প্রবাসীতে পদকের স্বপ্ন
সাখাওয়াত হোসেন জয়
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৩ | ০৪:৪৯
জন্ম, বেড়ে ওঠা বিদেশে। কিন্তু তাদের শরীরে বইছে বাংলাদেশের রক্ত। জন্ম যে দেশেই হোক না কেন; জামাল ভূঁইয়া, ইমরানুর রহমান, জিনাত ফেরদৌসদের পরিচয় এখন তারা বাংলাদেশি। উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং প্রবাসী জীবনকে তুচ্চ বানিয়ে নাড়ির টানই লাল-সবুজের দেশে নিয়ে এসেছে তাদের। ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভূঁইয়া তো এখন দেশের ফুটবলের পোস্টারবয়। তাঁর সঙ্গে ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক রায়হান কাজিকে ধরা হচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবলের আগামীর তারকা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে স্বপ্নের সারথি লন্ডনে বেড়ে ওঠা ইমরানুর রহমান। তাদের আগে লাল-সবুজের হয়ে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন আরও অনেক প্রবাসী অ্যাথলেট।

এবার নতুন সংযোজন আমেরিকান প্রবাসী বক্সার জিনাত ফেরদৌস। নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা এ বক্সার চীনের হ্যাংঝুতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। প্রবাসী অ্যাথলেটদের ঘিরেই এশিয়াডে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা।
বক্সার জিনাত ফেরদৌসের বাঁকবদলের গল্পটা এক মাসের মধ্যেই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মধ্য জুলাইয়ে জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের আমন্ত্রণে ২৯ বছর বয়সী জিনাত এসেছিলেন ঢাকায়। রিংয়ে উঠে বাংলাদেশি বক্সারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। তার পারফরম্যান্সে ছড়িয়েছে মুগ্ধতা। তাতে খুলে যায় স্বপ্নের দুয়ার। কিন্তু এশিয়ান গেমসে খেলতে হলে বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। এর সঙ্গে লাগবে নিউয়র্কের যেখানে বক্সিং খেলেন, সেখানকার অ্যাসোসিয়েশনের অনুমতি। তাঁর স্বপ্নপূরণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদক জয়ের আশায় বিওএর কর্তারাও চালিয়ে যান সব চেষ্টা। প্রচেষ্টার ফল এশিয়াডে রিংয়ে উঠবেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জিনাত।

গতকাল সমকালের সঙ্গে জিনাতের এশিয়ান গেমসে খেলার বিষয়টি বলতে গিয়ে বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তুহিন আবেগে ভেসে যান, ‘তার (জিনাত) পাসপোর্টসহ সবকিছু হয়ে গেছে, সে খেলবে। তার খেলার জন্য যা কিছু করার প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়েছে।’
অথচ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হয়ে কোনো নারী বক্সারের খেলার কথা ছিল না। দু’জন পুরুষ বক্সার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৩৭ বছর পর এশিয়াডে পদকের আশাই জিনাতকে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তুহিন, ‘৫০ কেজি ওজন শ্রেণিতে আমাদের দেশীয় বক্সারের চেয়ে জিনাতের রেজাল্ট ভালো। আমার বিশ্বাস, সে ভালো খেলবে। আমি আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারব না, সে পদক পাবে। তবে আমার বিশ্বাস এবং আস্থা আছে।’
-64e19b346e838.jpg)
সেই আস্থার প্রতিদান দিতে তৈরি জিনাত। নিউইয়র্কের আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা হওয়া এ বক্সারের বাবা-মা দু’জনই বাংলাদেশি। বাবা বেলায়েত হোসেনের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ এবং মা শাহনাজ ফেরদৌসের বাড়ি পাবনায়। ১৯৮৭ সালে এই দম্পতি পাড়ি জমান আমেরিকায়। সেখানে জন্ম নিলেও নিছক ঘুরার জন্য পাঁচবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। তবে গত জুলাইয়ে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে এশিয়াডে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন। সেই স্বপ্ন তো এখন বাস্তব। নিউইয়র্কের গুগল অফিস থেকে হ্যাংঝুর রিংয়ে উঠে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানোর স্বপ্ন জিনাতের। তাঁর হাত ধরে ৩৭ বছরের পদক খরা ঘোচাতে চায় বক্সিং ফেডারেশন।
১৯৮৬ এশিয়াডে বক্সিং থেকে বাংলাদেশকে ব্রোঞ্জ এনে দিয়েছিলেন মোশাররফ হোসেন। জিনাতের আগে প্রবাসী বক্সার হিসেবে রিংয়ে উঠেছিলেন ইংল্যান্ড প্রবাসী ব্রায়ান আহমেদ। কিন্তু ১৯৯৩ সাউথ এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশা পূরণ ব্যর্থ হওয়ায় হারিয়ে যান তিনি। কয়েক বছর আগে ইংল্যান্ড প্রবাসী বক্সার আল সাফওয়ান উদ্দিনকে আনলেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ফাইটিংয়ে মুগ্ধ ছড়ানো আমেরিকান বক্সার জিনাতকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন বাংলাদেশের।
- বিষয় :
- বক্সার জিনাত
- জিনাত ফেরদৌস