ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রুগ্‌ণ লিগে অর্থকষ্টে ফুটবলাররা

রুগ্‌ণ লিগে অর্থকষ্টে ফুটবলাররা
×

ফাইল ছবি

সাখাওয়াত হোসেন জয়

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩:১৫

নাম বদলে করা হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ। আধুনিকতার ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখানো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্তাদের নজর নেই এই লিগে। অর্ধেক পথ শেষ হলেও দেখা যায়নি কোনো টেলিভিশনে খেলার সম্প্রচার। তারিক কাজীর পর যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কিউবা মিচেল বসুন্ধরা কিংস ছেড়ে দেখিয়ে দিয়েছেন ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার রুগ্‌ণ চেহারা। দুজনই পাওনা না পাওয়ার কারণ দেখিয়েছেন। এতে ক্লাবগুলোর পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

লিগের প্রথম পর্ব শেষ হলেও অর্থকষ্ট কাটেনি ফুটবলারদের। টাকা পাননি বলে মধ্যবর্তী দলবদলের কারণে ছুটিতে যাওয়া খেলোয়াড়দের মুখে হাসি নেই। পাওনা নিয়ে ক্লাবগুলো গড়িমসি করলেও বাফুফে নীরব। একই সঙ্গে ফুটবলারদের সমস্যা সমাধানে যাদের এগিয়ে আসা উচিত, সেই খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির ভূমিকা নীরব দর্শকের মতো।

ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ফুটবলারদের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ছলচাতুরি করে ক্লাবগুলো। চুক্তির কাগজের কপি ফুটবলারদের দেয় না তারা। তাই কোনো ফুটবলার নিজের পাওনা চাইতে গেলে উল্টো হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আছে বেশ কয়েকটি ক্লাবের বিরুদ্ধে। তাই ভয়ে অনেক ফুটবলার মুখ খুলতে চান না। পাওনা নিয়ে এবার ক্লাবগুলোর উদাসীনতায় হতাশ ফুটবলাররা। ছুটিতে গেলেও বেশির ভাগ খেলোয়াড়কেই ক্লাবের কর্তারা বিদায় করেছেন টাকা ছাড়া। তাই টাকা না দিলে মধ্যবর্তী দলবদলে ঠিকানা বদলের চিন্তা আছে কয়েকজন খেলোয়াড়ের। 

এক ফুটবলার গতকাল সমকালের কাছে নিজের হতাশা এভাবেই প্রকাশ করেন, ‘টাকা পাইনি, মুখে তো আর হাসি থাকার কথা নয়। আমি এর আগে কখনও এমনটা দেখিনি। মাঝে মাঝে মনে হয় নিজের ওপরই দায় দেই যে কেন ফুটবল খেলতে এসেছি। জাতীয় দলের খেলোয়াড় হয়ে আমাদেরই এই অবস্থা, অন্যদের অবস্থা আরও খারাপ। যদি পেমেন্ট না পাই, তাহলে দ্বিতীয় লেগে না-ও খেলতে পারি।’

১০ দলের লিগে একমাত্র ফর্টিস ফুটবল ক্লাব ছাড়া আর কোনো দলই খেলোয়াড়দের ঠিকমতো পারিশ্রমিক দিচ্ছে না। ফুটবলারদের এই বেতন সমস্যার সমাধানে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বাফুফের কাউকে। এমনকি পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসানও পারিশ্রমিক ইস্যুতে চুপ। অবশ্য কিংসের সভাপতি হয়ে তিনি নিজেও তাঁর ক্লাবের খেলোয়াড়দের বেতন দিতে পারছেন না। কোনো হেলদোল নেই ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতিরও। 

খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অভিযোগ না পাওয়ায় কোনো কিছু করা যাচ্ছে না বলে জানান ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন, ‘ফুটবলাররা তো বেতন নিয়ে আমাদের সেভাবে কখনও জানায়নি। যদি ফুটবলাররা এসে বলে যে আমরা টাকা পাচ্ছি না, তখন আমরা ক্লাবগুলোর সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে আমরা ফেডারেশনে সভাপতির সঙ্গে কথা বলব।’ 

কিন্তু মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব যে খেলোয়াড়দের বেতন দিতে পারছে না, তা ফুটবল অঙ্গনে সবারই জানা। টাকার জন্য ম্যাচ বয়কটের মতো কঠিন পথে হাঁটতে চেয়েছিলেন মোহামেডানের ফুটবলাররা। তখনও এগিয়ে আসেনি খেলোয়াড়দের এই সংগঠনটি। ‘আমরা এখনও মোহামেডানের সঙ্গে বসিনি। চিন্তা করছি বসব’– বলেন ইকবাল।

নবম রাউন্ড শেষে সমান ১৮ পয়েন্ট সাবেক চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসির। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে ফর্টিস। পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ক্লাবের কর্তারা খেলোয়াড়দের বেতনের সঙ্গে দিয়েছে বোনাসও। ফুটবল লিগে ক্লাবটির চমক প্রসঙ্গে ফর্টিস এফসির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা দুর্দান্ত কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের দুর্দান্ত কাজের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন ফর্টিস গ্রুপের এমডি ও ক্লাবের প্রেসিডেন্ট। ক্লাবের প্রতিটি সদস্যের আর্থিক নিরাপত্তার বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছেন তারা। ক্লাবের কর্ণধাররা তাদের কমিটমেন্ট রক্ষা করায় খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দিতে পারেন। যার প্রতিচ্ছবি পয়েন্ট টেবিল।’

আরও পড়ুন

×