১ বছর ধরে বকেয়া না পেয়ে কিংস ছাড়লেন তারিক কাজী
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫ | ১৫:০৫
ফিনল্যান্ডের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন দেশের ফুটবল ছেড়ে হৃদয়ের টানে আসেন বাংলাদেশে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে চুক্তি করার পর সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার কিছুদিনের মধ্যেই তারিক কাজী পেয়ে যান বাংলাদেশের পাসপোর্ট। স্বল্প সময়ে লাল-সবুজের জার্সি গায়েও জড়ান এ লেফটব্যাক। যে ক্লাব দিয়ে শুরু, ভালোবাসার টানে সেই বসুন্ধরা কিংসের হয়ে ছয় মৌসুম ধরে সবুজ গালিচায় নিজেকে মেলে ধরেন। কিন্তু কিংসের সঙ্গে অর্ধযুগের বন্ধনটা ভেঙে গেছে পারিশ্রমিক না পাওয়ায়।
এক বছর ধরে বসুন্ধরা কিংসের কাছ থেকে বকেয়া পাওনা এবং নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় ক্লাবটির সঙ্গে আইনগতভাবে চুক্তি বাতিলের খবরটি শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন তারিক কাজী, ‘আজ (শুক্রবার) আমি বকেয়া বেতন পরিশোধ না হওয়ার কারণে আইনগতভাবে আমার চুক্তি বাতিল করেছি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে।’
কয়েক মৌসুম ধরেই ফুটবলারদের বেতন নিয়মিতভাবে দিচ্ছে না বসুন্ধরা। চুক্তির কারণে ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি ফুটবলাররা। তারিকও অন্য সবার মতো চুপ ছিলেন। ভেবেছিলেন সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিংস কর্তৃপক্ষের আচরণ বদলায়নি। তাই নীরবতা ভাঙতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তারিক, ‘একজন ফুটবলারের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন নীরবতা বহন করা প্রচণ্ড বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এক বছরের বেশি সময় ধরে আমি অনিয়মিত ও বিলম্বিত বেতন পরিশোধের মধ্য দিয়ে গিয়েছি– অনিশ্চয়তার এমন এক সময়, যা আমাকে শুধু একজন পেশাদার হিসেবেই নয়, একজন মানুষ হিসেবেও পরীক্ষা করেছে। এটি শুধু আর্থিক কষ্ট ছিল না, এটি ছিল এক মানসিক চাপ; যা প্রকৃত পেশাদাররা নিঃশব্দে বহন করে। তবুও প্রতিদিন আমি একই ভালোবাসা নিয়ে জেগেছি। মাঠে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। আর অন্তরে লড়েছি এক নীরব যুদ্ধ; ভালোবাসা ও অবিচারের মাঝে।’
সহ্য সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও ভালোবাসার কারণে ক্লাবের হয়ে খেলে যান তারিক, ‘এই পুরো সময় আমি বেছে নিয়েছি ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও শ্রদ্ধা– এমনকি যখন পরিস্থিতি আমার সহ্যের সীমা ছুঁয়ে গিয়েছিল। আমি বিশ্বস্ত থেকেছি ক্লাবের প্রতি, সতীর্থদের প্রতি এবং সেসব সমর্থকের প্রতি যারা সবসময় পাশে থেকেছেন। আমার এসব কিছুই ছিল ভালোবাসার কারণে। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা, দেশের প্রতি ভালোবাসা আর সেই মানুষগুলোর প্রতি ভালোবাসা, যারা স্টেডিয়াম পূর্ণ করেছেন এক বুক আশা ও হৃদয় দিয়ে।’
বিদায়ী পোস্টে ক্লাবের কোচ এবং সতীর্থদের ধন্যবাদ জানান তারিক। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলের অপেশাদারিত্বের কথাও লিখেছেন, ‘আমি খুব ভালো করেই জানি, দেশে এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন, যারা আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পেশাদাররা খেলোয়াড়রা যারা এখনও নীরবে কষ্ট পাচ্ছেন; কারণ কিছু ক্লাব নিয়মিতভাবে খেলোয়াড়দের প্রাপ্য বেতন পরিশোধ করে না। তাদের সংগ্রামগুলো হয়তো শোনা যায় না, কিন্তু তাদের অবদানই এই খেলাটিকে বাঁচিয়ে রাখে। এই বিদায় কোনো রাগ থেকে নয়। বরং সত্য, মর্যাদা ও কৃতজ্ঞতা থেকে।’
- বিষয় :
- তারিক কাজী
- বসুন্ধরা কিংস
