জাকার্তায় যাওয়ার কথাই ছিল না অর্পিতাদের!
এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফর্ম
জাকার্তায় উইমেন্স এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে শুক্রবার শক্তিশালী উজবেকিস্তানকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৪৬
প্রথমবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ। প্রথমবারই বাজিমাত অর্পিতা পালদের। এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফর্ম করা বাংলাদেশের মেয়েদের স্বপ্নপূরণ হয়েছে। প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের মূল পর্বের টিকিট কাটা আইরিন-কনাদের স্বপ্ন আরও উঁচুতে। বাছাইপর্বের শিরোপা মঞ্চে পা রাখার আশা। সেই আশা পূরণের লড়াইয়ে আজ মাঠে নামবে মেয়েরা। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দলটি।
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে অপরাজিত বাংলাদেশের পয়েন্ট ছিল ৭। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে দলটি চায়নিজ তাইপের সঙ্গে ৫-৫ গোলে ড্র করে। উজবেকিস্তান এবং সর্বশেষ হংকংকে পরাজিত করে মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেখিয়েছে। অথচ আর্থিক সংকটের কারণে জাকার্তায় এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে যাওয়াটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল বাংলাদেশের। অনিশ্চয়তার কারণে মেয়েদের নিয়ে ঠিকমতো পরিকল্পনা করতে পারেনি ফেডারেশন। কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি মেয়েরা। এ
মন সংকটের মধ্যেও বিদেশের মাটিতে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন অর্পিতারা। তাই এই মেয়েদের নিয়ে বেশ গর্বিত বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজুল হাসান (অব.)। সোমবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে হোয়াটসঅ্যাপে সমকালের সঙ্গে রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘মেয়েরা প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে কোয়ালিফাই করাটা আমাদের ফেডারেশনের জন্য বড় পাওয়া। আর্থিক সমস্যার কারণে এই দলটাকে ইন্দোনেশিয়ায় পাঠাতে পারব কিনা তা নিয়ে আমরা নিজেরাই শঙ্কিত ছিলাম। পরে সভাপতি উদ্যোগ নিয়ে যে টাকার সংকট ছিল, তা পূরণ করে দেন। যার জন্য দলটা সুন্দরভাবে ইন্দোনেশিয়ায় যেতে পারছে।’
এশিয়ান গেমস বাছাইয়ে না খেলতে পারলে মেয়েদের মন যেমন ভাঙত, তেমনি করে অন্য দেশগুলোর অবস্থানও বুঝতে পারতেন না বলে জানান সাধারণ সম্পাদক, ‘শুধু মেয়েদের মনই ভাঙত না। আমরাও বুঝতাম না অন্যান্য টিম কী পরিমাণে উন্নতি করেছে। ভিডিও দেখা আর চোখের সামনে খেলা ভিন্ন জিনিস। প্রতিটা টিম উন্নতি করেছে। বিশেষ করে উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, ইন্দোনেশিয়ায়ও উন্নতি করছে। শ্রীলঙ্কা যেভাবেই হোক কষ্ট করে হলেও বিদেশের মাটিতে সব টুর্নামেন্ট খেলে। তাদের টিমটাও আস্তে আস্তে তৈরি হচ্ছে।’
এতদিন মেয়েরা বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় খেলেছে। সে হিসেবে দুই থেকে তিনজন বাদে বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই অনভিজ্ঞ। তবে এবারের প্রতিযোগিতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। ‘তারা প্রমাণ করেছে যে তারা ভালো মানের দল। যদি এই দলটিকে সঠিক নার্সিং করা হয় তাহলে আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে ভালো একটা নারী টিম গঠিত হবে’–বলেন রিয়াজুল হাসান। সেপ্টেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমস। সময় খুব একটা নেই। তাই এই নারী দল নিয়ে এখনই পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার কথা জানান সাধারণ সম্পাদক, ‘এখন মেয়েরা যেহেতু এশিয়ান গেমসে কোয়ালিফাই করেছে। আমরা চেষ্টা করব তাদের নিয়ে একটা দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প করতে। এই ক্যাম্পে চেষ্টা থাকবে যেন ওদের এশিয়ান গেমসের আগে বিদেশে চার থেকে পাঁচটা টিমের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থা করা। হতে পারে বিদেশে যাব, না হয় দেশের মাটিতে এনে খেলাব।’
- বিষয় :
- হকি
