ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এনরিকে কি পিএসজির রোগ সারাতে পারবেন

এনরিকে কি পিএসজির রোগ সারাতে পারবেন
×

পিএসজির কোচ হয়েছেন স্পেনের লুইস এনরিকে। ছবি: ফাইল

জহির উদ্দিন মিশু

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৩ | ০৪:১৯ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৩ | ০৪:১৯

কথায় আছে, সর্বাঙ্গে ব্যথা ওষুধ দেব কোথা! পিএসজির অবস্থা এখন অনেকটা এমন। শুধু আক্রমণভাগ নিয়ে সমালোচনা করলে হবে না; তাদের মাঝমাঠ, এমনকি রক্ষণভাগও রোগে আক্রান্ত। এই রোগ কিন্তু সেই রোগ নয়, তবে তীব্রতা আসল রোগের চেয়ে কম না।

গত কয়েক মৌসুমে পিএসজির মালিকপক্ষ কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ঢালছে। যখন যে তারকা তাদের চোখে পড়ছে, তাঁকে নিয়ে আসছে প্যারিসে, সেটার ফি যত লাগুক না কেন! কিন্তু তারকা আর অর্থ ঢেলেই যে সফলতা আসে না, সেটা এত দিনে বুঝল কিনা কে জানে? 

তবে এবার একটু রয়েসয়ে খরচ করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। এমনকি তারকাদের প্রতিও খুব বেশি নজর নেই। তবে তারকা খেলোয়াড় না আনলেও তারকা কোচ কিন্তু এরই মধ্যে নিয়োগ দিয়েছে লিগ ওয়ানের ক্লাবটি। বার্সার সাবেক সফল কোচ লুইস এনরিকেকে দেখা যাবে নতুন মৌসুমের পিএসজির ডাগআউটে।

কিন্তু এনরিকে কি পারবেন এত এত রোগ সারাতে? প্রশ্নটা এখনই ঘুরপাক খাচ্ছে পিএসজি সমর্থকদের মাথায়। তাঁকে যে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে সব। আক্রমণভাগে যাও তিন তারকা ছিল, এখন তাদের একজন একদিকের পথিক। লিওনেল মেসি চলে গেছেন ইন্টার মায়ামিতে। নেইমার গত মৌসুমের সিংহভাগ সময় ছিলেন চোট পরিচর্যায় ব্যস্ত। এবার কেমন করেন, সেটাও বলা যাচ্ছে না। 

বাকি একজন কিলিয়ান এমবাপ্পে থেকেও নেই। তাঁর সঙ্গে পিএসজির রশি টানাটানি চলছে অনেক দিন থেকেই। নতুন চুক্তি না করলে তাঁকে এই গ্রীষ্মেই বেচে দেবে পিএসজি। আর ক্রেতা হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদ একপায়ে দাঁড়িয়ে। যদিও কিলিয়ান চাইছেন ২০২৪ সালের জুন অবধি, অর্থাৎ চুক্তির মেয়াদ শেষ করে তবেই প্যারিস ছাড়তে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বেশ দূরত্ব। শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের মুখে হাসি ফেরাতে পারবেন কিনা এনরিকে, সেটাও দেখার অপেক্ষা।

মাঝমাঠের দুর্বলতা গত মৌসুমেও টের পাওয়া যায়। রিয়াল ইউরোপে এতটা সফল হওয়ার কারণ কিন্তু মাঝমাঠে গুরুত্ব দেওয়া। তারা সব সময় এখানটায় অভিজ্ঞদের সঙ্গে তারুণ্যের একটা রসায়ন মেলাতে চায়। আগামী মৌসুমেও লস ব্লাঙ্কোসদের সেই রূপে দেখা যাবে। অথচ পিএসজির নেই সেই মাপের কোনো মিডফিল্ডার, যেটা তাদের অনেকটা ভোগাচ্ছে। 

রক্ষণভাগে এক ব্রাজিলিয়ান মার্কিনিউস ছাড়া আর কাউকে চোখে পড়ে না। তাতে একদিক থেকে গোল হলেও প্রতিপক্ষ ম্যাচে ফিরতে পারে সহজে। এ তো গেল মাঠের সমস্যা, মাঠের বাইরের সমস্যাও কম নয়। দর্শকের মন ঠিক রাখা, মালিকপক্ষের চাপ সামলানো– সব মিলিয়ে তারকা কোচ এনরিকেকে হয় বিজয়ের পতাকা ওড়াতে হবে, না হয় পেছনের দরজা দিয়ে বিদায় নিতে হবে আগের কোচদের মতোই।

আরও পড়ুন

×