সাফের কোটা বাতিলের দাবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৭ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
কোনো আয়োজন ছিল না। ছিল না ফুটবলের দলবদল। কিন্তু বুধবার দুপুরে বাফুফের ভবনের সামনের মাঠে ৩০-৪০ ফুটবলার দাঁড়িয়ে যান। মোহাম্মদ ইব্রাহিম-আলমগীর কবির রানাদের হাতে চিঠি। যেখানে ছয়টি দাবি পেশ করেছেন ফুটবলাররা। এর মধ্যে প্রধান দাবি হলো, সার্ক অঞ্চলে খেলোয়াড়দের কোটা বাতিল। নিজেদের দাবি-দাওয়াসংলিত চিঠি সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের কাছে হস্তান্তর করেছেন খেলোয়াড়রা। তাদের এই চিঠি মূলত বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বরাবর। দাবি-দাওয়াসংবলিত ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির প্যাডে প্রধান সমন্বয়কারী আবুল হোসেন এক পাশে স্বাক্ষর করেছেন। অন্য পাশে বর্তমানে লিগে খেলা ফুটবলারদের পক্ষে আহসান হাবিব, আলমগীর কবির রানা, ইব্রাহিম ও মেহেদী স্বাক্ষর করেছেন।
ঘরোয়া ফুটবলের এই মৌসুমে এবারই প্রথমবারের মতো সার্ক অঞ্চলের ফুটবলাররা স্থানীয় হিসেবে খেলছেন। মূলত সার্ক কোটায় পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের খেলোয়াড়রা তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকে খেলেন। বিপরীতে স্থানীয় খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বেশি, তবে মানের দিক দিয়ে অনেকেই কিছুটা পিছিয়ে। এ কারণে ক্লাবগুলো কম খরচে সার্কভুক্ত দেশের খেলোয়াড়দের দিকে ঝুঁকছে এবং সফলও হচ্ছে। ফলে স্থানীয় ফুটবলাররা কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন। কারও কারও ক্লাব পেতে সমস্যা হচ্ছে, কেউ পেলেও ঠিকমতো পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না, যা এখন বড় সমস্যা। অবশ্য কোটার নিয়মে ব্রাদার্স ইউনিয়ন সার্ক খেলোয়াড়দের ওপর ভর করে ভালো করছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের মোহাম্মদ হায়য়ানের দারুণ এক গোলে জিতে ফেডারেশন কাপের সুপার ফোরও নিশ্চিত করেছে গোপীবাগের ক্লাবটি।
এবার বাংলাদেশ ফুটবল লিগে ১০টি ক্লাব অংশগ্রহণ করছে। দেশের দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডানে নেই কোনো সার্কের খেলোয়াড়। ফেডারেশনে স্মারকলিপি দিতে আসা ফুটবলারদের মধ্যে অবশ্য এ দুই দলের অনেকে ছিলেন। স্মারকলিপি দিতে আসা ফুটবলাররা ব্রাদার্স ইউনিয়নে সর্বাধিক সার্কের খেলোয়াড় খেলার বিষয়টি চিহ্নিত করেছেন ঘুরেফিরে। আবাহনী ও জাতীয় দলের ফুটবলার মোহাম্মদ ইব্রাহিম এমন দাবির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলছিলেন, ‘সার্কের পাঁচজন, সার্কের বাইরের দেশের তিনজন, বয়সভিত্তিক একজন ফুটবলার বাধ্যতামূলক খেলাতে হবে। একটি দলে তিনজন বিদেশি কোটা আর পাঁচজনই যদি সার্কের খেলায়, তাহলে সেই দলে দুজনের বেশি (স্থানীয়) খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পান না। এ জন্য আমরা সার্ক ফুটবলার বাতিলের দাবি জানিয়েছি।’ বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও অন্যান্য দেশেও এমন নিয়ম চালু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় দলে খেলা মোহামেডানের ডিফেন্ডার রহমত মিয়া বলেছেন, ‘আমাদের দেশের মধ্যে শুধু তারিক কাজী ভুটান লিগে খেলছে। অন্য কোনো দেশে এখনও আমাদের দেশের ফুটবলাররা আমন্ত্রণ পাচ্ছেন না। অন্য দেশের ফুটবলাররা ঠিকই আমাদের দেশে খেলছে। তাই আমরা এ ব্যাপারে ফেডারেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’
সাফের কোটা বাতিলের সঙ্গে ছয়টি দাবির মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো, দেশীয় খেলোয়াড়দের জন্য অধিক খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় খেলোয়াড় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা। যেহেতু ফুটবলারের সংখ্যা বেশি, তাই লিগে দল সংখ্যা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন তারা। একই সঙ্গে বেতন নিয়ে সমস্যার সমাধান চেয়েছেন তারা। তাই খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তার দায়িত্ব ফেডারেশনকে নেওয়ার দাবি লিখেছেন খেলোয়াড়রা। সব শেষে বিদেশি খেলোয়াড়দের কোটা কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
- বিষয় :
- বাফুফে
