ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

এনসিএলে নেই মুক্তার-মাইশুকুর, স্ট্যান্ডবাই মিজানুর 

এনসিএলে নেই মুক্তার-মাইশুকুর, স্ট্যান্ডবাই মিজানুর 
×

ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ শাইশুকুর ও মুক্তার আলী।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৪:৪৫

মাইশুকুর রহমান রাজশাহী বিভাগের ৩০ জনের প্রাথমিক দল বানিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন। বিসিবি সে স্কোয়াড বাতিল করে নতুন তালিকা নিয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্ত ও কোচ আব্দুল করিম জুয়েলের কাছ থেকে। নতুন তালিকায় মাইশুকুরকে রাখা হলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি। বগুড়ার এ ক্রিকেটারের এবার জাতীয় লিগে খেলা হচ্ছে না। 

অনেক চেষ্টা-তদবির করেও প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর মন গলাতে পারেননি পেস বোলিং অলরাউন্ডার মুক্তার আলী। ৩৫ বছর বয়সী এ ক্রিকেটারের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ার হয়তো ৬৪ ম্যাচেই শেষ। রাজশাহীর ব্যাটার মিজানুর রহমানকে রাখা হয়েছে অপেক্ষমাণ তালিকায়। 

ফিটনেস পরীক্ষায় ফেল করা খেলোয়াড়দের ব্যাপারেও টিম ম্যানেজমেন্টকে নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে নির্বাচক প্যানেল। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও লিপুরা বাদ দিতে পারেননি বিপিএলের ফিক্সিং সন্দেহের তালিকায় থাকা ক্রিকেটারদের। কারণ বিসিবি থেকে কোনো নির্দেশনা পাননি নির্বাচকরা।  

এনসিএল টি২০ ও প্রথম শ্রেণির ম্যাচের জন্য ২০ জনের একটি তালিকা করেছে বিসিবি নির্বাচক প্যানেল। লিপু জানান, ১৫ জনের চূড়ান্ত তালিকায় রেখে অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে পাঁচজনকে। কেউ চোটে পড়লে বা খেলতে না পারলে অতিরিক্ত তালিকা থেকে খেলোয়াড় নিতে হবে। 

প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘গত বছর থেকে পাঁচজনের একটি বিকল্প রাখা হচ্ছে। মূলত শৃঙ্খলা ধরে রাখার জন্যই এটা করা। এখানে লাইক টু লাইক খেলোয়াড় আছে। কেউ চোটে পড়লে বিকল্প তালিকা থেকে নিতে পারবে।’ 
বগুড়ার ক্রিকেটার হলেও মাইশুকুর খেলেছেন সিলেট বিভাগীয় দলে। রাজশাহীতে জায়গা না পাওয়া টপঅর্ডার এ ব্যাটারকে নিতে রাজি হয়নি সিলেটের টিম ম্যানেজমেন্ট। 

এনসিএল টি২০ ম্যাচে খেলার সুযোগ না পাওয়া মাইশুকুর বলেন, ‘বাদ পড়াটা আমার জীবনে নতুন কিছু নয়। বাদ পড়ে পড়েই তো ১৬ বছর জাতীয় লিগে খেলেছি। লড়াই করে এবারও হয়তো ফিরব।’

জাতীয় লিগে আটটি দলের স্কোয়াড দেওয়া হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে। আজকালের মধ্যে আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানায় বিসিবি।

বিপিএল ফিক্সিং নিয়ে করা তদন্ত কমিটির সংক্ষিপ্ত রিপোর্টে ১৮ জনের নাম উঠে এসেছে। ওই তালিকায় দুরন্ত রাজশাহীর এনামুল হক বিজয়, সোহাগ গাজী, সিলেট স্ট্রাইকার্সের আরিফুল হক, ঢাকার আলাউদ্দিন বাবুদের মতো ছয়জন ক্রিকেটারকে নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে বিসিবি। অকাট্য প্রমাণ না থাকায় অভিযুক্তদের নিষিদ্ধ করাতে পারছে না। উল্টো শাস্তি নির্ধারণ কমিটি গঠন করে প্রক্রিয়াকে মন্থর করে দিয়েছে। 

এ কারণে বছরের পর বছর সন্দেহের তালিকায় থেকেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন অনেকে। এখানেই শেষ নয়, ফিটনেসে পাস করতে না পারা ক্রিকেটারদেরও খেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আল আমিন জুনিয়র অ্যাথলেটিকস মাঠে দুই রাউন্ড দেওয়ার পরই পড়ে গেছেন। এতটা আনফিট হওয়ার পরও ঢাকা মেট্রোতে নেওয়া হয়েছে তাঁকে। 

বিসিবি এসিইউ এবং তদন্ত কমিটির সন্দেহের তালিকায় থাকা গাজী ধার হারিয়েছেন বোলিংয়ে। গতকাল প্রস্তুতি ম্যাচে বাজে বোলিং করায় হতাশ টিম ম্যানেজমেন্ট। এনসিএলে গাজীর খেলা বন্ধ করতে না পারলেও নেতৃত্বে রাখা হয়নি। 

সালমান হোসেনকে অধিনায়ক করা হয়েছে বরিশালের। ঢাকা মেট্রোর অধিনায়ক নাঈম শেখ, ঢাকা বিভাগের মাহিদুল ইসলাম অংকন, খুলনা বিভাগের মিঠুন আলী, রাজশাহীর নাজমুল হোসেন শান্ত, চট্টগ্রামের ইয়াসির আলী রাব্বি, সিলেটের জাকের হোসেন ও রংপুরের আকবর আলীকে অধিনায়ক করা হয়েছে।  

আরও পড়ুন

×