ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

পদাবলি

পদাবলি
×

মো. রাসেল

--

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১২:০০

মহাদেব সাহা
যদি একটি জীবন হয় মধুর জীবন

একটি সংসার যদি মধুর সংসার হয়, একটি জীবন
হয় মধুর জীবন,
আমি পৃথিবীর সমস্ত গোলাপ তার হাতে তুলে দেব;
পদ্মবনে তার জন্য সারা রাত নেচে বেড়াবো,
সেই সংসারসুখ, ভালোবাসা দেখতে যাবো খালি পায়ে হেঁটে।
একটি জীবন যদি সুখী হয়, একটি নতুন পাতা
যদি পল্লবিত হয়,
গাভী হয় দুগ্ধবতি, উদ্যান হয় পুষ্পময়,
একটি নিষ্ম্ফলা বৃক্ষ যদি ফলবতি হয়, কল্লোলিত হয়
একটি শুস্ক নদী,
যদি একটি দুঃখের ঘরে হয় শুভ্রসকাল, একটি দগ্ধ বনে
হয় সুগন্ধ সৌরভ
আমি খুব সুখী হবো, আমি তার জন্য বোনের
আদর হবো,
বুকভরা মাতৃস্নেহ হবো।

নাসির আহমেদ
এক মুক্তিযোদ্ধার উচ্চারণ

একটা পতাকার জন্য আমার দু'চোখ ভরা নদী। একটা
উজ্জ্বল ভোরের জন্য আমার বুকের মধ্যে উতলে ওঠা
আশা আর আবেগের অগ্নি। আমি অগ্নি ও
অশ্রুর কথা বলতে বলতে এতটা পথ এলাম
কিন্তু একজন নিবিষ্ট শ্রোতা পেলাম না- যে
বলতে পারবে এই শাশ্বত স্মৃতি

আমি দেখেছিলাম হেমিলনের আশ্চর্য সম্মোহক
এক বংশীবাদককে- যিনি একটা দেশকে
কোটি কোটি সবুজ পাতায় রূপান্তর করে তাতে
ফুল আর ফসলের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিলেন
এবং বয়স নির্বিশেষ একদিন আমরা সবাই
উত্তাল আবেগে এই মৃত্তিকার জন্যে
ভালোবাসার অগ্নিপরীক্ষায় অবতীর্ণ হলাম।

আমি সেই আশ্চর্য সম্মোহক বাঁশিওয়ালা
অবিস্মরণীয় কিংবদন্তি পুরুষের কথা
বললাম, যুদ্ধ আর ভালোবাসা কেমন করে
এক হয়ে যায় তা-ও বললাম এই দীর্ঘপথ হেঁটে
হেঁটে, আজ দেখি সেই শ্রোতাদের কেউ আর
স্মরণ করতে পারছে না স্মৃতি কিংবা আমাকে।

আমি চলে যাচ্ছি। এই বিষণ্ণ বিদায় মুহূর্তে শুধু
এই দীর্ঘশ্বাস- ও আমার ভাবী প্রজন্মের প্রিয় স্বজন
তোমাদের সঙ্গে হয়তো আমার আর দেখা হবে না
তোমরা হয়তো বিস্মরণের কুয়াশায় মুছে ফেলবে
বহু কিছু, তোমাদের সঙ্গে মিশে যাবে ঘাতক
এবং পতাকাবিনাশী কুচক্রীরা।

তবু উথলে ওঠা আশা আর আবেগের নদী
আমার মরবে না, যদি তোমরা যাও
স্মৃতিসৌধে আর প্রতিটি বধ্যভূমির
কাছে বিনম্র শ্রদ্ধায় অন্তত একবার।

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
দান অনুদান

আমাদের এখন পরস্পর দেহদান করবো।
দান, অনুদান করার মধ্যে আনন্দ
সেবা এবং মহত্ত্ব।
মহৎ হয়ে উঠি ভোরের বাতাসের মতো।

ঢাকা মেডিকেলে চক্ষু দান করেছি,
এবার পর্ব পরস্পরের দেহদান!
পুজা-প্রার্থনা পর আমরা ঋণে রচনা করবো
নক্সি জীবন!

