ডিপিএলে বাজেট সংকটে ক্লাবগুলো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৪৩
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দাবিতে ক্রিকেটাররা একাট্টা হয়েছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কমিটিতে পরিবর্তন হওয়ায় ক্রিকেটারদের চাওয়া পূরণও হচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়াচ্ছে আগামী ৪ মে। বিসিবির এই পদক্ষেপে আপাতদৃষ্টিতে তামিম ইকবালের বিজয় মনে হলেও ক্রিকেটারদের হাহাকার থামবে না। কারণ এবার লিগে টাকা খরচ করতে চাচ্ছে না বেশির ভাগ ক্লাব।
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। লিগে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারেও দোটানায় তারা। গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, রূপগঞ্জ টাইগার্স, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স কম বাজেটে উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে লিগে খেলার প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে মোহামেডান স্পোর্টিং, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ও বসুন্ধরা রাইডার্সে (ধানমন্ডি স্পোর্টিং ক্লাব) ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের সৌভাগ্যবান বলতে হবে। এই তিনটি ক্লাব মোটামুটি ভালো বাজেটের দল বানাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এবার লিগে রেলিগেশন না রাখায় বেশির ভাগ ক্লাব দলবদলের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না বলে জানা গেছে। গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘আমরা ছোট বাজেটের দল। দুই কোটি টাকার মধ্যে লিগ শেষ করার চেষ্টা করব। কোনো ক্রিকেটার তিন লাখ পাবে, কেউ ১০ লাখ। এর বেশি যেতে পারব না।’ বিসিবি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালও গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের কর্মকর্তা।
রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে না থেকেও বড় বাজেটের দল গড়তেন লুৎফর রহমান বাদল। গত মৌসুমেও জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটার খেলেছেন তাঁর দলে। অথচ এবার তিনি লিগে খেলার ব্যাপারে অনীহা দেখাচ্ছেন। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাদলের মতে, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল বানাচ্ছি না। যাদের সঙ্গে চুক্তি ছিল তাদের ছেড়ে দিয়েছি। দল বদলের আগে সিদ্ধান্ত নেব কি করব।’
মোহামেডান ক্লাব থেকে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কর্মকর্তা হয়ে যাওয়া বাদল মূলত অভিমান হয়েছে বলে জানান কয়েকজন ক্লাব কর্মকর্তা। বিসিবির অ্যাডহক কমিটিতে না রাখায় হতাশ হয়েছেন বলে মনে করেন ক্রিকেট সংগঠকরা। এ কারণে লিগে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। বিসিবির নির্বাচন সামনে থাকায় শেষ মুহূর্তে মত পরিবর্তন করবেন হয়তো। গাজী গ্রুপ এখনও সেভাবে গুছিয়ে নিতে পারেনি। ফলে লিগে টিকে থাকার মতো দল বানাতে চায় তারা। এই গ্রুপের সিএফও সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আর্থিক সংকটে আছি।’
মোহামেডানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিরোপা রেসে থাকতে চায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। এই দলের কোচ তালহা জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের দলটা ভালো হয়েছে, সিনিয়র-জুনিয়রের মিশেল। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আছে, আকবর আলীর মতো অধিনায়ককে পেয়েছি। শামীম হোসেন পাটোয়ারী, আজিজুল হাকিম তামিম, আরিফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, আবু হায়দার রনি, আলিস আল ইসলামের মতো খেলোয়াড় নিয়েছি। আশা করি, আমরা চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য লড়াই করতে পারব।’
মোহামেডান লিমিটেড ক্লাব হওয়ায় বড় বাজেট নিয়ে লিগের মাঠে থাকতে পারছে। তাওহীদ হৃদয় থেকে শুরু করে এক ঝাঁক তারকা ক্রিকেটার দলে নিয়েছে তারা। সম্মানীও ভালো দিচ্ছে ক্লাবটি। বসুন্ধরা রাইডার্সের কর্মকর্তা শানিয়ান তানিম জানান, এক-দুই দিনের মধ্যে দল গোছাতে শুরু করবেন তারা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর কোচ হান্নান সরকার ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল প্রস্তুত করছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাজেট কম। ওই বাজেটের মধ্যেই সেরাদের নেওয়ার চেষ্টা করছি। কাঁটায় কাঁটায় খেলোয়াড় নিতে হবে। বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই।’
প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর বাজেট সংকট দেখে বিস্মিত কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। তাঁর মতে, ‘গত বছর টাকা কম ছিল দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ায়। এবারও অস্থিরতা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত লিগটা হচ্ছে। তবে লিগে ক্লাবের বাজেটের কথা শুনলে মন খারাপ হয়। বড় দলগুলোও ক্রিকেটারদের তেমন সম্মানী দিচ্ছে না। বেশির ভাগ ক্রিকেটারকে তিন লাখ টাকায় খেলতে হতে পারে। একজন ক্রিকেটার লিগে খেলে সংসার চালানোর মতো সম্মানী দেওয়া উচিত।’ মিঠুন মনে করেন ক্রিকেটারদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্লেয়ার্স ড্রাফটে ফেরার প্রস্তাব করা হতে পারে পরবর্তী মৌসুম থেকে।
