ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিপিএলে নেই লাল তালিকার ৯ ক্রিকেটার

বিপিএলে নেই লাল তালিকার ৯ ক্রিকেটার
×

বিপিএল থেকে বাদ পড়লেন বিজয় মোসাদ্দেকসহ ৯ ক্রিকেটার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | ১৩:৩৪

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) একাদশ আসরের ফিক্সিং তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন শেষে লাল তালিকায় থাকা ৯ ক্রিকেটারকে নিলামে না রাখার সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইনটিগ্রিটি পরামর্শক অ্যালক্স মার্শাল। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের একজন কর্মকর্তা জানান, লাল তালিকাভুক্ত ক্রিকেটারের মধ্যে আরিফুল হক ও আল আমিন হোসেন বিদেশে থাকায় নিলামের প্রাথমিক তালিকায় ছিলেন না। এ বছর ঘরোয়া লিগে না খেলায় এ দুই ক্রিকেটারকে নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছিল বিসিবি নির্বাচক প্যানেল। সন্দেহের তালিকায় থাকা বাকি সাত ক্রিকেটার হলেন এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, শফিউল ইসলাম, আলাউদ্দিন বাবু, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ নিহাদুজ্জামান ও সানজামুল ইসলাম। সমকালের কাছে প্রমাণ থাকায় নামগুলো প্রকাশ করা হলো। 

বিপিএল একাদশ আসরে স্পট ফিক্সিং জড়িত সন্দেহের তালিকায় ক্রিকেটার ও অফিসিয়াল মিলিয়ে ২৫ জনের নাম রয়েছে বলে জানান একজন পরিচালক। বিসিবির নিয়োগকৃত তিন সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি অপরাধ প্রমাণের মাত্রার ভিত্তিতে চারটি ক্যাটেগরি করে অভিযুক্তদের তালিকাভুক্ত করেন। বিপজ্জনক তথা লাল তালিকায় ক্যাটেগরিতে থাকা ক্রিকেটার সবচেয়ে বেশি। আম্বার ক্যাটেগরিতে রাখা হয়েছে সোহাগ গাজীকে। এ কারণে বিপিএল নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে তাঁকে। 

এছাড়া হলুদ ও সবুজ তালিকায় থাকা ক্রিকেটাররা নিলামে থাকলেও সংগঠক এবং অফিসিয়ালদের তালিকা ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দেওয়া হয়েছে বলে গভর্নিং কাউন্সিলের একজন সদস্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করেছিলাম ১২ জন ক্রিকেটারকে নিলাম থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করবেন অ্যালেক্স। কয়েকজনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থিত সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে অ্যালেক্স যেহেতু বিশেষজ্ঞ তাই তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’ লাল তালিকায় থাকা ৯ ক্রিকেটার বিপিএল ছাড়া বাকি লিগে খেতে পারবেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায় বিসিবি। 

ফিক্সিং সন্দেহের তালিকায় থাকা ক্রিকেটারদের নাম প্রকাশ না করা হলেও বিসিবি চেয়েছিল পরোক্ষে সামনে আনতে। এ ব্যাপারে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘টেকনিক্যাল কারণে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ করতে পারি না। এই কারণে পরোক্ষে জানিয়ে দেওয়া হলো তারা অভিযুক্ত। এভাবে বাকিদের বার্তা দেওয়া হলো। আমি বিশ্বাস করি এবার অন্তত কিছু করার আগে ভাববে। সন্দেহের তালিকায় থাকা অফিসিয়ালরা আমাদের নিয়ন্ত্রণে না। তাই ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বলা হয়েছে তাদের না নিতে।’ 

এই ৯ ক্রিকেটারের শাস্তি কী হবে জানতে চাওয়া হলে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু মিডিয়াকে বলেন, ‘তারা দোষী বা নির্দোষ কিছুই বলছি না। এ বিষয়টি দেখার জন্য একটি বিভাগ আছে। তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা পরিচ্ছন্ন বিপিএল উপহার দেওয়ার জন্য অভিযুক্তদের বিরত রেখেছি।’ 

নিলামে না থাকা এনামুল হক বিজয় বলেন, ‘আমি জাতীয় দলে খেলেছি, লিগে খেলি। কিছু করে থাকলে বিসিবি প্রমাণ দেখিয়ে বাদ দিক। এভাবে বাদ দেওয়া অসম্মানের। বিসিবিকে আমি আইনি নোটিশ পাঠাব।’ 

আল আমিন হোসেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফোনে প্রতিবাদ করে বলেন, ‘আমি ছুটি নিয়েছি, আমাকে কোনো তালিকাভুক্ত করা হয়নি।’ তিনি বিসিবি বা নির্বাচকদের কাছ থেকে কোনো ছুটি নেননি। প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর সঙ্গে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে তা উল্লেখ আছে। 

শফিউল ইসলাম বলেন, ‘আমার সঙ্গে কেউ কথা বলেনি। আমি কোনো কিছু দেখিনি, খেলার ইচ্ছাও নেই। আসলে মাথা না ধরে ছোট পুঁটি মাছ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কে কী বলেছে, আমাকে প্রমাণ দেখাক। আমি দেশের হয়ে খেলেছি। আগেও অনেক কিছু সহ্য করেছি। এখনও সহ্য করতে হবে। যে যা ভাবার ভাবুক। এসব জায়গা থেকে মন উঠে গেছে।’ এদিকে, মনির হোসেন খানকে বাদ দেওয়া হয়েছে গত দুই বছর লিগে না খেলার কারণে।

আরও পড়ুন

×