ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

‘যা হয়েছে তা মিডিয়ার সৃষ্টি’

‘যা হয়েছে তা মিডিয়ার সৃষ্টি’
×

ছবি- সংগৃহীত

সাখাওয়াত হোসেন জয়

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১১:৪৯ | আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১২:৩৪

ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় রেফারিং নিয়ে প্রতি মৌসুমেই নানা অভিযোগ ওঠে। সেগুলো সমাধানের জন্য অনেক আগে ভিএআর প্রযুক্তি আনার কথা বলেছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। অর্থের জোগান পেলে শিগগির এ প্রযুক্তি আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে যে বাগ্‌যুদ্ধ হয়েছিল, তা নাকি মিডিয়ার খোঁচার কারণেই। নির্বাহী কমিটির সভা ছাড়াই একাই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরার সঙ্গে গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের প্রিমিয়ার লিগে না খেলা এবং সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল ছেড়ে দেওয়া নিয়েও সমকালের সঙ্গে বুধবার ফেডারেশনের নিজ কার্যালয়ে কথা বলেছেন কাজী সালাউদ্দিন। তা শুনেছেন সাখাওয়াত হোসেন জয় (দ্বিতীয় পর্ব)।  এখানে দেখুন কাজী সালাউদ্দিনের সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব।

সমকাল : ফুটবলে জাতীয় দলের দারুণ একটা বছর কাটল। বাফুফে সভাপতি হিসেবে আপনার কেমন লাগছে?

কাজী সালাউদ্দিন : অবশ্যই বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এটা দারুণ একটা বছর। এটা তো এক বছরে হয়নি, ধারাবাহিক কাজের ফসল। সিঙ্গাপুরের কাছে ২০১৭তে ৩ গোলে হেরেছিল মেয়েরা। তার পর মেয়েরা ট্রেনিং করে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সিঙ্গাপুরকে ৮ গোল দিয়েছে। সবকিছুই কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় হয়েছে। সঠিক ট্রেনিং, সঠিক কোচিং ম্যানেজমেন্ট, সঠিক পরিকল্পনা– সবকিছুই সুন্দরভাবে হওয়াতেই কিন্তু মেয়েদের ফুটবল ভালো করেছে। ছেলেদেরটাতেও অনেক দিন ধরে মিক্সড রেজাল্ট হচ্ছিল। এখন ছেলেদের দল একটা পর্যায়ে চলে এসেছে।

সমকাল : ঘরোয়া ফুটবলে সব সময় রেফারিং নিয়ে সমালোচনা হয়ে আসছে। যে কারণে আপনি ভিএআর আনার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেটা তো বাস্তবায়ন করেননি।

কাজী সালাউদ্দিন : ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) তো আমি আজকেই আনতে চায়। কিন্তু আমাকে দুই মিলিয়ন ডলার কে দেবে? অর্থের জোগাড় না হলে ইচ্ছা করলেই তো সবকিছু করা যায় না। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, খুব শিগগির বাংলাদেশে ভিএআর আসবে। আজকাল কিংবা পরশু আসবেই। তবে নতুন মৌসুমে আসবে কিনা, সেটার নিশ্চয়তা আমি দিতে পারব না। কারণ, আমার ওই রকম ফান্ড নেই।

সমকাল : সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে আপনার একটা মনস্তাত্ত্বিক লড়াই হয়েছিল। এটা নিয়ে কী বলবেন?

কাজী সালাউদ্দিন : আমি বলব, যা হয়েছে এগুলো মিডিয়ার সৃষ্টি। আমি তো কিছুই বলিনি। আপনারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনি কথা বলেন না কেন? আমি তো প্রাইম মিনিস্টারকে আপনাদের সামনে দেখিয়ে কথা বলব না। এটাই আমি বলেছিলাম। আমি তো কাউকে ছোট করার জন্য বলিনি। তার পরও তো তারা অনেক কথা বলেছিলেন। আমি তো উত্তর দিইনি। স্পটে আপনারা আমাকে খোঁচা দিয়ে দুইটা কথা বলাই দিয়েছেন। আর মন্ত্রী তো না বুঝে, না জেনে অনেক কথা বলেছেন।

সমকাল : নির্বাহী কমিটির অনেকেরই অভিযোগ– আপনি নাকি সবার অগোচরে একাই অনেক সিদ্ধান্ত নেন।

কাজী সালাউদ্দিন : আমি যে ইমরুল হাসানকে লিগ কমিটির চেয়ারম্যান করেছি, সেটা তো বোর্ড মিটিং ছাড়াই করেছি। আমাকে বোর্ড ম্যান্ডেড দিয়েছে। আমি বলি, বোর্ডে যখন আমি একেকটা কমিটি বানাই, চেয়ারম্যান বানাইও আমি। আমাকে বোর্ড ম্যান্ডেড দিয়েছে– আপনি বানাই দেন। ইমরুলের কথা উঠেছে; কিন্তু সালাম মুর্শেদীকে যখন বানাইছি, সেটা তো একইভাবে। কাজী নাবিল আহমেদ আজকে যে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান, সেগুলো একইভাবে। তাহলে এখানে কেন সমস্যা হবে?

সমকাল : তাহলে বোর্ডের সদস্যরা কেন বাইরে গিয়ে সমালোচনা করে?

কাজী সালাউদ্দিন : এখানে নিয়মটা হলো বানানোর পরই ইসি সদস্যরা জানবে। নির্বাহী সদস্যদের আপনারা খোঁচাই করাইছেন। আমি তো নিয়মের বাইরে কাজ করিনি। আজকে যিনি যে পোস্টে আছেন, সবাই তো এভাবেই হয়েছেন।

সমকাল : বিসিএল থেকে প্রিমিয়ার লিগে উঠেও খেলছে না গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব।

কাজী সালাউদ্দিন : তাদেরই জিজ্ঞেস করেন। অর্থ নাই বলে সাইফ পাওয়ার তো চলে গেছে। খালি গোপালগঞ্জ বলেন কেন? সাইফ পাওয়ার তো একই কাজ করেছে। যারা এসে চলে যায়, তাদের অবশ্যই ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত। সাইফ পাওয়ার একসময় ফুটবলে অনেক প্রেম দেখাইছে। লিগের মধ্য থেকেই চলে গেছে। এসে চলে যাওয়ার মানেই হলো ফুটবলের প্রতি আবেগ আর ভালোবাসা নাই। আমি এখানে বসে রয়েছি কেন। আমি স্বাধীনতা যুদ্ধ করে আসছি। ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলোতে আমার নাম এসেছে। আমি জাতীয় দলে খেলে আসছি, কোচিং করিয়েছি। বাংলাদেশের এমন কোনো ট্রফি নেই, যেটা আমি জিতিনি। আপনারা আমাকে গালাগাল করেন। অথচ আমি ১৫-১৬ বছর ধরে সাউথ এশিয়ার সভাপতি হিসেবে আছি। নির্বাচনের আগে ভারত প্রস্তাব দেয়, তার পর পাকিস্তান দেয়। আপনাদের কাছে পেপার আর টেলিভিশনে আমি খারাপ। তাহলে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপের মানুষের কাছে আমি কেন এতটা জনপ্রিয়? আমার মধ্যে কিছু আছে বলেই তো তারা বারবার চায়।

আরও পড়ুন

×