চট্টগ্রামকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিসিবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:৪০
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইন্টিগ্রিটি দল পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে দুজন সাবেক মেজরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিসিবি দুর্নীতি দমন ইউনিটে (এসিইউ)। অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্দান্ত কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাস্তবিক অর্থে বিসিবির প্রত্যাশা তারা কতটা পূরণ করতে পারবে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ বিপিএল শুরুর আগেই নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মুখে বিসিবি।
চট্টগ্রাম রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিয়ে ইন্টিগ্রিটি ইস্যুতে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। গতকাল জানা গেছে, চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে ব্যাংক জামানত কার্যকর হয়নি। বিকল্প হিসেবে যে চেক দিয়েছে, সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও টাকা নেই বলে খোঁজ নিয়ে জেনেছে বিসিবি। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বিসিবির গলার কাঁটা মনে করা হচ্ছে।
বিসিবির প্রজ্ঞাপন মেনে ফ্র্যাঞ্চাইজি পাওয়ার জন্য দুই কোটি টাকার চেক আবেদনের সঙ্গে দিতে হয়েছিল প্রতিষ্ঠানগুলোকে। সেই পে-অর্ডার নগদায়ন করতেও কাঠখড় কম পোড়াতে হয়নি বিপিএল কর্তৃপক্ষকে। ১০ কোটি টাকার ব্যাংক জামানত নিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গিয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। বেশ কয়েকবার সময় পরিবর্তন করেও সম্পূর্ণ ব্যাংক জামানত পাওয়া যায়নি। ১০ কোটি থেকে কমিয়ে পাঁচ কোটি টাকা নেওয়ার প্রস্তাব করেও সফল হচ্ছিল না। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল শেষে বিকল্প হিসেবে চেক গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। বাস্তবতা হলো চেক দেওয়া হলেও সেগুলো ক্যাশ করতে পারছে না।
বিসিবির এক কর্মকর্তা এ ব্যাপারে বলেন, ‘কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে কিছু কিছু টাকা পাওয়া গেছে। ওই চার-পাঁচ কোটি টাকা দিয়েও কিছু কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে চট্টগ্রামের কোনো কিছুই ঠিক মনে হচ্ছে না। তারা ব্যাংক জামানত দিতে পারেনি। চেক নিয়েও লাভ হচ্ছে না। এই চেক জমা দিলেই বাউন্স করবে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এখন করণীয় হবে চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিককে ডেকে জিজ্ঞেস করা, তারা দল চালাতে পারবে কিনা। তারা না পারলে বিসিবি দায়িত্ব নেবে।’
গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মুখরোচক আলোচনা ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বিসিবি। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার থেকে বর্তমান অনেক ক্রিকেটার এ ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠুকে এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে। একদিকে ফিক্সিং তদন্ত প্রতিবেদনের লাল তালিকায় থাকা সন্দেহভাজন ৯ ক্রিকেটারকে নিলাম থেকে বাদ দেওয়ায় ঝামেলা কম হয়নি। সামাজিক মাধ্যম গরম করে রেখেছিলেন এনামুল হক বিজয়। বিসিবিকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। সেখানে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে এসিইউ ইউনিট, সিআইডি দিয়েও বিতর্কিতদের ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে তাড়াতে পারছে না বিসিবি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনটি দলে পেছন থেকে কাজ করছেন সন্দেহভাজন ও বিতর্কিত কয়েকজন। এ ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে একজন পরিচালক বলেন, ‘কেউ বাইরে থেকে কাজ করলে আমাদের কিছু করার থাকে না। ছায়ার সঙ্গে তো আপনি লড়তে পারেন না। ছায়াকে আপনি লাথি দিলে সেও আপনাকে লাথি দেবে। আমরা দেখব খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, মালিকা পক্ষের ইন্টিগ্রিটি মাঠ, হোটেল ঠিক আছে কিনা। বিসিবি থেকে যাদের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে, তাদের অনেকেই হয়তো বাইরে থেকে অফিস করবে। আন-অফিসিয়ালদের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার অধিকার আমাদের নেই।’
একদিকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে টানাপোড়ন, অন্যদিকে ইন্টিগ্রিটি ইস্যুতে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম রয়্যালস
- বিপিএল
