এইচপিতে আর ধারে কোচ নয়
সেকান্দার আলী, চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ | ১০:১২
জাতীয় দল বিদেশি কোচে ঠাসা। প্রধান কোচের সঙ্গে প্রতিটি বিভাগের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় আলাদা কোচ। সেই কোচদের নিজস্ব স্টাইলে কাজ করতেও দেখা যায়। জাতীয় দলে ব্যাটার এবং বোলারদের টেকনিক শেখাতে ব্যস্ত থাকেন অনেকেই। রিচার্ড ম্যাকিন্স তেমন একজন ব্যাটিং কোচ ছিলেন, যিনি কিনা লিটন দাসকে নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। বর্তমান ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সও একই কাজ করছেন। এর পরও ধারাবাহিক ব্যর্থ হচ্ছেন ব্যাটাররা।
দিন শেষে কোচরা আক্ষেপ করে বলেন, শেখাচ্ছি এবং অনেক কাজ করেও সুফল পাচ্ছি না। কিছুদিন আগে জেমি এটাও বলেছেন, জাতীয় দলে এত কম সময়ে বেশি কিছু শেখানো যায় না। এ কারণে অবসর সময়ে ব্যাটারদের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনাও দিতে চান তিনি। জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের কাছ থেকে এমন প্রস্তাব পেয়ে বিসিবি কর্মকর্তারাও খুশি। এই প্রক্রিয়াতেও খুব একটা লাভ নাও হতে পারে।
বিসিবি এইচপি (হাই পারফরমেন্স ইউনিট) চেয়ারম্যান নাঈমুর রহমান দুর্জয় মনে করেন, ক্রিকেটারদের বেসিক ঠিক করতে হবে বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকেই। এইচপিতে ভালো মানের দেশি-বিদেশি কোচ থাকলে সঠিক ক্রিকেটটা শিখে জাতীয় দলে যেতে পারবেন ক্রিকেটাররা।
এইচপিতে দু'জন বিদেশি কোচ থাকেন। বাকিরা দেশি এবং গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থেকে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় বছর বছর কোচ পরিবর্তন হয়। ক্রিকেটাররা এতে করে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। এইচপি চেয়ারম্যান দুর্জয় বলেন, 'আমি চাচ্ছি এইচপির নিজস্ব কোচিং সেটআপ গড়ে তুলতে। অন্য বিভাগ থেকে ধারে কোচ নিতে চাই না। এতে করে যেটা হয়, ক্রিকেটাররা একজন কোচের অধীনে লম্বা সময় ধরে বেসিক নিয়ে কাজ করতে পারে না। বারবার কোচ পরিবর্তন হলে যেটা হয়, একজন কোচ গ্রিপ বা স্ট্যান্স একভাবে দেখাচ্ছে। অন্য কোচ এসে হয়তো অন্যভাবে দেখাচ্ছে। এতে করে ক্রিকেটাররা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। তখন তারা বুঝতে পারে না কোনটায় থাকবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট খেলোয়াড়ের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থেকে যায়। আমাদের এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাই পাপন ভাইকে বলেছি, এইচপির জন্য বিদেশি এবং দেশি ভালো মানের কোচিং সেটআপ দেওয়ার জন্য। তিনি একমত হয়েছেন। সিইও সুজন ভাই (নিজামউদ্দিন চৌধুরী) বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। আশা করি, এ বছরই এইচপির কোচিং স্টাফ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।'
প্রধান কোচ, পেস ও স্পিন বোলিং কোচের পাশাপাশি ট্রেনার, ফিজিও বিদেশি নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে দুর্জয়। প্রতিটি বিভাগে একজন করে দেশি কোচকে সহকারী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে বিদেশি কোচের অনুপস্থিতিতে দেশি কোচরা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা গেলে বিদেশি কোচদের বছরব্যাপী রাখার প্রয়োজনও হবে না। বিসিবির খরচও কম হবে। বেশি লাভবান হবেন ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাই। কারণ, এইচপি থেকে যে পরিকল্পনা দেওয়া হবে, তা বাস্তবায়ন করতে লিগের খেলাতেও চর্চা চালাতে পারবেন।
এইচপি চেয়ারম্যান দুর্জয়ের মতে, 'টি২০ বিশ্বকাপ চলাকালে ম্যাথু হেইডেনের সঙ্গে কথা বলেছি। ভালো কিছু ধারণা পাওয়া গেছে তাঁর কাছ থেকে। এইচপি কাঠামো নিয়ে আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। জাতীয় দলের শক্তিশালী পাইপলাইন গড়ে তোলার জন্যই এইচপিকে শক্তিশালী কাঠামো দেওয়া জরুরি। কারণ, লিগে খেলে বা বয়সভিত্তিক থেকে ক্রিকেটার আসে এইচপিতে।'
লিগ মৌসুম শেষ হলেই এইচপির কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরু হবে। বিশেষজ্ঞ কোচ দিয়ে নির্দিষ্ট স্কিল ক্যাম্প পরিচালনা করবে বিসিবি। পেস বোলিং কোচ চম্পকা রমানায়েকে দিয়ে গত বছর লম্বা ক্যাম্প হয়েছে এইচপির। যেটার সুফল জাতীয় লিগ, বিপিএল এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।
