ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আফগানিস্তান না এলে ঢাকায় এজিএম স্থগিত

আফগানিস্তান না এলে ঢাকায় এজিএম স্থগিত
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫ | ১০:০৩ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৫ | ১০:০৮

আইসিসি সভা থেকে দেশে ফিরে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলছিলেন, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সভা (এজিএম) আয়োজনে বাংলাদেশের তেমন কোনো ভূমিকা নেই। অতিথিদের একটি নৈশভোজ ও সভার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে কেবল। এই এজিএম নিয়ে বাকি দায়দায়িত্ব এসিসির। 

যদিও ক্রিকেটের প্রভাবশালী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা বিষয়টিকে সেভাবে দেখছে না। তারা মনে করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে জোট বেঁধেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিসিবি পরিচালকদের কেউ কথা বলতে রাজি হননি। এসিসির এজিএম আয়োজক হিসেবে বিসিবি সৃষ্ট বিভেদের দায় এড়াতে পারে কিনা সে প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তারা বেশি চিন্তিত ভারতের রোষানলে পড়া নিয়ে। এই দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়েই কাল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এসিসির বার্ষিক সভা। শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান পিছু হটলে স্থগিত করতে হতে পারে এজিএম।

এসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এজিএমের কোরাম পূরণ করতে টেস্ট খেলুড়ে পাঁচ দেশের তিনটি আর সহযোগী ১০টি দেশের উপস্থিতি লাগবে। ভারত, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান এসিসির এবারের বার্ষিক সভা বয়কটের ঘোষণা দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোরাম পূরণের জন্য পিসিবি ও বিসিবি যৌথভাবে চেষ্টা করছে আফগানিস্তানকে রাজি করাতে। মৌখিকভাবে এজিএমে অংশগ্রহণ করার সম্মতিও দিয়েছে তারা। 

বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, আজ (বুধবার) বোঝা যাবে আফগানিস্তান সভায় যোগ দিচ্ছে কিনা। শেষপর্যন্ত এসিসির সভা সফল হলেও ভূরাজনীতির শিকার হতে পারে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে এসিসি সভাপতি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান আশরাফ নাকভির কুটচালে পড়ে ভুল করে ফেলেছেন বুলবুল। উদ্ভূত বিভাজন দেখার পরও সম্মানের কথা ভেবে পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভিকে না করতে পারেননি তিনি। বিসিবি কর্মকর্তারা মনে করেন বুলবুল অন্তর্বর্তী সভাপতির দায়িত্ব শেষ করে অস্ট্রেলিয়া ফিরে গেলেও ভুগতে হবে বিসিবিকে।

এশিয়ার ২৭টি দেশ– বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, বাহরাইন, ভুটান, ব্রুনাই, চীন, চাইনিজ তাইপে, কম্বোডিয়া, নেপাল, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, তাজিকিস্তান, ইরান, জাপান, ইন্দোনেশিয়া এসিসির সদস্য। গতকাল পর্যন্ত ১৯টি দেশের অংশগ্রহণের ব্যাপারে সম্মতি পাওয়া গেছে বলে জানায় বিসিবি। বেশ কয়েকটি দেশের ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তারা ঢাকায় পৌঁছে গেছেন। পিসিবি পরিচালনা প্রধান কর্মকর্তা (সিওও) সালমান নাসিম মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন। তাদের চেয়ারম্যান নাকভি আসবেন আজ। 

বাহরাইন, ভুটান, ব্রুনাই, চীন, চাইনিজ তাইপে, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ, কুয়েত, মিয়ানমার, কাতার, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, তাজিকিস্তান, ইরান, জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তাদের অন অ্যারাইভেল ভিসার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সহযোগী দেশের মধ্যে নেপাল, ওমান, মালয়েশিয়া, ইউএই, থাইল্যান্ড, হংকং ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তারা অনুপস্থিত থাকতে পারেন। এসিসির দেশগুলোর মধ্যে এজিএম নিয়ে আগে কখনও এরকম বিভাজন দেখা দিয়েছে বলে কেউ মনে করতে পারেননি। বিসিবিকেও এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি বলে জানান কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

×