ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশেষ কলাম

কোচদের জন্যও এখন পরীক্ষা

কোচদের জন্যও এখন পরীক্ষা
×

গোলাম রব্বানী ছোটন

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০২২ | ২১:১৮

বিশ্বকাপের আসল রোমাঞ্চ কোয়ার্টার ফাইনালে হয়েছে। ব্রাজিলের বিদায় নেওয়াটা যেমন অপ্রত্যাশিত ছিল, তেমনি মরক্কোর উত্থানও চমক-জাগানিয়া। আমরা কেউই মরক্কোকে ওইভাবে আমলে নিইনি। আমি বলব, তারা সেমিফাইনালে এসেছে সম্পূর্ণ নিজেদের যোগ্যতায়। মেধার প্রয়োগ এবং কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছে মরক্কো। পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে তারা গোল দেওয়ার পর যেভাবে ডিফেন্সটা সামলিয়েছে, তা এককথায় অসাধারণ। ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া দুটোই ভালো দল। আমি মনে করি, সেদিন ব্রাজিলের দুর্ভাগ্য ছিল। আগে গোল করেও শেষ মুহূর্তে ডিফেন্সের ভুলে গোল হজম করে টাইব্রেকারে যেতে হয়েছে ব্রাজিলকে। পেনাল্টি শুটআউটেও স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা। ম্যাচের শুরু থেকে ক্রোয়েশিয়া রক্ষণাত্মক যে ফর্মুলা ব্যবহার করেছিল, তাতে পুরোপুরি সফল হয়েছে। এরপর কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করা- সবকিছুই পরিকল্পনার ফল। লুকা মডরিচ, প্যারিসিচরা যে মানসম্পন্ন খেলোয়াড়, তা তো মাঠেই প্রমাণ হয়েছে। শনিবার ফ্রান্স আবারও দেখিয়েছে, তারা কেন বিশ্বসেরা। ইংল্যান্ডের দুর্ভাগ্য, হ্যারি কেইনের মতো তারকা ফুটবলার পেনাল্টি মিস করেছেন। শেষ মুহূর্তে প্রত্যাশার চাপে ভেঙে পড়া কেইন শটটি মেরেছেন পোস্টের ওপর দিয়ে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে আমাকে মুগ্ধ করেছে মরক্কো।

এখন সেমিফাইনালের হিসাব কষছে চার দল। আর্জেন্টিনার সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ নিয়ে আলোচনা বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। ২০১৮ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে এই ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরেছিল লিওনেল মেসির দল। কাতার বিশ্বকাপে আমি মনে করি, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার জন্য বড় পরীক্ষা ক্রোয়েশিয়া। এটা এমন একটা জায়গা, যেখানে ভুল করলেই সর্বনাশ। আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া দুটো দলই ভালো এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। আমি মনে করি, লড়াই হবে ট্যাকটিক্যালের। আর ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে রাখব। তাদের মাঝমাঠ বিশ্বকাপের সেরা। আমার কাছে এখন মনে হচ্ছে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচদের জন্যও বড় পরীক্ষা। ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম, মরক্কোর ওয়ালিদ রেগরাগুই, আর্জেন্টিনার লিওনেল স্কালোনি ও ক্রোয়েশিয়ার জল্গাতকো দালিচের জন্য এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কীভাবে আটকাতে হবে- সেই ছক কষতেই এখন তাঁদের সময় পার হয়ে যাওয়ার কথা। এই চারজনের মধ্যে মরক্কোর ওয়ালিদ ছাড়া বাকি তিনজনই অভিজ্ঞ। গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার কোচ একই আছেন। অনেক দিন ধরে আর্জেন্টিনার কোচের চেয়ারে আছেন স্কালোনি। আর মরক্কোর কোচ তো কয়েক মাস আগে দায়িত্ব পেয়েছেন। মরক্কো যে আজকে এই পর্যন্ত এসেছে, সে জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে কোচ ওয়ালিদকেও। বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালকে হারানোর কৌশল তো তিনিই ঠিক করেছেন। তিনি খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত রাখা এবং ট্যাকটিক্যালি কাজ করাতেই এই সাফল্য আফ্রিকান দেশটির। শুরু থেকে এ পর্যন্ত একই পরিকল্পনায় দলকে খেলিয়েছেন।

সেমিফাইনালের ম্যাচগুলো হবে কোচদের মস্তিস্কের এবং সাইকোলজিক্যাল লড়াই। ম্যাচের দিন যে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারবে, তারাই সফল হবে। এখন প্রত্যেক কোচের মাথাতেই একটা চিন্তা- এই ম্যাচ জিততেই হবে। কারণ, সেমির গণ্ডি পার হলেই তো বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনাল। এরই মধ্যে ইতিহাস গড়েছে মরক্কো। এখন আর একটা ম্যাচ জিতে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নামটি আরও সুসংহত করার ইচ্ছা মরক্কো কোচের।

আরও পড়ুন

×