বিশ্বকাপ নিয়ে আশার খবর নেই
বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছে আইসিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩৯ | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো খবর ছিল না গত কয়েক দিন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব মিডিয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জন্য দুঃসংবাদ দিয়ে গেছে। বিসিবি কর্তারা সেই তথ্যগুলো ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। বুধবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভার্চুয়াল সভায় ভোটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। একমাত্র পাকিস্তান ছাড়া কেউই পাশে ছিল না। ১২টি পূর্ণ সদস্য দেশের সঙ্গে দুটি সহযোগী দেশ সভায় অংশগ্রহণ করে। আইসিসির নির্বাহী কমিটি বাংলাদেশের দাবিকে যৌক্তিক মনে করেনি। সদস্য দেশগুলোর সমর্থন না থাকায় ভারতেই বিশ্বকাপ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার। বাংলাদেশ না খেললে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়।
আইসিসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, বিশ্বকাপের সূচি অপরিবর্তিত থাকবে। বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে। দেশটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও সমর্থকদের জন্য নিরাপত্তা হুমকি নেই বলেও দাবি করে আইসিসি। সংস্থাটি বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছে, বিসিবির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে আইসিসি। বিসিবি থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে যেসব নিউজ লিঙ্ক পাঠিয়েছে, সেগুলো জাতীয় দলের নিরাপত্তা হুমকি প্রমাণ করে না। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে একজন খেলোয়াড়ের (মুস্তাফিজুর রহমান) নিরাপত্তা ইস্যুতে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে যা লেখা হয়েছে
কয়েক সপ্তাহ ধরে বিসিবির সঙ্গে ধারাবাহিক ও গঠনমূলক আলোচনায় যুক্ত ছিল আইসিসি। উদ্দেশ্য ছিল, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এ সময়ে আইসিসি স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ভেন্যুভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা, আয়োজক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক আশ্বাসসহ বিস্তারিত তথ্যবিনিময় করেছে। ধারাবাহিকভাবে বলা হয়েছে, ভারতে বাংলাদেশ দলের বিশ্বাসযোগ্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই।
‘এত চেষ্টার পরও বিসিবি নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তাদের একজন ক্রিকেটারের ভারতের ঘরোয়া লিগে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এ বিষয়টির সঙ্গে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা কাঠামো বা আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের শর্তাবলির কোনো সম্পর্ক নেই।’
আরও বলা হয়েছে, আইসিসির ভেন্যু ও সূচি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নিরপেক্ষ হুমকি মূল্যায়ন, আয়োজক দেশের নিশ্চয়তা এবং টুর্নামেন্টের সম্মত হওয়া অংশগ্রহণ শর্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারী ২০টি দেশের সবার জন্যই সমান। বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে– এমন কোনো স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন না থাকায় আইসিসির পক্ষে ম্যাচ স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে অন্য দল ও বিশ্বব্যাপী সমর্থকদের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক ও সূচিগত জটিলতা তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে এমন নজির চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে, যা আইসিসির ব্যবস্থাপনার নিরপেক্ষতা, ন্যায্যতা ও সততাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। সদিচ্ছা ও অভিন্ন মানদণ্ড বজায় রাখতে এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থ সুরক্ষায় আইসিসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিসিবির পাশে ছিল শুধুই পিসিবি
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আগেই লিখেছে, ২১ জানুয়ারি আইসিসির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এই সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি ভিত্তিতে আইসিসির পূর্ণ সদস্যের ১২টি এবং দুটি সহযোগী দেশ অংশগ্রহণ করে। ক্রিকইনফো লিখেছে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বিসিসিআই সচিব দেভজিত সাইকিয়া, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) সভাপতি শাম্মি সিলভা, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাকি ব্রাইড, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের (জেটসি) সভাপতি তাভেঙ্গা মুকুলাইন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি কিশোর শ্যালো, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের চেয়ারম্যান ব্রাইন ম্যাকনিক, ক্রিকেট নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধি রজার টস, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান রিচার্ড থম্পসন, দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট প্রতিনিধি মোহাম্মদ মুসাজি, আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মিরওয়াইজ আশরাফ উপস্থিত ছিলেন। দুটি সহযোগী দেশের পক্ষে মুবাশ্বির উসমানি, মাহিন্দ্রা ভ্যালুপুরাম যোগ দেন সভায়। সভা পরিচালনা করেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। আইসিসির সিইও সংযোগ গুপ্তা, আইসিসি ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা, আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার গৌরভ সাক্সেনা, আইসিসি এসিই প্রধান অ্যান্ড্রু ইফগ্রাভও ছিলেন সভায়।
বিসিবি ব্যর্থ হলো যে কারণে
ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে প্রথম থেকেই সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে বিসিবিকে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রথম থেকেই ভারতে না যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। বিসিবি কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিশ্বকাপ খেলা-না খেলার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এম নাজমুল ইসলাম প্রকাশ্যে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার পক্ষে দাঁড়ান। ক্রিকেটারদের বিপক্ষেও ছিলেন তিনি। একজন তরুণ পরিচালক সমকালকে বলেন, ‘ইগোর কাছে দেশের ক্রিকেট হেরে গেল। আমরা জানতাম, ইগো দিয়ে ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। আমরা মুস্তাফিজুর রহমানের ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আইসিসি সেগুলো আমলে নিয়ে নিরপেক্ষভাবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা দিয়ে অ্যাসেস করেছে। আমরা আসলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মানুষগুলোকে প্রথমে বোঝাতে চেষ্টা করিনি, ভারতে খেলা ছাড়া উপায় নেই। ফলে সবকিছু এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে।’
বিসিবির প্রতিক্রিয়া নেই
আইসিসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর নতুন করে কোনো কিছু বলার ছিল না বিসিবি কর্তাদের। সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল থেকে শুরু করে বিতর্ক ছড়ানো পরিচালক এম নাজমুল ইসলামও কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। জাতীয় দল-সংশ্লিষ্ট একজন পরিচালক বলেন, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে এখন পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্তে। মন্ত্রণালয় থেকে যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবে আইসিসিকে বলা হয়েছে। এখন সরকার না চাইলে বিশ্বকাপ খেলা হবে না।’ তবে বিসিবিপ্রধান এখনও মিরাকলের আশা করছেন, ‘আইসিসিকে বলেছি, আমাকে ২৪ ঘণ্টার সময় দেন। মিরাকল কিছু হতেও পারে আইসিসি থেকে।’
বিসিবির প্রস্তুতিতে ঘাটতি
বিশ্বকাপ খেলাতে বিসিবির সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ভারতের ভিসা ফরম পূরণ করে রাখা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার জন্যও কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছিল। সেগুলো প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে জমাও দেওয়া হয়েছিল। তবে ভিসা পাওয়ার জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে জিও চেয়ে আবেদন করা হয়নি। বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সেগুলো আটকে রেখেছেন বলে জানা গেছে।
- বিষয় :
- আইসিসি
- ক্রিকেট
- ক্রিকেট-বাংলাদেশ