আসিফ নূর
সুসংবাদ

বিশ্বাস আর অন্ধ নেই,
এবার তার চোখ ফুটেছে।

আমার জন্মান্ধ এই অবুঝ সত্তাটি
শুধু এক দৃষ্টিহীনতার কারণে
হোঁচটে-হোঁচটে কত না চোট পেয়েছে,
কত ঘাটে নাকানিচুবানি খেয়েছে-
সে হিসাব করতে গেলে সমুদ্রের ঢেউ
আর গুনতে হবে আকাশের তারা।

ধাক্কা খেতে খেতে পাক্কা হবার পথে
বোকা সেই বিশ্বাসের কপালজুড়ে
অবশেষে এক জোড়া চোখ ফুটেছে,
শুধু কি সাধারণ চোখ; সাথে ত্রিনয়নও।

রফিকুল হক দাদুভাই
অসমাপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

আমার বড় ছেলের নাম জয়,
মেয়ের নাম জয়িতা,
জয় বাংলার আগুন আমার বুকের মধ্যে।
যে ছেলেটির নাম জয়
জন্ম যার সদ্যমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে,
তার নামকরণে ওই জয় শব্দটি ছাড়া
অন্য কোনো বিশেষ্য মনে পড়েনি আমার।

আমার দ্বিতীয় সন্তানের নাম রাখলাম জ্যোতি,
আমার স্বপ্ন ছিল, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে
আলো ছড়াবে আমার আত্মজ।
অনেকেই জানেন হয়তো-
আমার স্বপ্নটাকে ওরা খুন করেছে,
আমার হৃদাকাশের সেই জ্যোতিটাই
নিভিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের শত্রুরা।

সম্ভাবনার জ্যোতি হারিয়ে পুত্রশোকে
তিলে তিলে নিজেকে নিঃশেষ করেছেন
মুক্তিযোদ্ধা হামিদা বেগম।
প্রিয় দেশবাসী, সবিনয় নিবেদন,
একান্তই সাদামাটা আমার জীবন
এই তো আমার বৃত্তান্ত, ক্ষুদ্র জীবনের।

এর বহুদিন পর ফাতেমা হকের কোল আলো করে
আমার সর্বশেষ সন্তানের জন্ম হতেই
তার সেই সংক্ষুব্ধ অগ্রজ,
বিজয়ের বার্তা নিয়ে জন্ম যার এই বাংলাদেশে,
মানে, যার নাম জয়-
সে তার কনিষ্ঠের নাম 'জীবন' হবে বলে
জানিয়ে দিল তার সুস্পষ্ট রায়।
জীবন, জীবন হবে তার নাম,
জীবন হলো তার নাম।

বঙ্গবন্ধু, যুগস্রষ্টা, হে মহামানব,
তোমার অমূল্য দান বাঙালির এই দেশ-
স্বাধীন সার্বভৌম এই বাংলাদেশে
অনন্তকাল শোনা যাবে
বাঙালির জীবনের জয়গান।

চিরজীবী বাংলাদেশে জয় বাংলা আমার স্লোগান।

সোহরাব পাশা
জার্নাল :৭১
আগুন-রোদ্দুর ভিজে গোধূলির রঙে
বিক্ষত রক্তিম নীলিমায়
ডুবে যায় আমাদের বাড়ি
ঘরগুলো ছায়াগুলো
আমাদের নিজস্ব থাকে না
বর্বর মুদ্রায় ভাঙে স্বাপ্নিক আকাশ
মধ্য দুপুর শঙ্কিত সূর্যাস্তের ঠোঁটে
নুয়ে পড়ে

