বাবাই যখন ইসাখিলের কোচ
ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:৪৮
পাখির ছানার মতো মোহাম্মদ নবিও নিজের তিন ছেলেকে আগলে রাখেন। তাঁর ছেলেদের যাপিত জীবন তাই সুশৃঙ্খল। লেখাপড়া, ক্রিকেট এবং পরিবারের বাইরের জগৎ সীমিত। আড্ডার টেবিলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নবি নিজেই ছেলেদের নিয়ে গল্প করেছেন। বাবার পাশে বসে বন্ধুর মতো গল্পগুলো শুনতেন হাসান ইসাখিল।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আড্ডাটা জমে উঠত প্রতি রাতে। জাফরানমিশ্রিত চা পান করতে করতে গল্পে আড্ডায় রাত গভীর হতো। নবি আর হাসান এমনভাবে কথা বলতেন যে, অচেনা লোকের কাছে দুজনকে বন্ধু ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্কে চিন্তা করাই কঠিন হবে। রোববার নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে বিপিএলে অভিষেকের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে হাসান নিজেই স্বীকার করেন বাবার সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্ক।
বিপিএলের আগে খুব বেশি বিদেশি লিগে খেলা হয়নি হাসানের। আফগানিস্তানে প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট এ ক্রিকেট, টি২০ লিগে খেলেছেন তিনি। গত বছর নেপাল প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ছেলেকে ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকে নবির। হাসানের ক্রিকেট কোচও তিনি। নিজে ছেলেকে ক্রিকেট শেখালেও পারিবারিক একজন ট্রেনার রেখেছেন। তিনি হলেন পাকিস্তানের নিয়াজ উল ইসলাম। শারজাহয় ক্রিকেট কোচিং করান তিনি। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ট্রেনারও তিনি। এই প্রশিক্ষকের সঙ্গেই বাংলাদেশে খেলতে এসেছেন হাসান। নিয়াজের হাতে ছেলেকে ছেড়ে দিয়ে নির্ভার থাকেন নবি। এই যেমন জাতীয় দলের সিরিজ খেলার জন্য আমিরাতে ফিরে যাওয়ার আগে ছেলেকে রেখে গেছেন নিয়াজের তত্ত্বাবধানে।
বিপিএলের শুরু থেকে হাসান দলে থাকলেও বেশির ভাগ ম্যাচে দ্বাদশ খেলোয়াড় হতেন। বদলি ফিল্ডার হতে বা পানি নিয়ে মাঠে যাওয়া উপভোগ করতেন ছেলেটি। আইএল টি২০ শেষ করে নবি বিপিএলে যোগ দেওয়ার পরও দ্বাদশ খেলোয়াড়ই থাকতে হয়েছে হাসানকে। ম্যাচ না পেলেও নবি বিশ্রামের দিনগুলোও ছেলেকে নিয়ে মাঠে এসেছেন। সিলেটের আউটারে ব্যাটিং প্র্যাকটিস করিয়েছেন, বড় শট খেলার কৌশল বাতলে দিয়েছেন বাবার স্নেহে। ম্যাচের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত করেছেন ছেলেকে।
টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে নবির আর্জি ছিল জাতীয় দলের খেলায় ফিরে যাওয়ার বাবা-ছেলে একসঙ্গে একটি ম্যাচ খেলতে চাওয়া। পুরো দলের কাছ থেকেই সমর্থন পেয়েছিলেন নবি। ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচে হাসানকে নোয়াখালীর ক্যাপ পরিয়ে দেন নবি নিজেই। অভিষেকেই সেঞ্চুরির খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন হাসান। ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার ৯২ রান করেন। স্বপ্ন পূরণের ম্যাচে নবি খুব আবেগি ছিলেন। যে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অপছন্দ করেন সেখানেও গেছেন সানন্দে।
- বিষয় :
- মোহাম্মদ নবী
- বিপিএল
