ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঢাকায় শুরু তীর-ধনুকের লড়াই 

ঢাকায় শুরু তীর-ধনুকের লড়াই 
×

২০২১ সালের পর এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ ঢাকায়।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ১২:৫৪

বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আরচারদের পদচারণায় মুখর জাতীয় স্টেডিয়ামের আঙিনা। স্টেডিয়ামের ভেতরে বইছে উৎসবের আমেজ। আজ এখানেই তীর-ধনুকের লড়াইয়ে নামছেন ৩০ দেশের ২০৯ জন আরচার। ২০২১ সালের পর এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন হচ্ছে ঢাকায়। 

এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এশিয়ান আরচারির সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা হচ্ছে বাংলাদেশে। প্রথমটি হয়েছিল ২০১৭ সালে। উদ্বোধনী থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত এশিয়ান আরচারি হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে। ১৩ ও ১৪ নভেম্বর প্রতিযোগিতার পদকের লড়াই হবে আর্মি স্টেডিয়ামে। তৃতীয়বারের মতো এই আসরের আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশকে এবার তীর-ধনুকের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে ফেভারিট দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে। যদিও কোনো সময় বাংলাদেশ স্বর্ণপদক জিততে পারেনি।

এবারের আসরে রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড মিলিয়ে ১০ ইভেন্টের পদকের লড়াইয়ে নামছেন তীরন্দাজরা। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী আরচারও অংশ নিচ্ছেন– রিকার্ভে ৫৪ জন এবং কম্পাউন্ডে ৩৮ জন মিলিয়ে মোট ৯২ জন। নানা সংঘাতে বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইয়েমেনের মতো দেশগুলোর আরচারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ। 

ফিলিস্তিন থেকে অংশ নিচ্ছেন চারজন। বাংলাদেশের আরচারপ্রেমীদের চোখ অবশ্য থাকবে নিজেদের তারকা আব্দুর রহমান আলিফ, সাগর ইসলাম, বন্যা আক্তারদের দিকে। ২০২১ সালের আসরে একটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তিনটি পদকই ছিল দলগত ইভেন্ট থেকে পাওয়া। রিকার্ভ মিশ্র থেকে এসেছিল রৌপ্যপদক। ২০২৩ সালের সর্বশেষ থাইল্যান্ডের আসরে অবশ্য খালি হাতে ফিরতে হয় দলকে। এবার সে হতাশার বলয় থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনতে চান আরচাররা। 

রিকার্ভ ইভেন্টে সবার চোখ থাকবে অলিম্পিক খেলা সাগর ইসলামের দিকে। দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটাতে চান এ তীরন্দাজ, ‘আমাদের দেশের মাঠে এবারের প্রতিযোগিতা। স্বাভাবিকভাবে অনেক কিছু আমাদের পক্ষে থাকবে। এই প্রতিযোগিতার জন্য আমরা বছরজুড়ে ক্যাম্পে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আশা করি, পরিশ্রমের ফল পাব।’ 

আরেক তীরন্দাজ আলিফেরও আশা ভালো কিছু করার, ‘বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক ভালো মানের আরচার এসেছেন। বিশেষ করে, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকে এসেছেন অনেকে। অভিজ্ঞতায় তারা হয়তো এগিয়ে থাকবেন, তবুও আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে দেশকে ভালো কিছু এনে দেওয়ার। আরচারি একটি নির্দিষ্ট দিনের খেলা, র‍্যাঙ্কিং যা-ই হোক না কেন, যিনি সেরাটা মেলে ধরতে পারবেন, তিনিই সেরা হবেন।’ 

রিকার্ভের মতো কম্পাউন্ডে বাংলাদেশের আরচার হিসেবে চোখ থাকবে বন্যা আক্তারের দিকেও, ‘কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখের অধীনে আমরা এতদিন অনুশীলনে যে পরিশ্রম করেছি, আমাদের জন্য সে পরিশ্রমের ফল তুলে আনার উপলক্ষ এই আসর। সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে আমরা চেষ্টা করব।’ 

নিজের শিষ্যদের নিয়ে আশাবাদী কোচ ফ্রেডরিখ, ‘আরচারদের প্রতি আমার আস্থা আছে। ব্যাংককের গত আসরে আমরা কোনো পদক পাইনি। এ নিয়ে হতাশা আছে ওদের মধ্যে। এবার ভালো ফল করতে ওরা উন্মুখ হয়ে আছে।’ 

আরচারি ফেডারেশন অবশ্য খেলোয়াড়দের ওপর প্রত্যাশার চাপ দিতে রাজি নয়। ফেডারেশনের সদস্য ও লোকাল অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল যেমন বলেছেন, ‘এবারের আসরে আমাদের সাফল্যের ধারা যেন থাকে, এজন্য আপনারা দোয়া করবেন। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে আমরা অনেক পদক পেয়েছি। স্বর্ণ ৪৩টির বেশি। রুপা ও ব্রোঞ্জ ৫০টির বেশি আছে আমাদের অর্জনের শোকেসে। আমরা অবশ্যই চাইব, এবার বাংলাদেশ সাফল্য পাক। যদি সেমিফাইনাল টপকাতে পারি, তাহলে ফাইনালেও ভালো করব।’

আরও পড়ুন

×