ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকারে তানজিদ

এখন আর বিশ্বকাপ মাথায় নেই

এখন আর বিশ্বকাপ মাথায় নেই
×

তানজিদ তামিম

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ | ১৪:৪১

তানজিদ হাসান তামিম সাহসী ক্রিকেটার। চার-ছয় মারায় দারুণ পারদর্শী। এ কারণে এক দিনের ক্রিকেটে তাঁর স্ট্রাইকরেট ভালো। সেদিক থেকে টাইগার এ ওপেনার বাহবা পেলেও সেট হয়ে আউট হওয়া রোগ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। অনেক চেষ্টায় সেখান থেকে কিছুটা হলেও বেরোতে পেরেছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দুটিতে রান পেয়েছেন। এ জন্য গত কয়েক মাসে নিজেকে পুনর্গঠন করতে হয়েছে বল জানান জাতীয় দলের বাঁহাতি এ ওপেনার। নিজের পরিবর্তন, জাতীয় দল ও বিশ্বকাপ নিয়ে তানজিদ হাসান তামিম একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সেকান্দার আলীকে

সমকাল: পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে রান পেয়েছেন। ম্যাচ ও সিরিজসেরা হয়েছেন। সিরিজ শেষের অনুভূতি কেমন?
তানজিদ:
এই সিরিজের আগে কয়েকটি ওয়ানডে ম্যাচে ভালো করতে পারিনি। স্বাভাবিকভাবেই ভালো খেলার একটা তাড়না ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, সিরিজটা ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছি। 

সমকাল: প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি কি ঈদ আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে? 
তানজিদ:
(হাসি)। ঠিক তেমন না, সেঞ্চুরি পেলে তো ভালোই লাগে। প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়ার ভালো লাগাটা একটু বেশি। তবে আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দলের জয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিততে পেরেছি তাতেই খুশি। 

সমকাল: ওই যে ছয় মেরে শতক পূরণ করলেন, পরিকল্পিতভাবেই কি ছয়টা মেরেছিলেন?
তানজিদ:
এ রকম কোনো পরিকল্পনা ছিল না– ওই বলটাই ছয় মারব। তাৎক্ষণিকভাবে আমার মাথায় চলে এসেছিল। খেলার সময় আমার মনে যেটা আসে, সেটা করার চেষ্টা থাকে। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে খেলার পরিকল্পনা করি। ওই সময় বলের মেরিট দেখে মনে হয়েছিল, ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে খেলি। 

সমকাল: স্ট্রাইকরেট বাড়াতে বা বেশি বেশি ছয় মারার প্র্যাকটিসটা কি আগে থেকেই ছিল?
তানজিদ:
আমি অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে জাতীয় দলে ঢুকি। ওই সময় থেকে মেরে খেলার অভ্যাস হয়েছে। আমি কখনও স্ট্রাইকরেট দেখে খেলি না। প্রতিটি বলের মেধা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করি। ওপেনিংয়ে এক রান নেওয়ার সুযোগ কম থাকে। বাউন্ডারি মারার সুযোগটা বেশি নিতে হয় ওপেনারদের। খারাপ বল বা নিজের জোনে থাকা বল বাউন্ডারির জন্য যাই। আমি গেম প্ল্যানের ভেতরে থাকার চেষ্টা করি। স্ট্রাইকরেটের পেছনে ছোটার চেষ্টা করি না। 

সমকাল: বিপিএল, অদম্য কাপ ও বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে ভালো করায় জাতীয় দলে পারফর্ম করা সহজ হয়েছে? 
তানজিদ:
বিপিএলের আগে আমি অনেক ইনিংসে ভালো শুরু করেও বড় করতে পারিনি। মাঝখানে ওই জিনিসটা নিয়ে কাজ করেছি। আমার মনে হয়েছিল, মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে ফোকাস করলে উন্নতিটা ভালো হবে। এই বিষয়টি নিয়ে সালাউদ্দিন স্যার, প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও শাহরিয়ার নাফীস ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা অভিজ্ঞতার আলোকে আমাকে পরামর্শ দেন। ম্যাচের ভেতরে কী রকম ভুল করি, সেগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন। যেটা আমার খুব কাজে দিয়েছে। 

সমকাল: পরামর্শগুলো প্রয়োগ করেছেন কীভাবে?
তানজিদ:
সবার কথা শুনে আমি অনুধাবন করেছি, চিন্তা করেছি এবং সে অনুযায়ী কাজ করেছি। ম্যাচে কীভাবে স্কিল কাজে লাগাব, কল্পনায় ছক কষেছি। সেভাবে প্র্যাকটিস করেছি এবং মাঠে কার্যকর করেছি। ম্যাচের দাবি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি। আগের ভুল যাতে না হয়, ভালো শুরুর পর সেটাকে যেন লম্বা করতে পারি, সেই চিন্তা করেছি। সেঞ্চুরি আমার অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিল। ইনিংস লম্বা করতে না পারায় সেটা হয়নি। যেটা গেছে, সেটা নিয়ে চিন্তা করছি না। এই জায়গা থেকে দেশের জন্য যেন বড় কিছু করতে পারি, সেই চেষ্টা থাকবে। 

