ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার

কোচ শুকতারার কাছে মুখ খুলছে মেয়েরা

কোচ শুকতারার কাছে মুখ খুলছে মেয়েরা
×

আয়েশা রহমান শুকতারা

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:৪৮ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১২:৪৬

জাতীয় নারী দলের সাবেক ব্যাটার আয়েশা রহমান শুকতারা এখন খুলনা বিভাগীয় দলের কোচ। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এ ব্যাটারের জাতীয় দল সতীর্থ ছিলেন জাহানারা আলম। যিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলকে সাক্ষাৎকারে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলাকালে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনার পর জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলের অনেক মেয়েই মুখ খুলছে বলে জানান শুকতারা। নারী ক্রিকেটে বৈষম্য ও যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সেকান্দার আলীকে।       

সমকাল: জাহানারা আলমের অভিযোগ নারী ক্রিকেটারদের কতটা স্পর্শ করেছে?
শুকতারা:
এটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। নারী ক্রিকেটারদের জন্য খারাপ লাগার মতো ঘটনা। তবে অভিযোগের সত্যতা ও গভীরতা খুঁজে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। 

সমকাল: জাতীয় দলের সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম কি সবার সঙ্গেই অসৌজন্য আচরণ করতেন?
শুকতারা:
আমি ভারতে হরমোনজনিত চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরার পর জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাই। সে সময় তৌহিদ মাহমুদ স্যার ছিলেন মেয়েদের ক্রিকেটের ইনচার্জ। মঞ্জুরুল ইসলাম স্যার তখনই নির্বাচক ও ম্যানেজারের দায়িত্ব পেয়েছেন। ওই ক্যাম্পে মঞ্জু স্যারের সঙ্গে আমার একটু কথাকাটি হয়। আমার ব্যাগ থেকে কিছু টাকা চুরি যাওয়াতে তাঁকে বলেছিলাম সিসি ক্যামেরায় দেখতে। তিনি সেটা না করে উল্টো আমাকে চার্জ করেছিলেন ব্যাগে কেন টাকা রাখি। ওই ক্যাম্পে আমি এতটুকু দেখেছি– তিনি সিনিয়রদের সঙ্গে খুবই খারাপ ব্যবহার করতেন। 

সমকাল: আপনি কি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন কখনও? 
শুকতারা:
একটা সময়ে খুব হয়েছি। বিশ্বকাপে তৌহিদ স্যারের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হওয়ায় পরে আমাকে এড়িয়ে গেছেন। কোচিং স্টাফের কাছ থেকে কোনো সাপোর্ট পাচ্ছিলাম না। আমি নিজের শেষ ক্যাম্পে গিয়ে শুনেছি এটাই শেষ। রুবেল স্যার কয়েকজন খেলোয়াড়কে বলেছিলেন, যতই ভালো খেলি জাতীয় দলে ডাকা হবে না। হ্যাঁ, মানছি আমার ফিটনেসে ঘাটতি ছিল। টিম ম্যানেজমেন্ট চাইলে সেখানে উন্নতি করতে পারতাম। বিকেএসপির ওই ক্যাম্পে ইমন স্যার একপ্রকার আলাদা করে দিয়েছিলেন। আমাকে ইনডোরে একা নেটে রেখেছেন টিম বয়দের থ্রো বলে অনুশীলন করতে। অন্যরা টার্ফের উইকেটে নেট সেশন করেছে।  

সমকাল: জাহানারা আলম এত বছর এই ঘটনা চেপে রেখেছেন। এই চেপে রাখা একজন মেয়ের জন্য কতটা কষ্টের?
শুকতারা:
তার সঙ্গে এ ধরনের কিছু হয়ে থাকলে, সেটা খুবই কষ্টের। আশ্চর্যের বিষয় সে এত বছর ওই ঘটনা কারও সঙ্গে শেয়ার করেনি। আমরা অনেকেই সিনিয়র ছিলাম, সে বহু বছর আমাদের সঙ্গে খেলেছে। কিন্তু কারও সঙ্গে কিছু শেয়ার করেনি– জিনিসটা অন্যরকম। তবে এটা অবশ্যই ‘পেইনফুল’। 

সমকাল: এ রকম ঘটনার প্রতিকার কী? 
শুকতারা:
একটা মেয়ের কাছ থেকে অভিযোগটা এসেছে, এই ঘটনা শতভাগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। সে যে হয়রানির শিকার হয়েছে, সেটার বিচার পাওয়ার অধিকার তার আছে। অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত।  

সমকাল: আপনি কি মনে করেন আইনি প্রক্রিয়ায় গেলে ভালো হবে?
শুকতারা:
আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে যার সঙ্গে ঘটনাটি ঘটেছে সে। সে বুঝতে পারবে কী করতে হবে। 

সমকাল: আপনার ক্যারিয়ারে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে?
শুকতারা:
আমার নিজের সঙ্গে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। আমার সঙ্গে একটু দূরত্ব বজায় রেখেছে সবাই। সেদিক থেকে আমি সৌভাগ্যবান। আসলে আমি নিজের চোখে কাউকে হয়রানি হতেও দেখিনি। 

সমকাল: আপনার কাছে কেউ কোনো দিন যৌন হয়রানি, ‘বডি শেমিং’ অথবা শরীর স্পর্শের ঘটনার কথা বলেছেন?
শুকতারা:
জুনিয়র কিছু মেয়ে আমাকে সম্প্রতি বলেছে, তাদের সঙ্গে কিছু ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ নিজের বিব্রতকর হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বলেছে। আমার কাছে যারা মুখ খুলেছে, তাদের নাম বলছি না, বলতে পারব না। এই সমাজের বাস্তবতায় বলা ঠিকও হবে না। 

সমকাল: মঞ্জুরুল ইসলামের পাশাপাশি প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন জাহানারা আলম।
শুকতারা:
সত্যি বলতে তৌহিদ মাহমুদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে এ রকম কোনো কথা আগে শুনিনি বা দেখিনি। অনেক বছর তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি– আমার কখনোই মনে হয়নি তিনি এ রকম কিছু করতে পারেন।  

সমকাল: ফিজিও সুরাইয়া কি দলে বৈষম্য তৈরি করেন?
শুকতারা:
আমি যতদিন ছিলাম দলে সুরাইয়া ম্যামকে কখনও বৈষম্য করতে দেখিনি। আমার সঙ্গে সবাই ভালো ছিলেন। 

সমকাল: এই যে হয়রানির ঘটনা নিয়ে দেশে তোলপাড় চলছে, তাতে কি মেয়েদের ক্রিকেটে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে?
শুকতারা:
এটা বলা কঠিন। কারণ হলো এখনও কোনো কিছুই প্রমাণ হয়নি। তদন্তই শুরু হয়নি। যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেই ঘটনা ঘটেছে, প্রমাণ হলে মেয়েদের ক্রিকেট অনেকটাই পিছিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

×