মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ করোনা: যোগিন্দর
ছবি: ইন্ডিয়া টেলিগ্রাফ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২০ | ০৪:০৬ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২০ | ০৫:২৩
ভারতকে ২০০৭ বিশ্বকাপ এনে দেওয়া পেস অলরাউন্ডার যোগিন্দর শর্মা এখন করোনার বিপক্ষে জয়ের লড়াইয়ে আছেন। হরিয়ানা পুলিশের ডেপুটি সুপারিনডেন্ট তিনি। পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে তাকে এখন লোকজনকে ঘরে থাকতে উৎসাহিত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ক্রিনইনফোকে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন: পুলিশে ঢোকার পর এটাই কি সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়?
যোগিন্দর: খেলা ছেড়ে পুরোদস্তুর পুলিশ হিসেবে ২০১৭ সাল থেকে কাজ করছি। অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষ মারা যাচ্ছে। আমাদের তাই তাদের জীবন রক্ষার জন্য কাজ করতে হচ্ছে। নিজেদেরও রক্ষা করতে হচ্ছে।
প্রশ্ন: এখন দিন শুরু হচ্ছে কখন?
যোগিন্দর: আমার দিন শুরু হয় সকাল ছয়টায়। আজ কাজ শুরু করেছি সকাল নয়টায়। বাসায় যাচ্ছি রাত আটটায়। বাসায় গিয়েও আমার জরুরি ফোনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয় সবসময়।আমি ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। না বলতে পারবো না।
প্রশ্ন: এখানকার লোকজনের করোনা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা আছে?
যোগিন্দর: তারা জিজ্ঞেস করেন করোনা কি। কিভাবে ছড়ায়। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। অনেকের বাড়িতে টেলিভিশন নেই। অন্যভাবে বার্তা পাওয়ারও মাধ্যম নেই। তবে অধিকাংশ মানুষই সচেতন।
প্রশ্ন: লোকজন কী আপনাকে বিশ্বকাপ জয়ী হিসেবে চিনতে পারে?
যোগিন্দর: অনেকেই পারেন। মাস্ক পরে কাজ করার পর থেকে অনেকে নাম ফলক দেখে চিনতে পারেন। অনেকে সেলফি, অটোগ্রাফ চান। আমি তাদের বলছি, অনুগ্রহ করে এই সংকট কেটে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুণ।
প্রশ্ন: আপনার মতো স্বাস্থ্য সেবা কর্মীরাও ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। আপনার কি নিজেকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন?
যোগিন্দর: আমার মতে ডাক্তার, নার্স এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। আমি অবশ্য একটা সময় কিছুটা ভয় পাচ্ছিলাম। লক ডাউনের সময় বিভিন্ন প্রদেশ থেকে লোকজন বাড়ি ফিরছিলেন। আমি এবং আমার সহকর্মীরা তাদের বিষয়টি বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।
প্রশ্ন: পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ সময় কাটিয়েছেন কবে?
যোগিন্দর: আমার পরিবার হাইশার থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে থাকে। যেতে দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগে। কিন্তু এখন পরিবারের কাছে যাওয়ার কথা ভাবছি না। কারণ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সঙ্গে আমাদের চলাফেরা। তাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাই না।
