টি২০ বিশ্বকাপ
ভারতে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি নেই, মূল্যায়ন আইসিসির
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩১ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতে টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে বলে বিসিবির কাছে আইসিসি শঙ্কা প্রকাশ করেছে– গতকাল সোমবার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের এমন একটি বক্তব্যের পর ঝড় উঠেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। আসিফ নজরুল জানান, আইসিসি নিরাপত্তা দল যে চিঠি পাঠিয়েছে, তাতে তিন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। মুস্তাফিজুর রহমান দলে থাকলে, সমর্থকরা বাংলাদেশের জার্সি পরলে এবং বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে। আইসিসি নিরাপত্তা দলের কাছ থেকে প্রাপ্ত চিঠির কপি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে এর কয়েক ঘণ্টা পর বিসিবি থেকে পুরো ব্যাপারটি পরিষ্কার করে বিবৃতি দেওয়া হয়। যেখানে বলা হয়েছে, ‘যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যে আইসিসির যে চিঠির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মূলত আইসিসি ও বিসিবির নিরাপত্তা বিভাগের মধ্যে হওয়া একটি অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ। এই যোগাযোগ ছিল টি২০ বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন-সংক্রান্ত। এই চিঠি বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিসিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসির আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব নয়।’ বিসিবি নিশ্চিত করেছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আইসিসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
ক্রীড়া উপদেষ্টার বিস্ফোরক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করে বিখ্যাত ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো। বিসিবির সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছে আইসিসি।
ওয়েবসাইটটিকে আইসিসি জানিয়েছে, ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে তারা বাংলাদেশের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি খুঁজে পায়নি। তবে কয়েকটি ভেন্যুতে খুবই স্বল্পমাত্রার নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলেও জানান তারা। বিসিবির সঙ্গে তাদের এ আলোচনা গত সপ্তাহের। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার কাছে কেউ বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে বলেও শঙ্কা তাদের।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নটি বিসিবির নিরাপত্তা দলের কাছে তুলে ধরা হয় এবং এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়– দলের জন্য কোনো সামগ্রিক হুমকি নেই। তবে কিছু ভেন্যুতে ঝুঁকি কম থেকে মাঝারি এবং কিছু ভেন্যুতে কম থেকে শূন্য, বিশ্বজুড়ে আইসিসির মূল্যায়ন মানদণ্ড অনুযায়ী যা ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট কারণ হিসেবে গণ্য হয় না।
ইএসপিএন ক্রিকইনফো লিখেছে, আসিফ নজরুলের দাবিগুলোকে আইসিসি ‘পরিস্থিতির ভুল ব্যাখ্যা’ হিসেবে দেখছে। নিরাপত্তা মূল্যায়নে এমন কোনো বিষয় নেই যে, আইসিসি কোনো ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত দিয়েছে, অথবা সমর্থকদের তাদের জার্সি পরে ঘোরাফেরা না করার নির্দেশ দিয়েছে, অথবা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন স্থগিত করা উচিত।
নিরাপত্তার কারণে ভারত থেকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধে ৪ জানুয়ারি আইসিসিতে একটি ইমেইল করে বিসিবি। পরে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ বিশদভাবে লিখে ইমেইল করতে বলা হয়। বিসিবি ৮ জানুয়ারি নিরাপত্তা হুমকি-সংক্রান্ত ১০০টির মতো ভিডিও এবং নিউজ লিঙ্ক সংযোজন করে বিশ্বকাপ ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করে। সেই চিঠির জবাব এখনও আইসিসি দেয়নি বলে জানান বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী। সংস্থাটির নিরাপত্তা দলের কাছ থেকে ইমেইল পাওয়ার বিষয়েও কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। দু-এক দিনের মধ্যে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি আসতে পারে বলে জানা গেছে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা গতকাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইসিসির যে নিরাপত্তা দল আছে, নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা আছে, তারা একটা চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি জিনিস হলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা আশঙ্কা বাড়বে।’
আসিফ নজরুলের মতে, নিরাপত্তা দলের এমন বক্তব্য প্রমাণ করেছে, ভারতে বাংলাদেশ দলের টি২০ বিশ্বকাপ খেলার মতো অবস্থা নেই। আইসিসি যদি আশা করে, শ্রেষ্ঠ (সেরা) বোলারকে বাদ দিয়ে আমরা ক্রিকেট দল করব, আমাদের যারা সমর্থক আছে, তারা বাংলাদেশের জার্সি পরতে পারবে না কিংবা আমরা নির্বাচন পিছিয়ে দেব– এর চেয়ে উদ্ভট, অবাস্তব, অযৌক্তিক প্রত্যাশা হতে পারে না।’
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে টানাপোড়েনের শুরু। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ধর্মীয় কিছু গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে বাংলাদেশের পেসারকে দল থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দেয় দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। পাল্টা জবাবে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে আগামী মাসের বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার ঘোষণা দেয় বিসিবি। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নিতে আইসিসিকে চিঠি পাঠায় তারা। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী দিনে কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বে ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দুটিও কলকাতায়।
গত রোববার ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ লিখেছে, বিসিসিআই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহর সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভারতেই বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। এ ক্ষেত্রে কলকাতা থেকে ভেন্যু দেশটির অন্য রাজ্যে নেওয়া হতে পারে। বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছে তারা।
- বিষয় :
- ক্রিকেট
- টি২০ বিশ্বকাপ
