অনিয়মই বিপিএলের নিয়ম!
তিনবার পরিবর্তন করে ৩০ নভেম্বর নিলামের দিন ঠিক করলেও খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশ করা হয়নি
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৯:২৭ | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ১০:৩৭
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ইমেজ ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গভর্নিং কাউন্সিলের কর্মকর্তারা। ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচন, আর্থিক স্বচ্ছতা, ইন্টিগ্রিটি প্রতিটি জিনিসে স্বচ্ছতা থাকবে– বলেছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে পরিচালকরা জড়িত থাকলেও স্বচ্ছতার স্বার্থে তা প্রকাশ করা হবে। বিসিবি কর্তাদের সে প্রতিশ্রুতির কোনো কিছুই এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। বরং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কার্যক্রমে তিতিবিরক্ত হয়ে ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টরা বলাবলি করছেন, ‘অনিয়মই বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের নিয়ম।’
নিয়ম ভেঙে ষষ্ঠ ফ্র্যাঞ্চাইজি নোয়াখালী
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি– ঢাকা ক্যাপিটালস, চট্টগ্রাম রয়্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্সকে চূড়ান্ত করে আন্তর্জাতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। এই তালিকায় হঠাৎ করে যোগ হয়েছে আরেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, দেশ ট্রাভেলসকে নোয়াখালী ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যাংক জামানত বা চেক দিতে বলা হয়েছে। শেষ সময়ে ষষ্ঠ ফ্র্যাঞ্চাইজি নেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে বিসিবির এক পরিচালক বলেন, ‘ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাড়াতে। ক্রিকেটাররা যাতে খেলার সুযোগ পান। সেই চিন্তা থেকে দেশ ট্রাভেলসকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’ এ ব্যাপারে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাড়াতে আমাদের অনুরোধ ছিল। সেটা না হলে বিদেশি ক্রিকেটার একজন কমিয়ে তিনজন করার আলোচনা হয়েছে। তারা ফ্র্যাঞ্চাইজি বাড়িয়েছে। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে ইফতেখার রহমান মিঠু ভাইকে ধন্যবাদ।’
ব্যাংক জামানত নিয়ে ধোঁয়াশা
বিসিবি থেকে নিয়মিত ব্রিফ না করায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি, ব্যাংক জামানত নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে জনমনে। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দুর্বলতা আড়াল করতে বিসিবি থেকেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। ১০ দিন আগে থেকে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যাংক জামানত ও চেকের মাধ্যমে ১০ কোটি টাকা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি পাঁচ কোটি টাকার ব্যাংক জামানত দিয়েছে। আরেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ১০ কোটি টাকার চেক দিয়েছে বলে খবর। এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে ইফতেখার রহমান মিঠুকে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
কবে হবে খেলোয়াড় তালিকা
বিপিএল আয়োজনের এক মাসও বাকি নেই। অথচ গতকাল পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করতে শর্ত জুড়ে দিয়ে হেলদোল করছে বিসিবি। তিনবার পরিবর্তন করে ৩০ নভেম্বর নিলামের দিন ঠিক করলেও গতকাল পর্যন্ত খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। সরাসরি সাইনিং ক্রিকেটার নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। কেউ জানে না বিদেশি ক্রিকেটারদের তালিকায় কোন মানের খেলোয়াড় রয়েছে। সেখানে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি নেওয়ায়।
সিদ্ধান্তে অনড় থাকছে না গভর্নিং কাউন্সিল
বিপিএলকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান আইএমজিকে নিয়োগ দিয়েছে। বিসিবির হযবরল অবস্থা থেকে আইএমজি কর্মকর্তারাও বুঝতে পারছে না কীভাবে বিপিএলের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। টিভি সম্প্রচার স্বত্ব, ইনস্টেডিয়া, টিম স্পন্সর নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। বিসিবির সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকায় ফ্র্যাঞ্চাইজিরাও কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারছে না।
সমাধান হয়নি ফিক্সিং ইস্যু
বিপিএলের একাদশ আসরে অনিয়ম ও ফিক্সিংয়ের মতো দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। বিসিবি কর্মকর্তা, ক্রিকেটার, সংগঠকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, আইসিসি থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে ফিক্সিং সন্দেহের তালিকা করে ৯০০ পাতার রিপোর্ট দিয়েছে বিসিবিকে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করার জন্য ইন্টিগ্রিটি পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শালকে দেওয়া হয়েছে। তিনি মূল্যায়ন রিপোর্ট দিলেই অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি করার কথা ছিল। বিপিএল নিলামের চার দিন বাকি থাকলেও অভিযুক্তদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিসিবির সিনিয়র সহসভাপতি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য শাখাওয়াত হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি মার্শালের রিপোর্টের জন্য। আজ বোর্ড সভাপতির সঙ্গে কথা বলবেন মিঠু ভাই। আশা করছি, খেলোয়াড় নিলামের আগেই একটা সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।’ ক্রিকেটার, সংগঠক, কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফ মিলে ২৮ জনের একটা তালিকা তদন্ত কমিটির রিপোর্টে রয়েছে বলে জানা গেছে।
দলের সঙ্গে সিআইডি সদস্য!
আইসিসি দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা ছাড়াও প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে দুজন করে সিআইডি সদস্য রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে জটিলতা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে করে ব্যাহত হতে পারে ক্রিকেটের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
