ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বিশেষ লেখা

তামিমের ব্যাটিং মিস করব

তামিমের ব্যাটিং  মিস করব
×

সাকিব আল হাসান

আকরাম খান

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৩ | ২২:০০ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৩ | ২২:০০

এই বিশ্বকাপের পরিকল্পনা চার বছর আগে করেছিলাম। বাংলাদেশ দলের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো যোগ দেওয়ার পর পরিকল্পনা করা হয়। কারণ, ভারতের কন্ডিশন বাংলাদেশের কন্ডিশনের কাছাকাছি। সেটা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে দলটাকে গোছানো হয়েছে। বিশ্বকাপ সুপার লিগে খুব ভালো খেলেছে। পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে ছিল। সম্প্রতি এশিয়া কাপ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো করতে পারেনি। আমি আশাবাদী, বিশ্বকাপের শুরু থেকে ছন্দ দেখাবে। 

বিশ্বকাপের আগে বাইরের কিছু বিষয় নিয়ে বেশি চর্চা হয়েছে। সব সময় যেটা হয়ে থাকে। আমরা এটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। যে কোনো বড় টুর্নামেন্টের আগে আমাদের আলোচনায় নিয়ে আসে। আমার একদম অপছন্দ এটা। কারণ, সবাইকে সম্মান করা উচিত। একটা জিনিস মানতে হবে, আমরা দেশের জন্য খেলি। সবার ওপরে দেশ। বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে কাল (আজ) থেকে। আমাদের দলের খেলা ৭ অক্টোবর। আশা করব, পেছনের ঘটনা ভুলে সবাই বাংলাদেশ দলকে সমর্থন করবেন। আমরা টিম বাংলাদেশের সাফল্য চাই। প্রস্তুতি পর্ব শেষ করে বাংলাদেশ দল ধর্মশালায় গেছে। এখনও সবকিছু ঠিক আছে। বোলিং, ফিল্ডিং নিয়ে আমি খুশি। বোলিংটা খুবই ভালো, ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করেছে। এ দুই বিভাগে ভালো করবে। সে তুলনায় ব্যাটিং হচ্ছে না। ধারাবাহিকতা নেই বললে চলে। বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে তিন বিভাগে ক্লিক করতে হবে। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা চলে এলে অলআউট ক্রিকেট খেলা সম্ভব হবে। তখন আমরা সব ম্যাচে ভালো খেলব। 

নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার জন্য এশিয়া কাপ বড় মঞ্চ ছিল। বিশ্বকাপজয়ী ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেলা ছিল। আফগানিস্তানও বিশ্বকাপের দল। বিগত তিন বছর যে মানের ক্রিকেট খেলেছি আমরা, সেখানে এশিয়া কাপে ভালো করার কথা ছিল। কিন্তু ওরকম ভালো করতে পারিনি, যেটা আমাদের একটু হলেও ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছি, ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেছি। গা গরমের ম্যাচগুলো থেকে যেটা দেখলাম, বিশ্বকাপে রানের উইকেট হবে। ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ রান নিয়মিত হবে। এ ধরনের কন্ডিশনে ম্যাচ জিততে হলে ব্যাটারদের দায়িত্বশীল হতে হবে। বোলারদের বড় স্কোর দিতে না পারলে ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে যাবে। একদিকে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে, অন্যদিকে হাফ ব্যাটার, হাফ বোলার খেলালে প্রথম চার ব্যাটারকে রান করতে হবে। 

ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা ৫০ ওভারের ক্রিকেট যে স্টাইলে খেলে, সেটা অনুসরণ করছে অন্য দলগুলো। আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে বড় স্কোর তাড়া করার। আগে ব্যাটিং করলে বড় টার্গেট দিতে হবে। রান কম নিয়ে জেতা সম্ভব হবে না। ঢাকায় যেটা সহজে করে ফেলি, রান কম হলেও বোলিং দিয়ে ম্যাচ জিতে নিই। কিন্তু বিশ্বকাপের উইকেট থেকে বোলারদের সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই বড় স্কোর করতে হলে এক থেকে পাঁচ নম্বর ব্যাটারদের ধারাবাহিক রান করতে হবে। যে দলে প্রথম পাঁচজন ব্যাটার ধারাবাহিক ভালো খেলবে, তাদের পক্ষে বড় কিছু করা সম্ভব। এজন্য আমি বলছি, ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। ব্যাটিংয়ের দিক থেকে চিন্তা করলে তামিমকে (তামিম ইকবাল) প্রয়োজন ছিল। পাওয়ার প্লেটা কাজে লাগাতে পারত সে। দুঃখজনক হলেও সত্য, সে নেই। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত পাওয়ার প্লে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগায়। কারণ, তাদের টপঅর্ডার ব্যাটাররা ভালো। প্রথম পাঁচজন ব্যাটারের অন্তত তিনজন নিয়মিত রান করেন। আমাদেরও এটা করতে হবে। আমাদের ওপরের ব্যাটাররা রান করলে জেতার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। প্রথম ১০ থেকে ১৫ ওভারে জ্বললে বাকি সময় প্রভাব বিস্তার করে খেলতে পারবে। আর শুরুতে উইকেট হারালে বিপদে পড়বে। 

ওয়ানডে এখন যে ‘প্যাটার্নে’ চলে এসেছে, তাতে নিয়মিত ব্যাটারদের দিয়ে ম্যাচ জিততে হবে। ইনিংসের শুরু থেকে প্রভাব বিস্তার করে খেলতে হবে। ৪০ ওভার ভালোভাবে টিকে থাকলে শেষ ১০ ওভারে রান হবেই। তাই খুবই ‘ক্যালকুলেশন’ করে খেলতে হবে। পরিকল্পনা নিয়ে খেলতে হবে। আপনাকে শুরুতে রানও করতে হবে, উইকেটও হাতে রাখতে হবে। ভারতে সেটা সম্ভব ব্যাটিংবান্ধব উইকেটের কারণে। 

আরেকটি কথা বলতে চাই, প্রথম দু-তিনটি ম্যাচে ভালো করলে পুরো টুর্নামেন্ট ভালো যাবে। আফগানিস্তান এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলতে হবে। আমরা অনেকে বলি বা খেলোয়াড়দের বলতে শুনি– আগে তিনটি ম্যাচ জিতেছি, এবার চারটি ম্যাচ জিতব। তাদের উদ্দেশে আমার বার্তা হলো, কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়া ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে আমরা দুটি ম্যাচ জিততে পারলে এখন সব ম্যাচ জেতা উচিত। একটি টুর্নামেন্টে ৯টি ম্যাচ খেললে যে কোনো দল দু-তিনটি জিতবে। তাই আমাদের নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচ টার্গেট না করে সব ম্যাচে ভালো খেলে জেতার চেষ্টা করতে হবে। কারণ, এবার আমাদের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমাদের প্রতিটি দলের সঙ্গে জিততে হবে। ছয়টি বা সাতটি ম্যাচ জিতব– তেমনটা ঠিক হবে না। 

এই দলে তামিম ছাড়া বাকি সবাই আছে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দোদুল্যমান ছিল। কিন্তু আমি সব সময় বলে এসেছি, অভিজ্ঞ ক্রিকেটার প্রয়োজন আছে। রিয়াদ ফিট থাকলে নেওয়া উচিত। কারণ, এ ধরনের টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার প্রয়োজন হয়। মানসিক সাপোর্ট লাগে। রিয়াদকে দলে রাখা ভালো সিদ্ধান্ত। তামিম থাকলে আরও ভালো হতো। ওকে খুব মিস করব। তার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের খেলা উচিত ছিল। কী কারণে সে বাদ পড়েছে, সেগুলো নিয়ে কথা বলতে চাই না। তবে তাকে নিয়ে খেলতে পারলে দলটা আরও শক্তিশালী হতো। আমাদের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যেত। তবে বর্তমান দলের মধ্যেও অনেক সম্ভাবনা দেখছি।  

আরও পড়ুন

×