কদর বাড়ছে দেশি আম্পায়ারদের
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫ | ১০:৫৫
শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত ক্রিকেটবিশ্বের নামি আম্পায়ার। এলিট কোটায় টেস্টের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে সিরিজে ম্যাচ পরিচালনা করেন দেশে দেশে। তাঁর গন্তব্য টেস্টখেলুড়ে দেশ। টি২০ ক্রিকেটের বিশ্বায়ন হওয়ায় গাজী সোহেল, মাসুদুর রহমান মুকুল, মোর্শেদুল ইসলাম, তানভীর ইসলামদেরও কাজের পরিধি বেড়েছে। মহাদেশীয় আন্তর্জাতিক টি২০ বাছাই লিগ ও টুর্নামেন্টের ম্যাচ পরিচালনার জন্য নিয়মিতই বিদেশে যেতে হচ্ছে তাদের।
এ মুহূর্তে গাজী সোহেল আছেন দ্বীপদেশ জার্সিতে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের টুর্নামেন্টে। আইসিসি থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এশিয়া কাপ টি২০ টুর্নামেন্ট শেষ করে ওমানে বিশ্বকাপ বাছাই লিগের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের চূড়ান্ত পর্বের টুর্নামেন্টে মুকুলকে নিয়োগ করেছে আইসিসি। এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা, ইউরোপ মহাদেশে টি২০ টুর্নামেন্টের পাশাপাশি ৫০ ওভারের ক্রিকেট ম্যাচেও নিয়োগ পাচ্ছেন দেশের চার আন্তর্জাতিক আম্পায়ার। বিদেশে আম্পায়ারিং করে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন মুকুলরা।
বিশ্বকাপ থেকে ন্যূনতম ২০ লাখ টাকার উপার্জন একজন আন্তর্জাতিক আম্পায়ারের। ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে মোটা সম্মানী পেয়েছেন সৈকত। ওই বিশ্বকাপে ছয়জন করে নারী ও পুরুষ আম্পায়ার নিয়োগ পেয়েছিল। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভারত-শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের সব অফিসিয়াল থাকবেন নারী। সাথীরা জাকির জেসিকে বিশ্বকাপে নিয়োগ দিচ্ছে আইসিসি। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ১৫ মাসেই বিরাট সাফল্য জাতীয় দলের সাবেক এ ক্রিকেটারের।
নারী-পুরুষের সম্মানী সমান হওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে ২০ লাখ টাকার বেশি আয় হতে পারে জেসির। টি২০ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক বাজারে গাজী, মুকুল, সুমন ও তানভিররা ম্যাচ ফি পান ডলারে। পূর্ণ সদস্য ও সহযোগী দেশ অনুসারে ৩০০ থেকে ৫০০ ডলার ম্যাচ ফি নির্ধারণ করলেও বাকি সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েই দেশে ফিরতে পারেন আম্পায়াররা।
এই বৈশ্বিক সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন সৈকত, ‘আইসিসির তালিকাভুক্ত দেশের টি২০ ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিক। এই স্বীকৃতি দেওয়ায় মহাদেশীয় লিগ খেলা হয়। সেখানে ডেভেলপমেন্ট আম্পায়ারদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আম্পায়ার নিয়োগ দেওয়া হয়। আমাদের আন্তর্জাতিক আম্পায়াররা বিভিন্ন মহাদেশের টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের ক্রিকেট ও আম্পায়ারদের জন্য ইতিবাচক দিক এটি।’
গাজী সোহেলের অ্যাসাইনমেন্ট নেপাল, উগান্ডা, স্কটল্যান্ড ও জার্সিতে। মুকুলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল নাইজেরিয়া, কানাডা ও পাকিস্তানে। এশিয়া কাপের পর ওমানে বিশ্বকাপ বাছাই টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত লিগে আইসিসি থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত তিনি। কেনিয়া, মালয়েশিয়া, ওমান ও নেপালে আইসিসির নিয়োগ ছিল সুমনের। তানভিরের অ্যাসাইনমেন্ট ছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকংয়ে।
নিজেদের আন্তর্জাতিক কাজের পরিধি বাড়ায় খুশি গাজী জার্সি থেকে ফোনে সমকালকে বলেন, ‘বাংলাদেশের আম্পায়াররা ভালো করায় বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে নিয়োগ পাচ্ছে। আমি জার্সিতে এসেছি ৫০ ওভারের ম্যাচ করতে। কেনিয়া, ডেনমার্ক, কাতার, কুয়েত, পাপুয়া নিউগিনি ও জার্সি খেলছে টুর্নামেন্টে। ইংল্যান্ডের একজন আর আমি আন্তর্জাতিক আম্পায়ার। বাকিরা ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থেকে। এই দেশগুলোর ক্রিকেট সংস্কৃতি বিকাশে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সামান্য হলেও ভূমিকা রাখতে পারছি। টুর্নামেন্টে কাজ করতে এসে দেশ দেখা হচ্ছে। হয়তো আর্থিকভাবে অত লাভবান হচ্ছি না, তবে বড় পরিসরে দেখলে অনেক লাভবান হচ্ছি।’
বাংলাদেশি আম্পায়ারদের সঙ্গে ম্যাচ রেফারিদেরও কদর বাড়ছে আইসিসিতে। পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজের ম্যাচ রেফারি ছিলেন নিয়ামুর রশিদ রাহুল। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি২০ সিরিজেও তাঁকে নিয়োগ দিয়েছে আইসিসি।