রৌদ্রগুলো আমাদের উঠোনে থাকে না।

বৃষ্টি নেই ঝরে শুধু
ধু ধু মেঘের আগুন
শূন্যতার কাঁটাগুল্ম
ব্যাকুল জড়িয়ে রাখে স্বপ্নের আঙুল
নিষেধের নিষিদ্ধ আঙুল ছিঁড়ে ছিঁড়ে
আমাদের হদয় তখন বেদনার বধ্যভূমি

পাতাঝরা শূন্য তরুতলে
মরা কাক, রক্তের খয়েরি
ফোঁটা
যুবতীর গোপন পোশাক, চুলের রঙিন ফিতা
আকাশ খোলে না তার নীল জানালার
খিল

পাখিদের বৃক্ষের আশ্রয়
পোড়ে

নদী থেকে ছিঁড়ে যায়
ব্রিজ সাঁকো
বাতাস ছিটিয়ে দেয় বুকে বুকে কষ্টনীল ছায়া

সালেহীন শিপ্রা
মৃত্যুরস

বই হয়ে বসে আছো মৃত্যু-মলাটের,
উন্মাতাল ছুটে যাচ্ছো আনন্দবিলাস।
মৃত্যুরসে ডুবে যাচ্ছো পাচ্ছো না তা টের,
অনেক ক্রোধের দেশ, গণরোষে লাশ।
মথিত গোলাপ পাশে কবির কান্নায়
উপহাস ফেলে রেখে সরে যেতে পারো।
বিনিময়ে মিথ্যে পাবে গাঢ়, গান গায়
যে পাখিটা তারো লাশ পেয়ে যেতে পারো।

তুলনা অনেক হলো, এই গুম-খুন,
রক্তের শহরে চুপ থাকা ভালো নয়।
মগজে লালের বাস, লালাভ আগুন
নিভিয়ে সবুজ হও- স্নেহমায়াময়।
সুন্দর অপেক্ষা জানে, এই বিসঙ্গত
ঘৃণায় গোলাপ বুনে, মুছে দিয়ো ক্ষত।

জাকির জাফরান
কেউই তার মান ভাঙ্গাতে পারেনি

কেউই তার মান ভাঙ্গাতে পারেনি।
না গোলাপ
না গাঢ় নীল রঙের পুলিশ
এমনকি জলপাই-কমান্ডোরাও বুঝতে পারেনি তার মনের ভাষা।
ঘাড়ের উপরে ঠিক যেখানটায় বাবা চুমু খেত প্রতিদিন
যেখানটায় হাত রেখে মায়াবী ছোঁয়ায় গাল ভরিয়ে দিত জননী
আর প্রেমিকা চিমটি কেটে রোজ রোজ ক্ষেপাত তাকে-
সেখানেই
সেই স্বপ্নাচ্ছন্ন গভীর অঙ্গটাতেই কোপের পর কোপ, কোপের পর কোপ...
প্রথম কোপে রক্তাক্ত হলো বাবার চুমু
দ্বিতীয় কোপে দেহ থেকে আলাদা হয়ে গেল মায়ের আদর
আর তৃতীয় কোপে খসে পড়ল প্রণয়ের পাপড়িরা।
এখন সে অভিমানে চলে গেছে দূরে
বাবার চুমু থেকে দূরে
মায়ের আদর থেকে দূরে
প্রেমিকার চিমটি থেকে দূরে
এমনকি তার ঘাড়ের লালচে তিল থেকেও
সে এখন হাজারো আলোকবর্ষ দূরে।
কেউই তার মান ভাঙ্গাতে পারল না
না পুলিশ, না কমান্ডো
না গোলাপ, না ঠান্ডায় হিম হওয়া জনতার ক্রোধ।

