সেদিন হাথুরুর বিপক্ষে খেলেছিলেন মুশফিক
...
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৪ মে ২০২০ | ০০:৪৩
ইনস্টাগ্রামে তামিমের সঙ্গে আড্ডা
খেলার মাঠে ব্যাট হাতে কোটি মানুষকে 'এন্টারটেইন' করেন তামিম-মুশফিক। করোনার এই কঠিন সময়ে ভক্তদের একটু বিনোদন ও খানিকটা স্বস্তি দিতে গত শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ আড্ডায় মেতেছিলেন দুই তারকা ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। ইনস্টাগ্রামে দুই তারকার প্রায় ৪৩ মিনিটের আড্ডায় উঠে এসেছে অনেক 'অজানা তথ্য'। সংবাদ সম্মেলনে কিংবা সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনেক রাখঢাক রেখে কথা বলেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু এ আড্ডায় দু'জনে খুলে দিয়েছিলেন মনের দুয়ার। হাস্যরসে ভরপুর প্রাণবন্ত এই আড্ডার উল্লেখযোগ্য কিছু অংশ সমকাল পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
মুশফিক ছিলেন পেসার!
শনিবারের আড্ডায় তামিম জানালেন, মুশফিক নাকি ছেলেবেলায় ছিলেন ফাস্ট বোলার। সাবেক ইংলিশ পেসার স্টিভ হারমিসনের মতো বোলিং করতেন! আর হতে চেয়েছিলেন নাকি ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়! অতীতের সেই স্মৃতি তুলে ধরতে গিয়ে মুশফিক বলেন, 'বোলিং করতাম, কারণ তখন চেষ্টা করতাম বেশি অবদান রাখার। কিপিং সেভাবে করতাম না। বিকেএসপির কোচরা তখন আমাকে বললেন, 'এ উচ্চতা নিয়ে পেস বোলার হতে চাও, পাগল নাকি?' পরে আমাদের একটি ম্যাচে মূল কিপার ইনজুরিতে পড়লে আমি কিপিং করলাম এবং ভালোবেসে ফেললাম। আমার আসলে ক্রিকেটের চেয়েও বেশি প্রিয় ছিল ব্যাডমিন্টন। অনেক ভালো লাগত। তখন বিকেএসপিতে ব্যাডমিন্টন ছিল না। আমি ক্রিকেট, ফুটবল দুটিতেই চান্স পেয়েছিলাম, পরে ক্রিকেটেই গেলাম।
খেলেছিলেন হাথুরুর বিপক্ষে
সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের প্রসঙ্গ এলেই অতি সন্তর্পণে বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তবে শনিবারের করোনা আড্ডায় যেন হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেন তামিম ইকবাল। ২০১৮ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভাঙা কব্জি নিয়ে ব্যাট করা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে তামিম জানান, ওই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ খেললেও মুশফিকের প্রতিপক্ষ নাকি ছিলেন লঙ্কান কোচ হাথুরুসিংহে! ওই ম্যাচের আগের দিন নাকি পাঁজরের ব্যথায় অনুশীলন করতে পারেননি মুশফিক।
১৪৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা ওই ম্যাচের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুশফিক বলেন, 'রাতে এক্স-রে রিপোর্টে দেখি যে, চিড় ধরা পড়েছে। তখন আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে পরের দিন খেলতে পারব। ওষুধ দিল, ডিনার করলাম। তারপর কেন জানি মনে হলো, এ ম্যাচ যে করেই হোক খেলতে হবে। প্রথম খেলা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে, এটা তো জেতা লাগবে!' শ্রীলঙ্কার নাম শুনেই মুশফিককে থামিয়ে দিয়ে দুষ্টুমির হাসি দিয়ে তামিম বলেন, 'এটা ভুল বললি দোস্ত। বাংলাদেশ খেলছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, মুশফিক খেলছিল হাথুরুর বিপক্ষে। এটা শুধু তুই না, আমাদের সবার ভেতরে একটা জেদ ছিল। এটাকে খারাপভাবে নেওয়ার কিছু নেই। ও যেভাবে চলে গেছে বা আমরা যেভাবে তাকে হারাতে চাচ্ছিলাম, খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব থেকেই এটা বলছি।' মুশফিক অবশ্য মৃদু হেসে বিষয়টার খানিক প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছিলেন।
