ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মিরাজের অগ্নিপরীক্ষার সিরিজ

মিরাজের অগ্নিপরীক্ষার সিরিজ
×

পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজ পর্যন্ত ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব মেহেদী হাসান মিরাজের। দুই সিরিজের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি নেতৃত্বে থাকবেন কিনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৩৩

প্রকৃতিতে চলছে বসন্ত, ক্রিকেটে যার ছোঁয়া লাগেনি। টি২০ বিশ্বকাপ বয়কট করেছে, ঢাকা লিগ ঠিক মতো হচ্ছে না। মেয়েরাও লিগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। এই এলোমেলো সময়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি স্বস্তির উপলক্ষ হতে পারে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ অনুষ্ঠেয় সিরিজটি জিততে পারলে বছরের শুরুটা ভালো হয়। 

অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের চেষ্টা থাকবে অলআউট ক্রিকেট খেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ জিতে নেওয়া। তিনি নিজের স্বার্থে হলেও একটু বেশি চেষ্টা করবেন দলগতভাবে সফল হতে। কারণ অধিনায়কত্ব টিকিয়ে রাখতে এপ্রিলে নিউজিল্যান্ড সিরিজ পর্যন্ত সময় পাবেন। আর পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে মিরাজকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত অধিনায়ক রাখা হবে কিনা। উভয় সিরিজ জিততে পারলে দলের রেটিং পয়েন্ট বাড়ানোর পাশাপাশি অধিনায়কের রেটিং পয়েন্টের গ্রাফটাও ওপরের দিকে যাবে।

সেদিক থেকে দেখলে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি মিরাজের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। কারণ তিনি নিজেও অনেক দিন হলো ব্যাটে-বলে ভালো করছেন না। নাজমুল হোসেন শান্তর অনুপস্থিতিতে ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে ও টেস্টে অধিনায়ক ছিলেন মিরাজ। লাল বলের সিরিজ সমতায় শেষ করা সম্ভব হলেও এক দিনের ক্রিকেট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছেন। শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে অফিসিয়ালি এক বছর মেয়াদে নেতৃত্ব পেয়ে এখন পর্যন্ত মোহনীয় কিছু দেখাতে পারেননি তিনি। ওই সিরিজে দলের নড়বড়ে অবস্থা স্পষ্ট হয়েছে। 

লঙ্কানদের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর আবুধাবিতে আফগানিস্তানের কাছে হোয়াটওয়াশ হয়েছে। ‘ট্রিপিক্যাল’ মিরপুরের উইকেটে খেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে একটি ম্যাচ হেরেছে অক্টোবরে। মোটাদাগে শেষ তিন সিরিজে ৯ ম্যাচ খেলে তিনটিতে জিতেছেন মিরাজরা। একটু পেছন থেকে দেখলে হারের বৃত্ত বেশ বড়, ওয়ানডে পরিসংখ্যানের ঘর লাল হয়ে আছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে দলের পারফরম্যান্স নিম্নমুখী। শেষ ১৫ ম্যাচে মাত্র তিনটি জয়। এখান থেকে দলকে জয়ের ধারায় নিতে হলে ধারাবাহিক ভালো খেলতে হবে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ওয়ানডে দলকে দ্রুত গুছিয়ে ফেলতে চান মিরাজ, ‘দল গড়ে তুলতে হলে প্রতিটি খেলোয়াড়কে পারফর্ম করতে হবে। অধিনায়ক হিসেবে খেলোয়াড়দের ব্যাক করতে হবে। আমাদের দলে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে এবং চ্যালেঞ্জ নিতে পারলে দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া সহজ হবে।’ 

বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে বেশ ভালো দল ছিল। এই সংস্করণ দিয়েই বিশ্ব ক্রিকেটে একটু প্রভাব ফেলতে পেরেছে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা অবসর নেওয়ায় সেখানে বড় শূন্যতা দেখা দিয়েছে। এই ট্রানজেকশনে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে কোচিং স্টাফকে। বোলিং ইউনিট ঠিক থাকলেও ব্যাটিংয়ে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। সেখানেও ভালো বিকল্প খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। লিটন কুমার দাসের ব্যাটিং পজিশন মিডলঅর্ডারে নেওয়া হয়েছে। মিরাজ ফিরে গেছেন লোয়ার মিডলঅর্ডারে। ফলে চার ও ছয় নম্বর পজিশনে তাওহীদ হৃদয়, সাইফ হাসানের মতো ব্যাটার খেলতে পারবেন। মিরাজ বলছেন কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষ মাথায় রেখে ক্রিকেটারদের কাজে লাগাবেন। তবে তিনি অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করলে দলের কাজ সহজ হবে। 

নিজের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস আছে অধিনায়কের, ‘আমি চিন্তিত না। কারণ বিশ্বকাপের পরে সম্ভবত ১৫টি ওয়ানডে খেলেছি আমরা। অনেক বিরতি দিয়ে খেলা হয়েছে। এ বছর ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ হবে। সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে ভালো কিছু হবে।’ প্রশ্ন হচ্ছে মিরাজের নেতৃত্বে থাকা না থাকা পাকিস্তানের বিপক্ষে দলের সাফল্য-ব্যর্থতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে। তাই পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যেতে হবে। 

আরও পড়ুন

×