কিছু জট খুলবেন হাথুরুসিংহে
কলম্বো থেকে বুধবার ঢাকায় পৌঁছান চন্ডিকা হাথুরুসিংহে - সংগৃহীত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০
এশিয়া কাপের দল গোছানো নিয়ে দু-একটি জায়গায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছুদিন ধরে দোটানায় রয়েছেন জাতীয় দলের নির্বাচকরা। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও নতুন অধিনায়কের জন্য অপেক্ষা তাদের। হাথুরুসিংহে বড় ছেলেকে নিয়ে গতকাল ঢাকায় ফিরেছেন ছুটি থেকে। তিনি এসে যাওয়ায় জাতীয় দলের আনুষ্ঠানিক অনুশীলনও শুরু হবে আজ। ১৫ জনের দল নির্বাচনের জটও খুলবে কোচের সঙ্গে জাতীয় দল নির্বাচকদের মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে। শুধু দল নির্বাচন করলেই হবে না, অধিনায়কের সুরাহাও হতে হবে। কারণ, ১২ আগস্টের মধ্যে অধিনায়কসহ এশিয়া কাপের দল দিতে হবে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলকে (এসিসি)।
বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস দু’দিন আগে মিডিয়ায় বলেছিলেন, তিন দিনের মধ্যে অধিনায়ক এবং দল দুটিই দেওয়া হবে। সে হিসেবে কালকের মধ্যে দল ও অধিনায়কের নাম জেনে যাওয়ার কথা সবার। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট বাস্তবতায় সবকিছু এতটাই অনিশ্চিত থাকে যে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
মূলত এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের সঙ্গে জড়িয়ে এশিয়ান গেমসের দল। এশিয়ান গেমসের প্রাথমিক স্কোয়াডে থাকা দু-একজন ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে নেওয়া হতে পারে। সেটা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গেমসের জন্য ১৫ জনের দল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অথচ গেমসের জন্য দল চেয়ে বিসিবিকে তাড়া দিচ্ছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।
তানজিদ হাসান, জাকির হাসান, নাঈম শেখ, শেখ মেহেদীরা এশিয়ান গেমসের প্রাথমিক দলে রয়েছেন। আবার এশিয়া কাপের দলের ক্যাম্পেও আছেন তারা। তাই জাতীয় দল ঠিক না হওয়া পর্যন্ত গেমসের দল চূড়ান্ত করতে পারছেন না। একবার গেমসের জন্য ১৫ জনের দল ঘোষণা করা হলে সেখান থেকে ক্রিকেটার নিতে পারবে না বিশ্বকাপ দলে। কারণ, এশিয়ান গেমস চলাকালেই মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপ। এ কারণে কোচের জন্য নির্বাচদের অপেক্ষা।
হাথুরুসিংহে-নির্বাচকদের বৈঠকে গুরুত্ব পাবে ভারসাম্য নীতি। কারণ, এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের পুলে বেশি ক্রিকেটার রাখা হলে গেমসে শক্তিশালী দল পাঠানো কঠিন হয়ে যাবে। বিসিবি চায় না গেমসে সাদামাটা দল পাঠাতে। এর সমাধান খুঁজতেই আজকের সভা। কিন্তু অধিনায়কের বিষয়ে কী হবে কেউ জানে না। কারণ, অধিনায়ক নির্বাচনের এককভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
গতকাল পর্যন্ত জানা যায়নি সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন কিনা। অধিনায়ক নির্বাচন করতে দেরি হওয়ায় এদিকে আবার গুঞ্জনের ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। এশিয়া কাপে সাকিবের নেতৃত্বে না থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে। গতকাল এমন শোনা গেছে, সাকিব যে শর্ত দিয়েছেন, সেগুলোর সমাধান না হওয়ায় অধিনায়ক ঘোষণায় বিলম্ব। আবার একটি মহল থেকে সাকিবকে অধিনায়ক না করার অনুরোধ গেছে বিসিবি সভাপতি পাপনের কাছে। তারাই অধিনায়ক হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজের নামের প্রস্তাবক।
এ কারণে পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা ডেকে অধিনায়কের নাম জানতে চেয়েছেন পাপন। ‘হ্যাঁ’ ভোটে যেখানে জয়যুক্ত হয়েছেন সাকিব। এর পরও কেন অধিনায়ক ঘোষণায় কালক্ষেপণ করছে বোর্ড? বিষয়টি সত্যিই রহস্যের চাদরে মোড়া!
