ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার

নাসুমের লড়াইটা নিজের সঙ্গে

নাসুমের লড়াইটা নিজের সঙ্গে
×

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩:০২

টি২০ ক্রিকেটে নাসুম আহমেদের বোলিং ইকোনমি ভালো। এই কৌশলের সঙ্গে সম্প্রতি উইকেট নেওয়াতেও পারদর্শী হয়ে উঠেছেন বাঁহাতি এ স্পিনার। নিজেকে ভেঙেচুড়ে গড়েছেন একজন পরিণত স্পিনার হিসেবে।  বিপিএল, জাতীয় দল নিয়ে নাসুম আহমেদের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেকান্দার আলী

সমকাল: বিশ্বকাপ খেলা হলো না, সামনে কীভাবে প্রস্তুত করবেন নিজেকে?
নাসুম:
সামনে কী হবে না হবে জানি না। বিপিএল শেষ করেছি কয়েকদিন হলো। এখন সিলেট লিগ হচ্ছে, ডাক পেলে সেখানে খেলব। অন্য কোথাও থেকে ডাক এলে সেখানে খেলতে যাব। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমি আমার কাজ করে যাব। 

সমকাল: বিপিএল কেমন উপভোগ করলেন?
নাসুম:
ভালোই গেছে। এবার বিপিএলে উইকেট শিকারের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছি। বোলিং ইকোমি ৫.৯৮। আগের থেকে তুলনামূলক কিছুটা উন্নতি দেখতে পাচ্ছি।

সমকাল: এই পরিবর্তনের কারণ কী?
নাসুম:
অনেক দিন পর ওয়ানডে দলে ফিরে দুবাই গিয়েছিলাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়েও একটি ওয়ানডে খেলি। তবে টি২০ সিরিজে খেলার সুযোগ হয়নি। গত বছর তো টি২০ দল থেকে বাদ পড়েছি। শ্রীলঙ্কা সিরিজ দিয়ে দলে ফিরলেও ম্যাচ খেলা হয়নি। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচ খেলিনি, শেষ ম্যাচে ২২ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছি। নেদারল্যান্ডস সিরিজে দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়ে ম্যাচসেরা হয়েছি। এরপর এশিয়া কাপে গিয়ে খেলেছি। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ওই সময় আমার বিরুদ্ধে একটা অপপ্রচার হয়েছে। ওই ঘটনায় ভয়ানক হোঁচট খেয়েছি। কোনো দিন কল্পনাও করিনি এমন কিছু হতে পারে। ওই সময় জেদ হয়েছিল–হয় ধ্বংস হয়ে যাব, নয়তো ভালো কিছু করব। চেষ্টার মধ্যে ছিলাম, যেটি পরে কাজে দিয়েছে। 

সমকাল: এশিয়া কাপ দিয়েই কি ট্র্যাকে ফিরেছেন?
নাসুম:
এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি ছিল আমার নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই। ওখান থেকে আমাকে নায়কের বেশে ফিরতে হবে দেশে। তেমন কিছু করতে না পারলে একেবারে শেষ হয়ে যাব। আমি প্রার্থনা করছিলাম–আল্লাহ হয় আমাকে নায়ক করে দাও, নয়তো শেষ করে দাও। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। মানুষ রীতিমতো হাসাহাসি করছিল। ওই জায়গা থেকে নিজের সঙ্গে নিজে লড়াই করেছি। আল্লাহ প্রার্থনা কবুল করেছেন, এশিয়া কাপে এক ম্যাচে সেরা হয়েছি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ সেরা হয়েছি। 

সমকাল: আপনি উইকেট নেওয়ার দিকে মনোযোগ দেন, না রান চেকে?
নাসুম:
আমি পাওয়ার প্লেতে বোলিং করতে পারি বলেই দলে জায়গা করে নিতে পেরেছি। পাওয়ার প্লেতে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রান আটকাতে পারি। এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে। দলও আমার ওপর বিশ্বাস রাখে। আপনি নিজেকে বিশ্বাস করলে ভালো করবেন। অনেক দিন খেলতে খেলতে ব্যাটাররা আমার বোলিং বুঝে ফেলেছে। আমিও ব্রেক থ্রু দেওয়ার কৌশল শিখে নিয়েছি। আগে আমার লক্ষ্য ছিল ইকোনমি ঠিক রাখা, কম রান দেওয়া। এখন চিন্তা করি ইকোনমির সঙ্গে উইকেট বের করলে দলের লাভ। ব্যাটারকে ভালো রিড করতে পারি। এই প্রচেষ্টার কারণে পাওয়ার প্লেতে এখন এক-দুইটা উইকেটও পাই। আগে তিন-চার ম্যাচে একটা পেতাম। এখন এক ম্যাচে না পেলে পরের ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে উইকেট পাই। 

সমকাল: ওয়ানডে নিয়ে ভাবছেন?
নাসুম:
সুযোগ এলে সেটিকে কাজে লাগাব। আমার সামনে কে আছে তা ভাবার সময় নেই। আমার পিছে কে আছে ওগুলো নিয়ে চিন্তা করি না। আমাকে পারফর্ম করতে হবে সেটি ভাবছি। 

সমকাল: সিলেটের মানুষের সামনে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পাওয়া কেমন লেগেছে?
নাসুম:
প্রথম দুটি ম্যাচে এলোমেলো ছিলাম। পরে গুছিয়ে নিয়েছি। আহামরি বোলিং করেছি, তা না। তবে চেষ্টা করেছি ভালো করতে। দলের পক্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেট আমার। এদিক থেকে ভালো লেগেছে। আশা ছিল ফাইনাল খেলার। ওই পর্যায়ে যেতে না পারার আক্ষেপ আছে একটু। 

সমকাল: দেশে কোন ভেন্যুতে খেলে আনন্দ পান?
নাসুম:
অনেকে বলে আমি মিরপুরে পারি অন্য জায়গায় পারি না। মিরপুরে আমি পারলে অন্যরা পারে না কেন? আমার তো শুক্কুরে শুক্কুরে সাত দিন হয়েছে। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে। আমি পারলে অন্যরা পারে না কেন?

সমকাল: কার উইকেট পেলে ভালো লাগে?
নাসুম:
মুশফিক ভাইয়ের উইকেট নিতে পারলে ভালো লাগে (হাসি)। এবার বিপিএলে মুশফিক ভাইয়ের উইকেট পেয়েছি (হাসি)। 

আরও পড়ুন

×