ করার অধিকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আছে কি-না, সেটি আগে নিশ্চিত করুন। বিচ্ছিন্নভাবে অনেক কথা আসে। এগুলো সত্যিকার অর্থে আমাদের উন্নয়ন কাজে আসে না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যে সংগঠনগুলো রয়েছে, খুবই বেদনাদায়ক একটি পরিবেশ থেকে তাদের কাজ করতে হয়। প্রশ্ন থেকে যায়, কেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কাজ করবে না? ২০১৯ সালে এসেও আমরা বঞ্চনার কথা বলছি। আমাদের বঞ্চনার চিত্র দীর্ঘ। মর্যাদাহীন সমাজে আমরা আর বাস করতে চাই না।
নাসরিন জাহান
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন করতে চাইলে তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রের নানা খাতে তাদের অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করতে হবে।
সমকালকেও আহ্বান করব, তারা যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুযোগ করে দেয়। বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাদের সিদ্ধান্ত ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অনেক কিছুই রয়েছে। কিন্তু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকেও সরকারের একটি অংশ হিসেবে ভাবতে হবে। আমরা জানি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে সরকারের সহানুভূতির কমতি নেই। কিন্তু সত্যিকারের উন্নয়নে এটি যথেষ্ট নয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
মহুয়া পাল
আমরা প্রতিদিন এক রকম যুদ্ধ করে চলছি। আমাদের জন্য গণপরিবহনে কোনো সুব্যবস্থা নেই।
আমরা বাসে উঠতে চাইলে নেবে কি-না ভাবে। আমরা ভাড়া দিতে পারব কি-না কিংবা আমাদের কারণে অন্যের সমস্যা হচ্ছে কি-না- এসব ভাবতে হয় তাদের। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত আসন নেই বললেই চলে। থাকলেও অন্যের দখলে থাকে সেগুলো। বিস্ময়কর তথ্য হলো, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ মাত্র শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ। এই বরাদ্দ খুবই নগণ্য। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ভিত্তিক হওয়া উচিত। এমনকি বাজেট প্রণয়নেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের যে উপবৃত্তি দেওয়া হয়, সেখানে সব প্রতিবন্ধী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাহলে তাদের ঝরে পড়ার হার কমতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষাজীবন শেষে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের দ্রুত ব্যবস্থাও করতে হবে রাষ্ট্রকে।
দিবা ফারাহ হক
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংখ্যা আজও ঠিক হয়নি। তাহলে কীভাবে উন্নয়ন আশা করতে পারি। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিতে হবে।
এমনকি তাদের মতামতও নিতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগ্রামটা আজীবন থেকে যাবে। সরকার প্রতিবন্ধীবান্ধব হওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এ জন্য তাদের অন্তর্ভুক্তিকরণের বিষয়টি ভাবতে হবে। তাদের প্রতি সহানুভূতি না, সহমর্মিতা থাকা উচিত। এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি দরকার, যা মানসিকতা পরিবর্তনে বড় রকম ভূমিকা রাখতে পারে। চট্টগ্রাম রেলস্টেশনকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের উপযুক্ত করার একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে শুনেছি। দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এ ধরনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
আবদুল হাই মণ্ডল
সচেতনতা এবং মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য আসলে কোনো কর্মসূচির দরকার পড়ে না। বাংলাদেশে কোনো কিছুই আন্দোলন ছাড়া সম্ভব হয় না।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ে এমন কিছু দরকার আছে কি-না জানি না। প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হলে তাদের কথা শুনতে হবে। তাদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোকে তুলে আনতে হবে। তাদের সক্রিয় করা গেলে অধিকাংশ প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে যাবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যখন ঘর থেকে বের হয়ে তাদের অধিকারের কথা বলতে শিখেছে, তখন তাদের দিয়ে কিছু করা সম্ভব। তাদের সংঘবদ্ধ করে প্রতি উপজেলায় সংগঠনের আওতায় নিয়ে আসুন। সরকারকেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মুখ থেকে যখন তাদের বঞ্চনা, বৈষম্য এবং অধিকারের কথাগুলো উঠে আসবে, তখন সব মহলে এক ধরনের বোধ সৃষ্টি হবে, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
