ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকারে হুজাইফা

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে হকি খেলতাম

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে হকি খেলতাম
×

হুজাইফা হোসেন

সাখাওয়াত হোসেন জয়

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:২৩

ভারতে অনুষ্ঠিত জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে আমিরুল, রাকিবুলদের মতো হুজাইফাও নিজেকে চিনিয়েছিলেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ দলের সাফল্য এবং হকি খেলোয়াড় হওয়ার গল্পটি সমকালকে বলেছেন মো. হুজাইফা হোসেন। শুনেছেন সাখাওয়াত হোসেন জয়।

সমকাল: জুনিয়র বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতা কেমন হলো?
হুজাইফা:
এই প্রথম হকিতে বাংলাদেশের কোনো দল বিশ্বকাপে খেলেছে। আর সেই প্রথমের সঙ্গে আমার নামটিও যুক্ত। বাইরের দেশগুলো আমাদের সেভাবে গোনায় ধরেনি। সবাই মনে করেছিল, বাংলাদেশ ছোট একটি দেশ, তারা আর কী করবে!  যখন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রথম ম্যাচ খেলি, তখন সবাই বলেছে এটা কোনো টিম। গ্যালারি থেকে যখন বাংলাদেশকে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছিল, আমরা সবাই অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। তখন আমাদের সবার মধ্যে একটি তাড়না কাজ করেছিল যে আমাদের জিততে হবে। বাংলাদেশকে কিছু একটা দিতে হবে।  

সমকাল: ২৪ দলের মধ্যে ১৭তম হয়েছেন। এটা মনে হলে কেমন লাগে?
হুজাইফা:
এই জিনিসটা মনে হলে ভাবি, আমরা কী করলাম। আমাদের সবারই স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপে খেলা। আমার এটা অনূর্ধ্ব-২১ দলের শেষ বিশ্বকাপ। এখন আমরা একটা অর্জন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনকে দিয়ে গেলাম। এটা দিয়ে বাংলাদেশের হকি পরিবর্তন হতে পারে। 

সমকাল: কেমন পরিবর্তন আশা করছেন। হকিতে তো কোনো লিগ হয় না।
হুজাইফা:
আমরা ফেডারেশনকে বলেছি, প্রতিবছর যেন লিগ হয়। সিনিয়র টিমে যারা আছেন, সবাইকে নিয়ে যেন টুর্নামেন্ট করা হয়। দেশের হকির যেন উন্নতি হয়। বাইরে যারা আছে, আমাদের সাফল্য দেখেই তারা চিনেছে। এ জন্য আমরা চাচ্ছি প্রতিবছর প্রিমিয়ার লিগ, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ যেন নিয়মিত হয়।

সমকাল: কুর্মিটোলার শাহীন দ্বীপে আপনাদের বড় সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এই জিনিসটা কেমন লাগছে?
হুজাইফা:
এতে অনেক আনন্দ লাগছে। দেশের মানুষ আমাদের দেখছে। দেশকে ভালো কিছু দিতে পারছি বলেই এই জায়গায় এসেছি। আজকের অনুষ্ঠানে পরিবার থাকলে ভালো লাগত। যদি বাবা-মা থাকতেন, তাহলে দেখতে পারতেন যে তাদের ছেলে কোথায় থাকে। কারণ, তারা তো গ্রামে সেভাবে আমাকে দেখতে পান না।

সমকাল: কীভাবে হকির প্রেমে পড়েছেন?
হুজাইফা:
হকির শুরুটা আমার গ্রাম থেকেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধাপ পেরিয়ে শহরে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হই। ওই সময় স্কুলে যাওয়ার পর বলল যে বিকেলে খেলার অনুষ্ঠান আছে, যদি তোমরা কেউ দিতে চাও যেও। তখন ভাবলাম, কী খেলা? হকি! কারণ, হকি তো চিনতাম না। মূলত ক্লাস ফাঁকি দিয়েই হকি খেলতাম। ছোটবেলা থেকেই হকির প্রেমে পড়েছি। প্রথম যখন এক মাসের ক্যাম্প করি, তার পর থেকেই হকির প্রেমে পড়ে যাই। এক মাস ক্যাম্প করলে স্কুলে যাওয়া লাগত না। সিক্স ও সেভেনে ক্লাসটা বেশি ফাঁকি দিতাম। এরপর এক বছর প্র্যাকটিস করলাম। ক্যাম্প শেষ করে ২০১৬ সালে ক্লাস সেভেনে উঠলাম। তখন বিকেএসপিতে ট্রায়াল দিলাম। এক মাসের জন্য ট্রায়ালে টিকলাম। তখন আস্তে আস্তে হকি খেলাটা বুঝলাম। এরপর চূড়ান্তভাবে বিকেএসপিতে ভর্তি হলাম। 

সমকাল: পরিবার থেকে বাধা দিত কিনা?
হুজাইফা:
হ্যাঁ, বাবা প্রচুর বকা দিত। বলত, তুই এই খেলাধুলা দিয়ে জীবনে কিছু করতে পারবি না। ভালো কিছু হবে না। তবে এখন বাবা আমাকে নিয়ে অনেক গর্ব করে। আমার জন্য এলাকার মানুষ বাবাকে চেনে।

সমকাল: আপনি মনে করেন, এই সাফল্য দেখে হকির প্রতি তরুণদের আগ্রহ জন্মাবে?
হুজাইফা:
অবশ্যই। হকি এখন একটা পর্যায়ে চলে গেছে। আর আমরা যদি সিনিয়র টিমকে বিশ্বকাপে নিতে পারি, তখন পুরো হকির চিত্র বদলে যাবে। তখন সবাই বলবে, জুনিয়রদের পর সিনিয়ররাও বিশ্বকাপে খেলছে। তা দেখে তরুণ প্রজন্মের হকির প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

আরও পড়ুন

×