ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই পূর্ণতা

পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই পূর্ণতা
×

সেকান্দার আলী, অ্যাডিলেড থেকে

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২২ | ১৪:১৫

বাংলাদেশ সেরা টি২০ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছে। সুপার টোয়েলভে দুটি জয়ের পর রেকর্ডবুকে সেটাই লেখা থাকবে। তাই শেষটা জয়ে রঙিন হলে তা হবে গর্বের। বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানকে হারিয়ে সেই অহমের জায়গা নিতে চায়। তাতে সেমিফাইনাল খেলা হোক বা না হোক, কিছু যায়-আসে না। কারণ, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কিছু পাওয়া হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জেতা। টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট শ্রীধরন শ্রীরামের বিশ্বাস, পাকিস্তানকে হারাতে পারবে বাংলাদেশ। কোচের এই বিশ্বাসের ভিতটা তৈরি করে দিয়েছে ভারতের বিপক্ষে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ। যে ম্যাচ হেরে গেলেও প্রাপ্তির খাতার পাতায় পাতায় লেখা রয়েছে অর্জন। অ্যাডিলেড ওভালের সেই আত্মবিশ্বাসই কাজে লাগাতে চান সাকিব আল হাসানরা। অনুরূপ বিশ্বাস পাকিস্তান দলেও আছে। শান মাসুদ জুম সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট বলেছেন, ম্যাচটি তাঁরাই জিতবেন।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রীরাম বা মাসুদের কেউই কথার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হননি। এমনকি সাকিব যেমন ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মেন্টাল গেম খেলেছিলেন, তেমন কিছুও করেননি তাঁরা। যে যাঁর অবস্থান থেকে নিজেদের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার চেষ্টা করে গেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে- দুই দলের দুই প্রতিনিধি জয়ের ব্যাপারে এতটা আত্মবিশ্বাস হন কী করে? মাসুদের ইতিবাচক হওয়ার কিছু কারণ তো রয়েছেই। টি২০-তে বাংলাদেশের বিপক্ষে বরাবরই ভালো খেলেন তাঁরা। ১৭ ম্যাচ খেলে ১৫টিতেই জিতেছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো হয়েছে একপেশে। ২০০৯ আর ২০২১ সালের বিশ্বকাপে শুধু মুখোমুখি হয়নি এ দুই দল। বাকি পাঁচ বিশ্বকাপের প্রতিবারই একপেশে খেলে জিতেছে পাকিস্তান। পরিসংখ্যানের এই দিকগুলো বিবেচনায় নিলে নিশ্চিত জয় ধরে নিতে পারেন মাসুদ। কিন্তু টি২০ ক্রিকেটে পরিসংখ্যান প্রভাবক হিসেবে তেমন একটা কাজ করে না। ক্রিকেটের এই সংস্করণটা এমন সতেজ যে, নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেলে জিততে হয়। এই বৈচিত্র্যের কারণেই টি২০-তে ছোট ও বড় দলের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য থাকে না। জয়-পরাজয়ের ব্যবধানটাও ছোট থাকে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস এই একটি জায়গাতে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ ভালো ক্রিকেট খেলে জিততে চায় বাংলাদেশ। শ্রীরামের বিশ্বাস সেখানেই, 'আমাদের কাছে প্রতিটি গেমই আলাদা। একটি প্রতিপক্ষকে নিয়েই পরিকল্পনা করি। প্রতিটি ম্যাচ জেতার জন্য খেলি। তবে আমরা পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডে তাদের বিপক্ষে খেলেছি। তাদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রয়েছে। সুতরাং আমরা নিজেদের সেরাটা খেলার চেষ্টা করব।'

ভারত বা দক্ষিণ আফ্রিকার একটু বেশি পয়েন্ট থাকলে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ম্যাচটি আনুষ্ঠানিকতার মর্যাদা পেত। কিন্তু কোনো দলেরই যেহেতু সেমিফাইনাল খেলা নিশ্চিত হয়নি, তাই গুরুত্বটা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে আজ যদি নেদারল্যান্ডস দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দেয়, তাহলে সেমির লড়াই জমে ক্ষীর। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের যে কোনো এক দল সেমিফাইনাল খেলবে। যদিও এ দুই দল মাঠে নামার আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা-নেদারল্যান্ডসের ম্যাচের ফল হয়ে যাবে। এর পরও কথা থাকে, ভারত-জিম্বাবুয়ে ম্যাচটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে সেমিফাইনালের মুলা পাতে নিয়ে। বাংলাদেশের তাতে আপত্তি নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে তারা জিতলেই খুশি।

বাংলাদেশকে শেষটা রাঙাতে হলে 'আউট অব দ্য বক্স' ক্রিকেট খেলতে হবে। ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডার প্রত্যেক ব্যাটারকে দায়িত্ব নিতে হবে, যেটা গত পাঁচ ম্যাচে দেখা যায়নি। সবচেয়ে বড় কথা, সাকিব আল হাসানকে জ্বলে উঠতে হবে অলরাউন্ডার ভূমিকায়। কারণ, এই বিশ্বকাপে এখনও রান পাননি তিনি। ওপেনিং জুটিতে লিটন কুমার দাস থাকলে ভালো কিছু হতেও পারে। যদিও ভারতের বিপক্ষে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়েছিল তাঁর। এ জন্য গত দু'দিন অনুশীলন করেননি। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানান, লিটন খেলতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে একাদশে পরিবর্তন করা হলে একটির বেশি নয়। কন্ডিশন স্পিন সহায়ক দেখালে একজন স্পিনার বাড়বে। উইকেট স্পোর্টিং দেখালে শরিফুল ইসলামের জায়গায় এবাদত হোসেনকে দেখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

×