ওভালে মুশফিক-তামিম তর্ক
আড্ডার শেষ দিকে তামিম তুলে আনেন ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় ওভালের ড্রেসিংরুমে দু'জনের তর্ক ও মজার একটি স্মৃতি, 'আপনারা সবাই জানেন, মুশফিকের সঙ্গে আমার খুবই ভালো বন্ধুত্ব। তবে আমাদের দু'জনেরও ঝগড়া হয়, কথাকাটাকাটি হয়। ওভালের ড্রেসিংরুমের একটা কাহিনি বলি। ড্রেসিংরুমটা একটু ছোট। মুশফিকের একটা অভ্যাস আছে, সে একটা সিটে বসতে পারে না, তিন-চারটা সিট লাগে।' তামিম এটুকু বলতেই প্রতিবাদমুখর মুশফিক, 'তিন-চারটা সিট....এটা কিন্তু বেশি হয়ে গেল। আমার বেশি জিনিস, জায়গা তো একটু বেশি লাগবেই। আমি কিন্তু কাউকে ডিস্টার্ব করি না।'
মুশফিকের প্রতিবাদকে পাত্তা না দিয়ে তামিম ফিরে যান স্মৃতিচারণে, 'যাই হোক, ওভালে আমি দেখলাম মুশি তিন-চারটা সিট নিয়ে বসে আছে। আমি গিয়ে বললাম, কী ব্যাপার, তুই তিন-চারটা সিট নিয়ে বসে আছিস! তখন মুশফিক জবাব দেয়, আমি জানতাম,তুই-ই বলবি, আর কেউ আমাকে এ কথা বলবে না। এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি চলল বেশ। মুশফিক এরপর রাগ করে ব্যাগ-ট্যাগ নিয়ে বাথরুমে গিয়ে বসল। আমি আমার সিটে বসলাম। যে জায়গায় মুশফিক বসেছিল সেখানে ভয়ে আর কেউ বসেইনি। খালি ছিল। কথাকাটাকাটির পর ওই ম্যাচে আমি সেঞ্চুরি করেছিলাম, মুশফিক ৭৯ করেছিল। পরের ম্যাচ খেলতে আমরা যখন আবার ওভালে গেলাম, মুশফিক আগেই তখন বাথরুমে গিয়ে বসল। আমার প্রশ্ন হলো, এটা তুই কেন করলি? এটা কি কুসংস্কার থেকে যে, বাথরুমে বসে আগের ম্যাচে ৭০-৮০ করেছিলি?' হাসিতে ফেটে পড়ে মুশফিক জানান, কুসংস্কার নয়, এতে করে আত্মবিশ্বাস বেশি থাকে।
বিপিএল দলে ধারাবাহিকতা চান তারা
দু'জনের আড্ডায় হাসি-তামাশার পাশাপাশি উঠে আসে দেশের ক্রিকেটের নানা বাস্তবতাও। বেশ আক্ষেপ নিয়েই বছর বছর বিপিএলে দল বদলের বিষয়টা তুলে ধরেন তামিম, 'বিপিএল একটা দারুণ টুর্নামেন্ট, অনেক কিছু শিখি আমরা। সবচেয়ে বেশি মিস করি এখানে যেটা....আইপিএলে যেমন ধোনি মানেই চেন্নাই, মুম্বাই মানে রোহিত, ব্যাঙ্গালুরু মানেই কোহলি। একটা দলে চার-পাঁচজন খেলতে পারলে দলটা নিজের হয়ে ওঠে, ভক্ত-সমর্থকদের ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠে। আমাদের এখানেও যদি এমন হতো, আমরা যে পাঁচজন সিনিয়র আছি, যদি আমাদের দল পছন্দ করার সুযোগ থাকত, কিংবা এমন নিয়ম থাকত যে, এক দলে অন্তত তিন বছর থাকতে হবে, তাহলে ভালো হতো।' তামিমের এই কথায় সায় দেন মুশফিকও, 'তিন-চার বছর এক দলে থাকলে ফ্যানবেজ গড়ে ওঠে। এটা দলের জন্য ভালো, ক্রিকেটের জন্য ভালো।'
মুশফিকের ব্যাট বিড করবেন তামিম
করোনার এই কঠিন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ক্রিকেটারদের অনেকেই নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাটটি নিলামে তুলছেন মুশফিক। আড্ডায় এ বিষয়ে মুশফিক বলেন, 'খুব শিগগির অনলাইনে ব্যাটটি নিলামে তোলা হবে একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। আমি অনুরোধ করব, আমার জন্য নয়, অসহায় মানুষের সহায়তার কথা ভেবে যত সম্ভব বেশি মূল্যে সামর্থ্যবানরা যেন ব্যাটটি কিনে নেন।' এর পরই ব্যাটটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন তামিম, 'সত্যি বলতে, আমি আগেই ঠিক করেছি যে আমি চেষ্টা করব। আমি বিড করব, যদি আমার সামর্থ্যের মধ্যে থাকে।'