মাহমুদ আল জামান
হাসপাতালে মুখোশ

সরিয়ে নাও মুখোশ : আমি দেখতে চাই না
নৃত্যধারার ছায়া যমের আবাস, কেবল চাই
সোনালি রোদ্দুরমাখা স্তব্ধতা।
প্রার্থনা লেগে থাকুক জামার আস্তিনে
স্পর্শ করো ক্লান্তির শাদা ফুল
ভয় আগ্রাসী হয়ে ওঠে।
দিনের পর দিন ছিলাম সর্বশূন্যতায়
কোথাও বৃক্ষের জন্য ছিল না মৃত্তিকা
তবুও অভিবাদন করি,
ঝড় বৃষ্টি বাদলের হাওয়া।
হাসপাতালের শাদা বেডে কিসের অপেক্ষা
যমদূত না মমতাময়ীর স্পর্শের আকাঙ্ক্ষা?
নদীর হাওয়ায় কেঁপে উঠুক
হৃদয়ের গহন মুদ্রা।

কাছে এসো
আমি সুস্থ হবো।
আমি তোমাকে দেবো আলো
শালিকের মমতা।

সরিয়ে নাও মুখোশ : আই ডোন্ট কেয়ার
এই হাসপাতাল।
এই সেবাসদনের গন্ধ
চিকিৎসকদের স্নিগ্ধ শুশ্রূষা
সরিয়ে ফেলো
আত্মজনের মুখে লগ্ন হয়ে থাকা মুখোশ
সরিয়ে ফেলো
সেবিকার জট পাকানো ভালোবাসা

সরিয়ে নাও মুখোশ
শালিকের মমতা নিয়ে বেঁচে থাকবো।

রেজাউদ্দিন স্টালিন
স্বাধীনতা

নিজের ভাষায় পড়ি এবং লিখিও
গাছগাছালির পাঠশালাতে শিখিও
আমার মুখের অর্থ বোঝে পিঁপড়ে এবং পাখিও

কিং সলোমন বুঝতো যেমন ঘাসফড়িংয়ের মর্ম
বুদ্ধ জানেন ফল পাবে সে যেমন তাহার কর্ম
সব প্রাণী চায় স্বাধীনতা মত প্রকাশের ধর্ম

কথার ওপর দু'ঠোঁট রেখে হাঁটছি
সারাজীবন শব্দে সাঁতার কাটছি

বিমল গুহ
এখুনি তা বলার সময়

আমরা বদল করি রূপ
আমরা বদল করি সভ্যতার আদি নিদর্শন
আমাদের মুখের আকৃতি কখনোবা,
এইসব দেখে দেখে মানুষের অবয়ব মুখস্থ করেছি।
মুখস্থ করেছি হিংস্রতা
মুখস্থ করেছি এই মানুষের মুখ!
যুগ-পরম্পরা এইসব মুখের আদল
মুখস্থ করে বেলা গেছে।

কী আর রয়েছে বাকি আর?
নুয়ে-পড়া মানুষের ছায়ামুখ বক্রাকৃতি ভাঁজ
দেখতে চাই না কোনোদিন;
মানুষের এইসব রূপ
উন্মুক্ত করে দিতে চাই আজ নবীন সমাজে,
যারা আমাদের মুখের গড়ন লোল-চামড়ার ভাঁজ
দেখতে শিখেছে।

আমরা এখনো প্রতিদিন পায়ে-চলা পথের হদিস খুঁজে ফিরি
মুখস্থ করি চেনা বাড়ির ঠিকানা
সহজে মুখস্থ করি মাতৃপিতৃ-পুরুষের নাম।
প্রতিচিন্তা চাকার আওয়াজ এতকাল মুখস্থ করেছি,
আটচল্লিশ গণপরিষদ সভা- হট্টগোল
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কণ্ঠে উচ্চারিত
মাতৃভাষার প্রথম আকুতি- মুখস্থ করেছি।
মুখস্থ করেছি ফি-বছর আমার গৌরবগাথা স্বাধীনতা দিন

এখুনি তা বলার সময় আমাদের প্রজন্মের কাছে!

