সর্বোচ্চ দামে নয়, দল পাওয়াতেই খুশি নাঈম শেখ
নাঈম শেখ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৩:০৩
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নিলামে নাঈম শেখের বাজিমাত। এক বিপিএলেই কোটিপতি হয়ে গেলেন তিনি। লিটন কুমার দাস, তাওহীদ হৃদয়কে পেছনে ফেলে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হলেন তিনি। বাঁহাতি এ ওপেনারকে এক কোটি ১০ লাখ টাকায় দলে নিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। নিলামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মানী পাওয়া ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয়। ৯২ লাখ টাকায় তাঁকে কিনেছে রংপুর রাইডার্স। বাংলাদেশ টি২০ দলের অধিনায়ক লিটনের সম্মানী ৭০ লাখ টাকা। নিলামে বিড করে তাঁকেও দলে নিয়ে বাজিমাত করেছে রংপুর। জাকের আলী, পারভেজ হোসেন ইমন ভিত্তিমূল্যে বিক্রি হলেও উদীয়মান অনেকেই অর্ধ কোটি টাকায় দল পেয়েছেন।
ভাগ্যের খেলা নিলামে লিটনকে কম সম্মানী পেতে দেখে হতাশ হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান। তাঁর মতে লিটন এ মুহূর্তে দেশসেরা টি২০ ক্রিকেটার। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবেও তাঁকে সম্মান দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। ‘এ’ ক্যাটেগরি থেকে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে নিলামে তোলা হয় লিটনকে। তাঁকে পেতে দলগুলোর মধ্যে সেভাবে কাড়াকাড়ি পড়েনি। এ নিয়ে আকরাম খান বলেন, ‘নিলামে লিটনকে কেন পরে ডাকা হলো বুঝতে পারছি না। এ সিদ্ধান্ত কে নিয়েছে, জানি না। আমার মতে নিলামের প্রথম বিডে লিটনকে রাখলে ভালো করত। সে আরও বেশি সম্মানী পাওয়ার যোগ্য।’
সবার চেয়ে বেশি দাম নয়, দল পাওয়াতেই খুশি নাঈম শেখ। ‘দল পেয়েছি এটাই বেশি ভালো লাগছে। তবে সবচেয়ে বেশি দর ওঠায় খুশি আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। পরিবার এবং সমর্থকদের অনেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আমাকে’।
আসলে ভাগ্য লিটনের পক্ষে ছিল না। টসে নাঈমের সিরিয়াল প্রথমে এসেছে। বিপিএল অলিখিত নিয়মই আছে তারকা ও দেশের শীর্ষ ক্রিকেটারদের সম্মান দেখানো। মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিদ হাসান তামিম ও তাসকিন আহমেদও এ ক্যাটেগরিতে ছিলেন। তারা সরাসরি দলে যোগ দেওয়ায় নিলামের তালিকায় রাখা হয়নি। মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জন্য নিলাম ছিল হতাশ করা। ‘বি’ ক্যাটেগরির এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে প্রথমকে কেউ দলে নিতে চায়নি। তাদেরকে ছাড়াই দলগুলো কোটা পূরণ করে ফেলায় মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের সম্মানী কমে যাওয়ার কথা। শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি রংপুর রাইডার্সের সিইও ইশতিয়াক সাদেকের আহ্বানে। ভিত্তিমূল্য ৩৫ লাখ টাকায় মাহমুদউল্লাহকে দলে নেয় রংপুর। মুশফিককে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। আকরামের মতে, ‘মুশফিক ও রিয়াদের সঙ্গে খুবই খারাপ করা হয়েছে। বিসিবির উচিত ছিল শীর্ষ ক্যাটেগরিতে দুজনকে রাখা। ফ্র্যাঞ্চাইজিদেরও সম্মান দেখানো উচিত ছিল।’
জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু অবশ্য বিষয়টিকে স্পোর্টিংলি নিয়েছেন। ‘নিলামে কারও হাত থাকে না। এখানে ভাগ্যের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের চাহিদার ওপর খেলোয়াড়ের সম্মানী নির্ভর করে। খেয়াল করে দেখবেন অনেক জুনিয়র ক্রিকেটার ৫০ লাখ টাকায় দল পেয়েছে। জাতীয় দলে অনেক কম টাকা পাচ্ছে। এটা মেনে নিতে হবে। প্লেয়ার্স ড্রাফট হলে সম্মানী নির্ধারণ করে দেওয়ার সুযোগ ছিল।’
এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে খেলে পরিচিতি পাওয়া ‘এ’ দলের হাবিবুর রহমান সোহানকে ৫০ লাখ টাকায় দলে নিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনকে মুগ্ধ করেছেন এই ওপেনার। বড় শট খেলতে পারা এই ওপেনারকে নিয়ে বেশ কাড়াকাড়ি হয়েছে। অলরাউন্ডার ক্যাটেগরিতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে ৬৮ লাখ টাকা সম্মানীতে দলে নিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। আব্দুল গাফফার সাকলাইন, ইয়াসির আলী রাব্বিকে নিয়েছে রাজশাহী। তাদের সম্মানী ৪৪ লাখ টাকা। ক্রিকেটার্স ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনকে সৌভাগ্যবান বলতে হবে। ৫২ লাখ টাকায় ঢাকা ক্যাপিটালসে খেলবেন তিনি।