সমকাল : পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় দলের ভেতরে কেমন প্রভাব ফেলেছে?
তানজিদ :
 আমাদের জন্য এই সিরিজটি পুরোপুরি চ্যালেঞ্জিং ছিল। নতুন বছরে নতুন সিরিজে ভালো শুরু দরকার ছিল। বছরের শুরুতে ছন্দ পেতে জিততে হতো। পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে সেই ছন্দ পেয়েছি আমরা। সামনে নিউজল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলের বিপক্ষে হোম সিরিজ আছে। এই ছন্দ ওই সিরিজগুলোতে কাজে দেবে। ভালো দিক হলো, এখন স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হচ্ছে। এ রকম উইকেটে নিয়মিত খেললে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভালো করার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। কারণ, বিশ্বকাপের উইকেটগুলো ভালো থাকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জেতায় দলের ভেতরে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি হয়েছে। সামনের সিরিজগুলোতে যেটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

সমকাল: দেশে কি সব ধরনের খেলা এ রকম স্পোর্টিং উইকেটে খেলতে চাইবেন?
তানজিদ:
অবশ্যই। এই সিরিজ শেষে খেলোয়াড়দের সবাই বলেছে, সামনের সিরিজগুলো এবং ঘরোয়া ক্রিকেট এ রকম স্পোর্টিং উইকেটে খেলতে চায়। আমরা নিজেদের কথা বলেছি, বাকিটা ম্যানেজমেন্টের ওপরে। তবে এ রকম উইকেটে সবাই খেলতে চায়।

সমকাল: নিউজিল্যান্ড সিরিজ নিয়েও নিশ্চয়ই বড় স্বপ্ন দেখছেন?
তানজিদ:
অবশ্যই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলব। মাত্র দুদিন (১৫ মার্চ) আগে সিরিজ শেষ হয়েছে, এখনও পরের সিরিজ নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়নি। তবে চেষ্টা করব, ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজটি খেলতে। 

সমকাল: আপনার তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ ছিল, সেটা হয়নি। কোনো আক্ষেপ?
তানজিদ:
এটা নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। বিশ্বকাপ না খেলায় সবারই খারাপ লেগেছে। তবে এখন জিনিসটা অনেক নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সবার মানসিক অবস্থা ভালো। আমরা শেষ সিরিজটা জিতেছি। এখন আর বিশ্বকাপ মাথায় নেই। 

সমকাল: ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভালো হয়নি, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়ে কিছু ভাবছেন?
তানজিদ:
বিশ্বকাপ খেলা গর্বের ব্যাপার। সব খেলোয়াড়ের ইচ্ছা থাকে নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে। দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে। সে জন্য ধাপে ধাপে এগোতে হবে আমাদের। বিশ্বকাপের আগে অনেক হোম সিরিজ আছে, অনেক ক্রিকেট আছে। আলটিমেট গোল থাকবে বিশ্বকাপ। তবে প্রথম ধাপে সিরিজগুলো জিততে হবে। 

সমকাল: ব্যাটিং এবং বোলিং লাইনআপকে স্ট্যাবল মনে হয় কিনা?
তানজিদ:
আমাদের বোলিং যে লাইনআপ আছে, ভালো। স্কোয়াডের বাইরেও অনেক বোলার আছে। স্বাস্থ্যকর একটা প্রতিযোগিতা হচ্ছে বোলারদের মধ্যে। এটা দলের জন্য খুবই ভালো। 

সমকাল: বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে মানসিক চাপ তৈরি করে?
তানজিদ:
মানসিক চাপ না। উইকেট ভালো হলে বড় লক্ষ্যও তাড়া করা সম্ভব। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে পারেন ব্যাটাররা। আমাদের সেই সক্ষমতা আছে। আমাদের কিছু জায়গায় উন্নতি করার সুযোগ আছে। সেখানে দ্রুত উন্নতি করতে পারলে বড় স্কোর নিয়মিত দেখতে পাবেন। এ রকম রান বড় দলগুলো করে। আমরা তাড়া করে জিততে পারলে ভালো লাগবে। 

সমকাল: এখন তো ওয়ানডেতে নিয়মিত ৩০০ প্লাস রান হয়। বাংলাদেশকে কখন নিয়মিত ৩০০ প্লাস রান করতে দেখা যাবে? 
তানজিদ:
অবশ্যই। নিয়মিত ভালো উইকেটে খেলার অভ্যাস করলে, বেশির ভাগ ম্যাচে ৩০০ প্লাস রান করাকে অভ্যাস বানিয়ে নিতে পারলে যে কোনো দলের বিপক্ষে বড় রান করা সম্ভব হবে। ঘরোয়া ক্রিকেট এবং জাতীয় দলে ৩০০ প্লাস রান নিয়মিত করলে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টেও বড় স্কোর হবে।

আরও পড়ুন

×