রানআউট করে আলোচনায় মিরাজ
ছবি- এএফপি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ১৩:৫৯
রমিজ রাজা প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর ‘স্পোর্টসম্যানশিপ’ নিয়ে। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে ধারাভাষ্যে এটা করতেই পারেন তিনি। রমিজ রাজার মতো পাকিস্তানিরাও টুইট করে বা ফেসবুকে মিরাজের সমালোচনায় মুখর। বাংলাদেশেও কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। মূলত সমালোচকদের এই প্লট তৈরি করে দিয়েছেন সালমান আগা। তিনি রানআউট হয়ে মাঠে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। মূলত নিজের ভুলকে আড়াল করার জন্য এ রকম ক্ষ্যাপাটে হয়ে ওঠা তাঁর। আউট হয়ে বাউন্ডারি লাইনে পৌঁছে যেভাবে হেলমেট ও গ্লাভস ছুড়ে ফেলেছেন সালমান, সেটাকেও ক্রিকেট স্পিরিটের পরিপন্থি বলা হচ্ছে।
কারণ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের দাবি, সালমান আউট হয়েছেন তাঁরই ভুলে। নন স্ট্রাইক ব্যাটার হিসেবে পপিং ক্রিজে না ফিরে হাত দিয়ে বল ধরার চেষ্টা করছিলেন পাকিস্তানি এ ব্যাটার। তবে অনেকে মনে করেন মিরাজ চাইলে সালমানকে আউট না-ও করতে পারতেন। আউট করার পরও স্পোর্টসম্যানশিপ দেখানোর সুযোগ ছিল। বাংলাদেশ অধিনায়ক চাইলে আম্পায়ারকে বলে সালমানকে ব্যাটিংয়ে ফেরাতে পারতেন।
৩৮.৪ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ ছিলেন বোলার। মোহাম্মদ রিজওয়ান ছিলেন স্ট্রাইক ব্যাটার। তাঁর ব্যাটে লেগে বল নন স্ট্রাইক প্রান্তের দিকে গেলে সালমানের পেছন থেকে এসে পা দিয়ে বল ঠেকান মিরাজ। প্রান্ত বদলের জন্য আগেই বেরিয়ে যাওয়া সালমান পপিং ক্রিজে না ফিরে সরল মনেই হাত দিয়ে বল ধরতে গিয়েছিলেন। মিরাজকে ফিল্ডিং করতেও বাধা দেননি তিনি। এই জায়গা থেকে হলেও সৌজন্যতা দেখাতে পারতেন টাইগার অধিনায়ক। তিনি তা না করে বল কুড়িয়ে স্টাম্প ভেঙেছেন। চেয়ে চেয়ে নিজের আউট হওয়া দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন সালমান। আম্পায়ার তানভীর ইসলাম বৈধ আউট দেওয়ায় প্রচণ্ড ক্ষেপে ওঠেন তিনি। গ্লাভস ছুড়ে ফেলে মিরাজের দিকে তাকিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন। আউট মেনে নিয়ে শেষে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৬২ বলে ৬৪ রান করা সালমান ভীষণ প্রতিক্রিয়া দেখান বাউন্ডারির বাইরে গিয়ে।
সালমানের এই আউট নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মত আছে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর মতে, ‘ক্রিকেটের আইনে বৈধ আউট। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হওয়ায় এ ধরনের আউটকে মেনে নিতে হবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয়-পরাজয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ফিল্ডিং দলের চেষ্টা থাকবে সুযোগ কাজে লাগানো। এমন না যে ফিল্ড অবস্ট্রাকল হয়েছে, নিয়মের ভেতরে থেকেই আউট করেছে মিরাজ।’
জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান মনে করেন মিরাজের ভুল হয়নি, ‘বল লাইনে থাকলে এবং ডেড না হলে ব্যাটার স্পর্শ করতে পারবে না। সালমানের বল ধরতে যাওয়াটাই ভুল। ব্যাটারের উচিত ছিল ক্রিজের বাইরে অপেক্ষা না করে দ্রুত ঢুকে পড়া। এক্ষেত্রে মিরাজের ফিল্ডিং ভুল হয়নি। স্পোর্টসম্যানশিপ দেখাতে হলে ক্রিকেটের আইনগুলো বাতিল করতে হবে। আইনে থাকার পর সেগুলো প্রয়োগ না করা ভুল। আর স্পোর্টসম্যানশিপের কথা বলা হলে সাকিব আল হাসান বিশ্বকাপ ম্যাচে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে আউট করেছিল কীভাবে? প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে যেখানে জয়-পরাজয় গুরুত্ব বহন করে, পয়েন্ট পাওয়ার ব্যাপার আছে, সেখানে বিনয় দেখিয়ে ম্যাচ হারের কোনো মানে হয় না।’
এই স্পোর্টসম্যানশিপ প্রদর্শন করে ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে নন স্ট্রাইক ব্যাটার উমর গুলকে আউট না করে সতর্ক করেছিলেন মোহাম্মদ রফিক। ২০২৩ সালে ইশ সৌদিকে আউট করেও ব্যাটিংয়ে ফিরিয়ে এনেছিলেন অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ওই দুটি ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টাইমড আউট নিয়ে সাকিব সমালোচিত হলেও দেশের লাভ হয়েছিল। ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলা নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ।
- বিষয় :
- মেহেদী হাসান মিরাজ