মারুফ রায়হান
লাঙলের ফলা
রূপান্তরিত রাইফেলে

চুকনগরের কৃষককে আমি চিনি
একাত্তরে যাঁর লাঙলের ফলা
রূপান্তরিত হয়েছিল রাইফেলে
তাঁর দশ আঙুলই তো মাটি চিরে
বের করে আনতো ধান
সাবধান
তাঁকে অসম্মান কোরো না
ভুলেও যেও না দিতে তাঁকে যোদ্ধার সনদ

আমি জামিরার জেলেটিকেও স্মরণে রেখেছি
একাত্তরে তাঁর জালে শরপুঁটি আর খোলসের বদলে
ধরা পড়েছিল ঝাঁকে ঝাঁক
খানসেনা আর রাজাকার
খবরদার
তাঁকে ভাতাটাতা দেবার ধৃষ্টতা কোরো না

বাংলার কৃষক জেলে মুটে মজুর
যাঁরা জান বাজি রেখে লড়েছিল
আর যাঁরা কখনো পাতেনি হাত দুটো টাকা বা সনদের জন্যে
পারলে তাদের আজ জানাও অভিবাদন
পারলে মাথায় তুলে রাখো
গ্রামবাংলার সত্যিকার ছবি আঁকো...

শামীম হোসেন
আমিই তোমার গ্রন্থ

আমিই তোমার গ্রন্থ। পাঠ করো নিবিড় মগ্নতায়। প্রথম পাতা খুলতেই যদি প্রজাপতি উড়ে যায়- তাকে ধরো। বর্ণিল রঙে স্নান করে কেটে ফেলো নখের জ্যামিতি। নগ্ন হতে হতে ভাষার অধীনে যাও- কচুপাতায় লিখতে শেখো পিদিম পিরিতি। পৃথিবীর আয়ুরেখা ধরে যে নদী শিখিয়েছে সাঁতার কাহিনি- তার কাছে বসো। উবু হও। দৈত্যের ডানা কেটে চাঁদটাকে চুমু দিয়ে আসো।
আমিই তোমার গ্রন্থ- পাঠ করো আর নানা ব্যঞ্জনে বাজাও...

মাহবুবা ফারুক
একাকিত্ব পাঠ

হাঁটতে হাঁটতে যে নদীর কাছে থেমে যায় পথ
সে নদী আমার মা, নদী-মা
পুড়ে পুড়ে অবশেষে যে বটের ছায়া চিনে নিই
সে বটগাছ আমার বাবা
ফসল কেটে নেয়া ধানক্ষেত সখী লো
পুতুলের বিয়ে দিয়ে আয় গলাগলি কাঁদি
কাদাপায়ে বসে প্রতিবেশী পাখিদের কিচির মিচির শুনি
বাড়ি পৌঁছে দেয় যে রেললাইন সে তো ভাই
কাঁচামাটি পথ বেতঝোপ বোন হয়
ঝিঁঝিঁ আর জোনাকিরা খোঁজ নেয় মৌসুম ছাড়াও
গড়ানো জলের মতো সংসার বাড়ে প্রতিদিন
আকাশ বার বার বদলে দেয় পটভূমি
আমি কখনো একা ছিলাম না তো
কখনো একা ছিলাম না আমি। জন্মে কোনোদিন।

আকেল হায়দার
উষ্ণতা
একটা হেমন্তের স্নিগ্ধ বিকেল
একটা আলো ঝলমলে সন্ধ্যা
এক ফালি তরুণী চাঁদের লাবণ্য
আকাশভর্তি নক্ষত্রের প্রার্থনা
শীতল আবহে মুড়ে
সযত্নে তুলে রেখেছি হৃদতোরঙ্গে।

আজস্র ঘুমহীন রাত্রি শেষে
ফের কোনদিন এলে-
রাশি রাশি উষ্ণতার আদরে
তোমাকে বুকে জড়াবো বলে।

আরও পড়ুন

×