নাসিমা আক্তার
শুধু সমাজকল্যাণ কেন, আমাদের দরকার সব মন্ত্রণালয়। সচিবালয়ে গেলে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য বানানো র্যাম্পটি মোটরসাইকেলে ভরা।
এটি কোনোভাবেই মানা যায় না। অনেক বাধা-বিপত্তি ডিঙিয়ে আমাদের এগোতে হয়। বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ হাস্যকর। বাস্তবায়নেও কোনো পর্যবেক্ষণ নেই। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মামলাগুলো দীর্ঘদিনেও নিরসন হয় না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। অথচ তাদের স্কিল বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আসলে যাবে কোথায়? গাড়িতে উঠতে গেলে ভাবে ভাড়া দেবে না, তাই এড়িয়ে চলে। আমাদের কথাগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। না হলে দিনকে দিন আমাদের বৈষম্য আর বঞ্চনার গল্পই বলে যেতে হবে।
সুবোধ কুমার দাস
আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য হওয়া উচিত, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোর মাধ্যমে উন্নয়নমূলক নানা কাজ করানো।
এ ধরনের সংগঠন দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে ভালো ভূমিকা রাখছে, বাছাইপূর্বক তাদের স্কিল আরও বাড়িয়ে সমাজের নানা জায়গায় সম্পৃক্ত করুন। ভালো সংগঠনগুলোর কাজকে ডকুমেন্টেশন করে অন্য সংগঠনগুলোর মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। যেন তারাও উদ্বুদ্ধ হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। মুষ্টিমেয় প্রকল্পভিত্তিক এলাকা নয়, আমাদের উচিত দেশব্যাপী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। এডিডি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব ও অংশ্রগহণবৃদ্ধি কোন প্রকল্পভিত্তিক কাজ নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এডিডি তার ৫ বছর মেয়াদী স্ট্র্যাটেজি পরিকল্পনার আলোকে প্রকল্প প্রনয়ন করে। তাই ওই পরিকল্পনার আলোক সামনেও এ ধরনের কাজ অব্যাহত রাখা হবে।
সঞ্চালক
মুস্তাফিজ শফি, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সমকাল
আলোচকবৃন্দ
শফিকুল ইসলাম, কান্ট্রি ডিরেক্টর, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ
মোহাম্মদ ইসমাইল, অতিরিক্ত সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
শেখ হামিম হাসান, পরিচালক, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও যুগ্ম সচিব, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়
নুসরাত আইরীন, প্রোগ্রাম অফিসার, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ
সজীব আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, বগুড়া জেলা বন্ধন প্রতিবন্ধী সংস্থা
সোহেল রানা, সভাপতি, আশার আলো প্রতিবন্ধী নারী পরিষদ, গঙ্গাচড়া, রংপুর
শিল্পী বিশ্বাস, সহসভাপতি, শাপলা প্রতিবন্ধী সংস্থা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী
সালমা খাতুন, সভাপতি, এরুলিয়া তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থা, বগুড়া
মামুন খান ,সাধারণ সম্পাদক, সূর্যের হাসি প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা, গলাচিপা
ইয়াসমিন খাতুন, সহসভাপতি, জাগরণ প্রতিবন্ধী নারী পরিষদ, মধুপুর, রংপুর
এএইচএম নোমান খান, নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)
ফারজানা নাজনীন তুলতুল, সহকারী পরিচালক, সমাজসেবা ও পরামর্শ এবং সদস্য সচিব, প্রতিবন্ধিতা ও অটিজম বিষয়ক কমিটি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
আশরাফুন্নাহার মিষ্টি, নির্বাহী পরিচালক, উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন
নাসরিন জাহান, নির্বাহী পরিচালক, ডিজঅ্যাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশন
মহুয়া পাল, ডিরেক্টর-সাপোর্ট সার্ভিস, অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন
দিবা ফারাহ হক, সিনিয়র ম্যানেজার, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড সোশ্যাল ইনক্লুশন, ব্র্যাক স্কিলস ডেভেলপমেন্ট
আবদুল হাই মণ্ডল, সভাপতি, জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থা
নাসিমা আক্তার, সভাপতি, প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ
সুবোধ কুমার দাস, হেড অব প্রোগ্রাম, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ
অনুলিখন
সাজিদা ইসলাম পারুল
স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক সমকাল
জয়নাল আবেদীন
স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক সমকাল
