সাক্ষাৎকার
পাকিস্তানে টেস্ট জয়ের স্বপ্ন
জাতীয় দলের পেসার খালেদ আহমেদ। ছবি: আইসিসি
...
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪ | ১৩:০৭ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪ | ১৩:০৯
টেস্ট ক্রিকেটে পেস বোলারদের গুরুত্ব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশ। তাই বিদেশের মতো দেশেও একাধিক পেস বোলার নিয়ে খেলে। নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও খেলেছেন তিন পেসার। আর টেস্টের পেস বোলিং ইউনিটের অন্যতম সদস্য হয়ে উঠেছেন খালেদ আহমেদ। সিলেটের এ পেসার চট্টগ্রাম থেকে ফোনে আলাপ করেন পাকিস্তান সফরের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা নিয়ে। খালেদ আহমেদের কথা শুনেছেন সেকান্দার আলী।
সমকাল : শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের মাটিতে শেষ টেস্ট খেলেছেন। এবার পাকিস্তানে খেলা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই সিরিজটি বাংলাদেশ দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
খালেদ : আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টেস্ট ক্রিকেটে আমরা ভালো করতে পারছি না। যে ভুলগুলো ছিল, সেগুলো নিয়ে গত কয়েক মাস আমরা সবাই কাজ করেছি। আমরা টেস্ট জেতার উদ্দেশ্য নিয়ে পাকিস্তানে যাব। যে কোনো মূল্যে ম্যাচ জিততে হবে– এই মানসিকতা নিয়ে খেলতে চাই।
সমকাল : লম্বা সময় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন না। প্রস্তুতি ম্যাচও নেই পাকিস্তানে। এ রকম পরিস্থিতিতে পেসারদের জন্য ভালো করার চ্যালেঞ্জটা বেশি থাকে কিনা?
খালেদ : কঠিন না। আমরা প্র্যাকটিসের মধ্যেই আছি। ম্যাচ সিনারিও অনুশীলন হচ্ছে। নিজেদের মধ্যে তিন দিনের ম্যাচ খেলা হতে পারে। এগুলো না হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানিয়ে নিতে হবে। অজুহাত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রায় তিন মাস আমরা প্র্যাকটিসে আছি। এ সময় আমি নিজের ভুল শোধরাতে না পারলে হবে না। আমার ভুলগুলো শোধরে নিতে চেষ্টা করছি।
সমকাল : টেস্ট সিরিজ না থাকলে জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচের সঙ্গে কাজ করতে পারেন না। এ সময় একজন বিদেশি কোচ থাকলে পেস বোলারদের জন্য ভালো হতো কিনা?
খালেদ : অবশ্যই ভালো হতো। দেশের যারা আছেন, তারাও অনেক ভালো। অনেক কিছু জানেন। তারেক আজিজ ভাই মানের কোচ। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। সব মিলিয়ে খারাপ হয়নি। চেষ্টা করছি তারেক ভাইয়ের কাছ থেকে ভালো কিছু নিতে।
সমকাল : অফ সিজনে টাইগার্সের ক্যাম্প প্রতিবছরই হবে। সেদিক থেকে একজন বিদেশি পেস বোলিং কোচ টাইগার্সে থাকলে কেমন হয়?
খালেদ : ভালো তো হয় অবশ্যই। সব সময় বিদেশি কোচ প্রয়োজন হয় না। দেশিদের মধ্যে অনেকে ভালো কাজ করছেন। আমার মনে হয়, দেশি কোচদের প্রাধান্য দেওয়া উচিত। ভারতে দেখেন, এখন সবাই দেশি কোচ। তারেক (তারেক আজিজ) ভাই যেভাবে কাজ করছেন, প্রশংসা করা উচিত। তিনি খুব ভালো কাজ করছেন পেসারদের নিয়ে।
সমকাল : পাকিস্তান দল ও কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা নিতে পারছেন?
খালেদ : অবশ্যই। আমাদের ভিডিও অ্যানালিস্টের কাছ থেকে ভিডিও ফুটেজ পাচ্ছি। মাঠে প্র্যাকটিক্যাল কাজ করার আগে আমরা ট্যাকটিক্যাল দিকগুলো নিয়ে কাজ করছি। ভিডিও অ্যানালিস্ট ও কোচের সঙ্গে বসে কাজ করার অনেক কিছুই আছে। আমাদের অনেক কিছু করা হয়ে গেছে। এখন শেষ পর্যায়ে আছে। অনুশীলন ম্যাচ পর্যায়ে চলে এসেছি।
সমকাল : পাকিস্তানের কন্ডিশন সম্পর্কে কেমন ধারণা আছে?
খালেদ : আমি ২০১৮ সালে পাকিস্তানে খেলেছি। কিছুটা ধারণা আছে। তবে ওখানে কোনো টেস্ট খেলা হয়নি। তাই ভিডিও অ্যানালিস্টের কাছ থেকে মাঠ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নিয়েছি। কোন মাঠে কেমন রান হয়, কোন জায়গায় বল করলে ভালো। যতটা জেনেছি টেস্টে ফ্ল্যাট উইকেট হয়। বোলারদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকে। ওখানে আগে যারা খেলেছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। ভিডিও অ্যানালিস্টের সহযোগিতা নিচ্ছি।
সমকাল : এক বছর আগেও টেস্টে শক্তিশালী পেস বোলিং ইউনিট ছিল। এখন কি কিছুটা ঘাটতি দেখতে পাচ্ছেন?
খালেদ : এখনও আমাদের যে পেস বোলিং ইউনিট আছে, তারা ভালো করছে। শেষ টেস্টে হাসান ভালো খেলেছেন। আমার দিক থেকে চেষ্টা থাকবে সেরাটা দেওয়ার।
সমকাল : তরুণদের গাইড দিতে কতটা প্রস্তুত?
খালেদ : অবশ্যই। প্রয়োজন হলে তাদের সঙ্গে কথা বলি। কীভাবে কী করলে ভালো হয়, এগুলো জানিয়ে দিই। আমার কাছে জিজ্ঞেস করলে বলে দিই। শিখতে সময় লাগে না। আমি কারও কাছ থেকে শিখি, তারা আমার কাছ থেকে শেখে।
সমকাল : ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪টি সিরিজ বা ৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলতে কতটা প্রস্তুত?
খালেদ : আমি যদি সুস্থ থাকি, ভালো পারফরম্যান্স করি, খেলব ইনশাআল্লাহ। শুধু নিজেকে মেইনটেইন করে যেতে হবে। প্রতিটি সিরিজের আগে অন্তত ১৫ দিন পাওয়া যাবে। আমার মনে হয় না, চার মাসে চারটি সিরিজ খেলতে সমস্যা হবে।
সমকাল : বোলিং ইউনিটে রোটেশন করার প্রয়োজন দেখেন?
খালেদ : আমি জানি না। আমার কথা বলতে পারি, ফিট থাকলে টানা খেলব। কারও বিশ্রামের প্রয়োজন হলে সেটা ম্যানেজমেন্ট দেখবে।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান
- খালেদ আহমেদ