বাংলাদেশ দল নিয়ে সিমন্সের নতুন স্বপ্ন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ১২:২৩
শেবাগ বলেছিলেন টেস্টে ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলিং সক্ষমতা নেই বাংলাদেশের। ২০০৯ সালের প্রেক্ষাপটে ভারতের সাবেক ওই ওপেনার হয়তো ঠিক কথাই বলেছিলেন। এখন পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। বাংলাদেশের টেস্টের বোলিং লাইনআপ এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা। বিশ্বের যে কোনো কন্ডিশনে যে কোনো প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার মতো সক্ষমতা রয়েছে টাইগার বোলারদের। গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স সেটিই বোঝাতে চেষ্টা করেন। তাঁর বিশ্বাস, বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপ পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপের থেকেও শক্তিশালী।
তাঁর মতে, ‘আমি মনে করি না কোনো একটি দল ভালো অবস্থায় আছে। আমার মতে, আমাদের দুটি ভালো ফাস্ট বোলিং বিভাগ এবং দুটি ভালো স্পিন বিভাগ রয়েছে। টেস্ট ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে কে সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, সেটিই আসল কথা।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কন্ডিশন মাথায় রেখে চারজন পেসার–হাসান আলি, খুররম শাহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, শাহীন শাহ আফ্রিদিকে টেস্ট স্কোয়াডে রেখেছে পাকিস্তান। নোমান আলি ও সাজিদ খানের মতো বিশেষজ্ঞ স্পিনারও আছেন। পাকিস্তানের এই বোলিং লাইনআপকে শক্তিশালী মনে করা হলেও টাইগার কোচ ফিল সিমন্স তা মেনে নিচ্ছেন না। এই বোলারদের নিয়েই ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ।
নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামরা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলে মিরপুরের সবুজ উইকেটে আগুনঝরা বোলিং দেখতে পাবেন সমর্থকরা। স্পিন বিভাগে মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান খুবই কার্যকর। মিরাজ, তাইজুলের অর্ধশত টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ঢাকা টেস্টে দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে স্বাগতিক বোলিং ইউনিট।
টেস্টে নিজেদের সক্ষমতার কথা মাথায় রেখে স্পোর্টিং উইকেট চেয়েছেন সিমন্স। তাঁর বিশ্বাস ভালো উইকেটে শক্তিশালী বোলিং লাইনআপকে মোকাবিলা করে বড় ইনিংস খেলতে সক্ষম বাংলাদেশ, ‘উইকেট বেশ ভালো হবে। আমরা কীভাবে ব্যাট করব তা গুছিয়ে নিতে হবে। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ওপরের দিকে থাকতে হলে সেরা বোলারদের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। বড় স্কোর গড়তে তাদের বিরুদ্ধে লম্বা সময় ব্যাট করতে হবে। এই দলের সবাই এখন বড় স্কোর করার মানসিকতায় আছে, যা ভালো দিক।’
বোলিং বিভাগ অভিজ্ঞতায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলে ব্যাটাররা অনেক বছর ধরে খেলছেন। মুশফিকুর রহিম ১০০, মুমিনুল হক ৭৫টি টেস্ট খেলেছেন। লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দলের সেরা ব্যাটার। এই ব্যাটারদের নিয়ে আশাবাদী কোচ, ‘তাদের অভিজ্ঞতা আছে। আশা করি তারা সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে। তারা কঠোর পরিশ্রম করছে; যাতে সুফল পাওয়া যায়। আশা করি, সবকিছু ভালো হবে।’
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগের সাইকেলে রাওয়ালপিন্ডিতে ইতিহাস গড়েছিল টাইগার বাহিনী। দেশের মাটিতে সেই স্বাদ নেওয়া সম্ভব কিনা জানতে চাওয়া হলে সিমন্স বলেন, ওটা এখন ইতিহাস। আমরা নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। তখন কী হয়েছিল তা কোনো ব্যাপার না। হ্যাঁ, আপনি তা মনে রাখেন উৎসাহ পাওয়ার জন্য। তবে এটি আরেকটি সিরিজ এবং ভিন্ন কন্ডিশনে খেলা হবে। আমাদের ওইসব বিষয় ভুলে গিয়ে শুক্রবারের ম্যাচ শুরুর ওপর মনোযোগ দিতে হবে।’
কোচ যেন নাজমুল হোসেন শান্তদের মনের কথাই বলেছেন। কারণ, তারা স্বপ্ন দেখছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতেও ইতিহাস গড়ার। আজ ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক শান্তও হয়তো কোচের কথায় সুর মেলাবেন।
- বিষয় :
- ফিল সিমন্স
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান
- টেস্ট সিরিজ
